Featured Posts

[Travel][feat1]

মায়াবতী পর্ব :২

11:46 PM

মায়াবতী
পর্ব :২
লেখা:Khayrun Nesa Ripa


ঈশান ড্রয়িংরুমে সবার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললো তারপর বাসা,থেকে বেড়িয়ে গেলো।
ঈশানের বায়োডাটা
ঈশানের বাবা চৌধুরি পরিবারের বড় ছেলে।ঈশানের এক চাচা আর কোনো চাচা বা ফুপি নেই।ঈশানের দাদু এখনো বেচে আছে কিন্তু দাদা অনেক বছর আগেই পৃথিবীরর মায়া ত্যাগ করেছে।ঈশানদের জয়েন ফ্যামিলি। ওর চাচা আর বাবা একই বাড়িতে থাকে।বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ওর বাবা চাচা দুজনেই।ঈশানেরা দুই ভাই।রিসান আর ঈশান। ঈশান এই পরিবারের ছোট ছেলে।রিসান পি.এইচ.ডি করার জন্য সিঙ্গাপুর চলে গেছে।আর সেখানেই বিয়ে করে সেটেল হওয়ার ইচ্ছা আছে। আর ঈশান ফিজিক্স নিয়ে অনার্স করছে।এইবার থার্ড ইয়ারে।ঈশানেরা দুই ভাই ওর চাচিকে ছোট মা আর চাচাকে ছোট বাবা ডাকে।আর ঈশানের চাচার একটা মাত্র মেয়ে মিলি।সবে মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে।ঈশানের চাচা চাচি আরও বেবি নিতে চেয়েছিলো কিন্তু হয়নি।তাই শুধু একাই একটা মেয়ে ওনাদের।সবার চোখের মনি হলো মিলি।মিলি ঈশানের বাবা মাকে বড় বাবা আর বড় মা ডাকে।ঈশানেরা যেখানে বসবাস করে সেখানকার সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিষ্ট হলো এই চৌধুরি পরিবার।সবাই এক নামে চেনে এই পরিবারকে।খুব নাম ডাক এই পরিবারের।
দুপুরবেলা অনেকগুলি শপিং নিয়ে বাড়ি ফিরলো ঈশান।এসেই ঈশাকে ওর ঘরে ডাকলো
ঈশা: স্যার আমায় ডেকেছেন??
ঈশান:হুম।এই ড্রেসগুলি পরে দেখ হয়েছে কিনা( শপিং ব্যাগগুলি ঈশার হাতে দিয়ে)
ঈশা: এক্ষুনি পরতে হবে??
ঈশান: হুম
ঈশা: আপনার সামনে কি করে পরবো??(ভয়ে ভয়ে বললো)
ঈশান এবার রেগে গেলো
ঈশান: আমি তোকে বলেছি আমার সামনে পরতে?? হুম?তোর মাথায় কি কোনো বুদ্ধি নেই??
ঈশা চলে যাচ্ছিলো।তখন ঈশান বলে উঠলো
ঈশান: একটা করে ড্রেস পরে এসে আমাকে দেখাবি।ঈশা শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।এরপর একটা করে ড্রেস পরলো আর ঈশানের সামনে এসে ঈশানকে দেখালো।সবগুলি ড্রেসেই ঈশাকে খুব সুন্দর লাগছে।হা করে বারবারই ঈশার দিকে তাকিয়ে থাকছে।সব শেষে একটা ড্রেস ঈশান চুজ করলো
ঈশান: এই ড্রেসটা বিকেলে পরবি
ঈশা: কেনো??
ঈশান: নাচতে।সবসময় খালি কেনো কেনো কেনো।।কতবার বলেছি আমাকে এমন প্রশ্ন করবি না তাও আমাকে প্রশ্ন করার সাহস হয় কি করে??
ঈশা: সরি।কিন্তু অন্য ড্রেস গুলি কি করবো??
ঈশান: ওগুলি আমার জন্য এনেছি। আমি পরবো বলে।এবার আমাকে আমার ড্রেসগুলি দিয়ে ধন্য করুন( রাগে কটমট করতে করতে বললো)
ঈশা আর কোনো কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি ড্রেসগুলি এসে ঈশানের রুমে রেখে চলে যাচ্ছিলো তখনি ঈশান ওর বা হাতটা দিয়ে ঈশার হাতটা টেনে পিছনে নিয়ে ঈশাকে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসলো।ঈশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।হাতেও খুব ব্যথা পাচ্ছে তাও ছাড়ছে না
ঈশান: এই আমি কি মেয়ে?? যে এই মেয়েলি ড্রেস পরবো??বলেই ডান হাত দিয়ে ঈশার মাথায় একটা গুতো দিয়ে বললো
ঈশান: এই মাথাটায় এই সহজ ব্যাপার টা ঢুকে না??(তখনি দেখলে ঈশার চোখ দিয়ে পানি পরছে তাই ঈশান তাড়াতাড়ি ঈশার হাতটা ছেড়ে দিলো)
ঈশান: সরি।আসলে বুঝতে পারিনি
ঈশা কোনো কথা না বলে সবগুলি ড্রেস নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে চলে গেলো
ঈশার রুমে
ঈশা মুখ বুজে কাঁদছে আর বলছে
ঈশা: আজ আমার জন্মদিন স্যার তাও আপনি আমায় ব্যাথা দিলেন।আর কোনো কথা বলবো না আপনার সাথে।আপনি খুব পঁচা।সারাদিন শুধু শুধু আমায় বকেন। আমি যে আপনাকে ভয় পাই সেটা বুঝেন না কেন??(একা কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বললো ঈশা।ঈশান দরজায় আড়াল থেকে সব শুনলো।খুব খারাপ লাগছে ঈশানের)
এরপর কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পরলো ঈশা।ঈশান ঈশার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঈশার রুমে উকি দিতেই দেখলো ঈশা উপর হয়ে শুয়ে আছে।ঈশান ধীরে ধীরে এসে ঈশার পাশে বসলো।তারপর ঈশাকে সোজা করে শুইয়ে দিলো।ঘেমে পুরো ভিজে গেছে ফ্যানটাও ছাড়েনি।ঈশান ফ্যানটাওছেড়ে দিলো।নিজের আজান্তেই ঈশার কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলো এরপর আলতো করে হাতটা ছুইয়ে দিলো ঈশার গালে।ঈশার মায়াময় বদনখানির দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে এক সময় নিজের ঘরে চলে গেলো ঈশান।
সন্ধ্যায় সবাই খুব সুন্দর করে বাড়িটা সাজাচ্ছে। ঈশা বারবার সবাইকে হেল্প করতে চাইছে কিন্তু কেউই ওকে কোন কাজ করতে দিচ্ছে না।খুব মন খারাপ হলো ঈশার তাও কিচ্ছু বললো না।নিজের রুমে গিয়ে চুপ করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলো
কিছুক্ষণ পর ঈশান ঈশার ঘরে গেলো
ঈশান: তাড়াতাড়ি ড্রেসটা পরো
ঈশা:......
ঈশান: কি হলো এখনো দাঁড়িয়ে আছ কেনো??
ঈশা: আমার ইচ্ছা তাই।আর আমি আপনার সাথে কোন কথা বলবো না।আপনি খুব খারাপ।খুব পচা( খুব সাহসের সাথে কথাগুলো বললো।কিন্তু ঈশান কোনো রিয়াকশন না দেখে খুব অবাক হলে।অন্য সময় হলে তো এতক্ষণে শাস্তিও দেওয়া হয়ে যেত)
ঈশা: আর কিছু??
ঈশা: মা.....মা....মানে ( ঢোক গিলতে গিলতে)
ঈশান: আমি খুব খারাপ।খুব পচা।এছাড়া যদি আরও কিছু বলার থাকে বলতে পারো
ঈশা: সরি স্যার আর এমন হবে না( ভয়ে ভয়ে)
ঈশান: রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি আয়।বলেই চলে গেল।
ঈশা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হলো।দেখলো পুরো ঘর অন্ধকার। খুব ভয় লাগলো ঈশার এরপর আস্তে আস্তে সবাইকে ডাকতে লাগলো
ঈশা: বড় মা,ছোট মা,মিলি তোমরা কোথায়??
কোনো সারাশব্দ না পেয়ে আবারও ডাকতে লাগলো তখনি একটা বিকট শব্দ হতেই চিৎকার করে পরে যেতে লাগলো ঈশা।তখনি কেউ একজন ওকে ধরে ফেললো।সাথে সাথে সব আলো একত্রে জ্বলে উঠলো।আর উপর থেকে অনেকগুলি ফুলের পাপড়ী ওদের উপর পরতে লাগলো।(ভাবছেন তো কে ঈশাকে জড়িয়ে ধরেছে,সে হলো ঈশান)।ঈশান অপলক তাকিয়ে আছে ঈশাও ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।চারপাশ থেকে হ্যাপী বার্থডে ঈশা শুনতেই। তাড়াতাড়ি ঈশান ঈশাকে ছেড়ে দিলো।ঈশা খুব অবাক হলো।ঈশা ভাবতেই পারে নি ওর জন্য এমন একটা সারপ্রাইজ ওয়েট করছে।খুশিতে প্রায় কেঁদেই ফেললো ঈশা।তখনি বড় মা এসে ঈশার চোখের পানি মুছে দিলো
বড় মা: এই পাগলী কাঁদছিস কেনো?? এমন দিনে কেউ কাদে??আর তুই কেমন মেয়ে রে আজ তোর জন্মদিন অথচ তুই আমাদের একবারও জানালি না।ঈশান না বললে তো আমরা জানতোও পারতাম না।অবশ্য আমাদেরও ভুল আছে আমরা কখনো তোর জন্মদিন কবে জানতে চাই নি।পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিস।
ঈশা: আরে বড় মা কি বলছো তুমি এসব??
বড় মা: সত্যি রে আমাদের এই ব্যাপারটা খেয়াল করা উচিত ছিলো
যাই হোক সারপ্রাইজ কেমন লাগলো আগে সেটা বল
ঈশা : খুব খুব খুব ভালো লেগেছে।( বড় মাকে জড়িয়ে ধরলো)
এরপর ঈশা কেক কেটে সবাইকে নিজের হাতে খাইয়ে দিলো শুধুমাত্র ঈশানকে ছাড়া তখনি মিলি বলে উঠলো....
মিলি : কি ঈশা আপু যে এত কিছু করলো তাকে খাইয়ে দিচ্ছ না কেন??
ঈশা এক টুকরো কেক নিয়ে ঈশানের দিকে এগুলো পা যেন চলছেই না।ঈশানের সামনে এসে কেকেটা ঈশানের মুখের সামনে ধরলো। হাতটা খুব কাঁপছে। (ঈশান কাছে থাকলেই ঈশার এই অবস্থা শুরু হয়ে যায়।কেনো যে ঈশা এত ভয় পায় ঈশানকে ঈশা নিজেও জানে না)
ঈশান ঈশার হাতটা ধরে একটুখানি কেক খেলো তারপর ঈশাকেও খাইয়ে দিলো।সবাই ঈশাকে কিছু না কিছু গিফট দিলো শুধু ঈশান বাদে।তখন রেহানা চৌধুরী(ঈশানের দাদু) বলে উঠলো
দাদু: কি দাদাভাই সবাই তো ঈশাকে গিফট দিলো তুমি তো কিছুই দিলে না
মিলি: আরে দাদু দিবে দিবে। ভাইয়া মনে হয় ঈশা আপুকে স্পেশাল কিছু গিফট করবে তাই হয়তো.......এত লেট করছে
কিছুক্ষণ পর ঈশান একটা ভর্তির ফরম ঈশার দিকে এগিয়ে দিলো। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।একটা কাগজ আবার কি রকম গিফট।ঈশা কাগজটা হাতে নিয়ে ছলছল চোখে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।তখনি মিলি ফরমটা নিয়ে নিলো তারপর উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল...
মিলি: ওয়াও গ্রেট কি মজা!!!ঈশা আপু আমার সাথে আমার স্কুলে একই ক্লাসে পড়বে।বলেই নাচতে শুরু করে দিলো( সবাই হা করে রইলো।কেউই কিছু বুঝতে পারছে না)
এরপর ঈশান সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো
ঈশান: মা - দাদু আমি তোমাদের না জানিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।আর সেটা হলো আমি চাই ঈশাও এখন থেকে পড়াশুনা করবে।আমাদের বাসায় আমারা সবাই তো শিক্ষিত তাহলে ঈশা কেন অশিক্ষিত থাকবে।আর তাছাড়া তোমরা তো ঈশাকে এ বাড়ীর একজন সদস্য ভাবো।তাই আমি ভাবলাম ঈশাও পড়াশুনাটা চালিয়ে যাক। এবার তোমাদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারো
বড় মা: তুই খুব ভালো কাজ করেছিস। এটা আমাদের বড়দের ভাবা উচিত ছিলো।সত্যি আমি খুব খুশি হয়েছি।
ঈশান: তবে ঈশার তো এতদিনে এস.এস.সি ও শেষ হয়ে যেত।কিন্তু এখন তো ওকে ক্লাস নাইনেও ভর্তি করা যাবে না।তাই ঈশাকে আমি মিলির স্কুলে এইটে ভর্তি করতে চাই।ওরা একসাথে যাবে আবার একসাথে আসবে।আর আমি তো মিলিকে সবসময় স্কুলে দিয়ে আসি এবার থেকে ওরা দুজন আমার সাথে একসাথে যাবে আসবে।আমি কলেজ থেকে যাওয়ার সময় দিয়ে আসবো আবার আসার সময় নিয়ে আসবো
বড় মা: সবটাই যেহেতু তুই করেছিস এক্ষেত্রে আমাদের আর কিছু বলার নাই।কারন আমি জানি ঈশার যেটা ভালো হবে সেটাই করবি
ঈশান :আচ্ছা। ঈশা তুই ফরমটা পুরন করে আমার কাছে নিয়ে আসিস
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
ঈশানের রুমে
ঈশা: স্যার আসবো
ঈশান: হুম আয়
এরপর ঈশা ফরমটা ঈশানের হাতে দিলো।ঈশান ভালো করে পুরো ফরমটাতে চোখ ভুলালো
ঈশান: ঈশা আজ থেকে তুই আমাকে আর স্যার ডাকবি না
ঈশা: তাহলে কি ডাকবো??
ঈশান: ভাইয়া ডাকবি
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
ঈশান: কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?কিছু বলবি??
ঈশা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া
ঈশান : এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার মতো কিচ্ছু হয় নাই।
এরপর ঈশা চলে যাচ্ছিলো তখনি ঈশান ঈশার হাতটা ধরে ফেললো।ঈশার বা হাতটার দিকে তাকিয়ে দেখলো রক্ত জমাট বেধে গেছে।ঈশান ঈশার বা হাতে খুব গাঢ় করে একটা চুমু দিলো।সঙ্গে সঙ্গে ঈশা চোখ বন্ধ করে ফললো।ঈশার কাঁপুনি শুরু হয়ে গেলো।ঠোট জোড়া প্রচন্ড কাঁপছে। ঈশানের কেনো যেন ঈশার এই কাপুনিটা খুব ভালো লাগছে। নিজের অজান্তেই ঈশার ঠোঁটে নিজের ঠোট ছুঁইয়ে দিলো।এবার ঈশার হার্টবিট দ্রুত বেড়ে গেলো।এক দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস ফেলতে লাগলো।আর ঈশান ঈশার এমন ভয় পাওয়া দেখে হাসতে লাগলো 
নিজের রুমে এসে চোখ বন্ধ করে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো ঈশা।ঈশানের এরকম কাজে ঈশা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। একে তো ঈশানকে খুব ভয় পায় তার উপর ঈশান এই কান্ডটা করে বসলো কি করে এরপর ঈশানের সামনে যাবে ভেবেই হার্টবিট আরও বেড়ে যাচ্ছে ঈশার। আস্তে আস্তে চোখ খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ালো ঈশা।আয়নাতে নিজেই যেনো চোখে চোখ রাখতে পারছে না ঈশা।তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে থেকে সরে আসলো ঈশা।তখনি রুমে প্রবেশ করলো মিলি
মিলি:উফ আপু আই এম সো হ্যাপী।এখন থেকে আমরা দুই জন একসাথে স্কুলে যাব(ঈশাকে জড়িয়ে ধরে বললো)
ঈশা:আমিও খুব খুশি হয়েছি।জানো মিলি আমার না ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো
মিলি:যাক ভালই হল ভাইয়া তোমার স্বপ্ন পূরন করার দায়িত্ব নিয়েছে।এখন চলো ভাইয়া তেমাকে ডাকছে
ঈশা:আমি এখন যেতে পারব না।আমার একটু কাজ আছে। তুমি বলে দিও ভাইয়াকে
মিলি:হুম।মাথা,খারাপ হইছে তো আমার।তুমি না যাও আর ভাইয়া চিৎকার করে পুরো বাড়ি মাথায় করুক।এক্ষুনি চল আমার সাথে।বলেই ঈশাকে টেনে নিয়ে গেলো ঈশানের রুমে।
ঈশা ভয়ে মিলির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে
ঈশান:মিলি তুই গিয়ে পড়তে বোস
মিলি:আচ্ছা ভাইয়া
মিলি চলে গেছে ঈশা সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
ঈশা:ভেতরে আয়
ঈশা আস্তে আস্তে পা ফেলে রুমের ভেতরে ঢুকলো
ঈশান:এই নে(একটা ফোন এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:আমি ফোন দিয়ে কি করবো??(নিচের দিকে তাকিয়ে)
ঈশান:প্রেম করবি
ঈশা:কার সাথে??(কথাটা বলেই দুহাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরে ভয়ে ভয়ে ঈশানের দিকে তাকালো)
দেখলো ঈশা রাগী চোখে ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে
ঈশা:সরি। আমি না এটা বলতে চাইনি ভুল করে মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে(নিচের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললো)
ঈশা:ভুলেও যেন কখনো আমি তোকে কারো সাথে প্রেম করতে না শুনি।কি মনে থাকবে তো??
ঈশা:হ্যা
ঈশান:এই ফোনে শুধু আমার নাম্বারটা সেভ করে দিয়েছি।আমি শুধু এই ফোনে ফোনকল করবো।আর কেউ জেন এই নাম্বার না জানে।আর কাউকে ফোন নাম্বার দেওয়ার ও চেষ্টা করবে না।আর হ্যা আমি যখনই কল করব তখনই কিন্তু ফোন রিসিভ করতে হবে।যদি লেট হয়....তা আর বললাম না কাজে করে দেখাবো।কি মনে থাকবে তো??(ঈশার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:হুম(ফোন হাতে নিয়ে).
ঈশান:এখন যেতে পারিস
ঈশা চলে যাচ্ছিলো তখনি...
ঈশান:ঈশা
ঈশা:হুম
ঈশান:সরি।তখনকার ব্যাপারটার জন্য
ঈশা কিচ্ছু বললো না চুপচাপ ঈশানের রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।
ঈশার রুমে
ঈশা:উফ উনি কি পাইছেন আমাকে??যখন যা ইচ্ছা তাই করবেন।আমার যেন কোন কথা থাকতে পারে না।এমন রাগী মানুষ আমি জীবনেও দেখি নাই।সারাক্ষণ শুধু রাগ আর রাগ।উফ অসহ্য লাগে।ইচ্ছা করে ভুত হয়ে ওনার ঘাড় মটকাইতে(একা একা কথাগুলো বললো)
মিলি:কার ঘার মটকাইতে মনে চায় তোমার??
ঈশা:কার আবার তোমার ওই আদরের ছোট ভাইর😒😒
মিলি: আপু যা বলছো আর বইলো না।ভাইয়ার আর তোমার রুম তো সামনাসামনি যদি শুনে ফেলে তাহলে আর রক্ষে থাকবে না
ঈশা:হুম।এইটাই তো আরও ভয়ের।দেখো আমি একেই তো ওনাকে এত ভয় পাই তাও সারাক্ষণ শুধু আমার সাথে হৈ চৈ করতেই থাকে।ঈশা এটা কেনো এমন হইছে??,ওটা কেনো এমন হইছে।সারাক্ষণ মাথা খারাপ করে আমার।তুমিই বল আমাকে কি ওনার মানুষ মনে হয় না??আমি কালই বড় মা কে বলব আমি আর এই রুমে থাকবো না।😒😒
ঈশান:কোন লাভ হবে না
ঈশা আর মিলি ঈশানের গলার আওয়াজ শুনেই ভয়ে অবস্থা জড়সড়। মিলি আস্তে পাশ কাটিয়ে চলে যায়
ঈশা:তা আমার নামে কি কি নালিশ করছিলে মিলির কাছে?? আমাকে একটু বল আমিও শুনি
ঈশা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওড়না দিয়ে আঙ্গুল পেচাচ্ছে
ঈশান:কি হল কথা বল
ঈশা:সরি ভাইয়া আমার না ভুল হয়ে গেছে।(ঢোক গিলতে গিলতে নিচের দিকে তাকিয়ে বললেো)
ঈশান:খুব পুরান ডায়লগ।এসব শুনতে শুনতে এখন বোরিং লাগে। নতুন কিছু থাকলে বলো
ঈশা:আর এমন ভুল হবে না ভাইয়া😞
ঈশান:এগুলিও পুরান
ঈশা:....
ঈশান :নতুন যেহেতু বলতে পারলে না।তাহলে শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে।কি করে এত সাহস হয় তোর??আমার নামে এসব কথা বলার??কথাটা বলেই ঈশার হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।তারপর নিজের রুমে নিয়ে ঈশার সামনে আলমারি থেকে সব শার্ট -প্যান্ট এছাড়া আরও যাবতীয় যা কিছু আছে সব ফ্লোরে ছুরে মারলো
ঈশান:এবার এই সব একটা একটা করে সুন্দর করে গুছিয়ে আলমারিতে রাখবি
ঈশা কিছু বললো না শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।ঈশান বসে বসে লেপটপে গেম খেলছে আর ঈশা ওর শার্ট - প্যান্ট গুছিয়ে আলমারিতে রাখছে।ঈশান একটু পরপরই আড় চোখে ঈশার দিকে তাকাচ্ছে। কাজ করতে করতে বেচারি একবারে অবস্থা খারাপ।প্রায় অনেকক্ষণ পর কাজ শেষে
ঈশা:ভাইয়া কাজ তো শেষ। আমি এখন যাই??(কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললো)
ঈশান:হুম।যা(একবার ঈশার মুখের দিকে তাকালো।পুরো মুখটা লাল টকটকে হয়ে গেছে)
ঈশা চলে যেতেই
ঈশান:ধূর। এত কষ্ট না দিলেও পারতাম।আচ্ছা আমি ঈশাকে নিয়ে সবসময় এত ভাবি কেনো?ওর মায়াময় মুখটা দেখলে আমার এত খারাপ লাগে কেনো??তবে আমি কি ঈশাকে ভালবাসি?না না একি সব ভাবছি??।আমি ওকে ভালবাসতে যাব কেনো??(নিজে নিজেকে প্রশ্নগুলো করলো)
ঈশা কাজ করতে করতে খুব ক্লান্ত হয়ে পরে রুমে এসেই ঘুমিয়ে পরে।ঈশান খাওয়ার জন্য নিচে যাচ্ছিলো তখনি নজর পরলো ঈশার রুমের দিকে।দেখলো ঈশা শুয়ে আছে।ঈশান আর খেতে গেলো না।নিজের রুমে গিয়ে একগ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পরলো
নক নক
ঈশান:কে??
মিলি:ভাইয়া আমি
ঈশান:ভেতরে আয়
মিলি:বড় মা খেতে ডাকছে
ঈশান:মা কে বল।খাব না।খিদে নেই
মিলি:ভাইয়া তোদের হয়েছে কি বল তো??তুই ও খাবি না।ঈশা আপুও খাবে না কখন থেকে ডাকছি শুধু ঘুমিয়েই যাচ্ছে এত ডাকলাম কিচ্ছু বললো না শুধু বললো খাব না
ঈশান:ও খাবে না কেনো আমি কি করে জানবো??যা তো পেনপেন করিস না কানের কাছে
মিলি:ঢং😒😒
সকালবেলা
সবার নাস্তা শেষে
ঈশান:এই মিলি ঈশুকে বল তাড়াতাড়ি রেডি হতে
মিলি:ঈশু?এই ঈশুটা আবার কে??😜😜
ঈশান:কেনো তুই জানস না মনে হয়??
মিলি:সত্যিই তো জানি না।কে এই ঈশু??
ঈশান:বেশি পাকনামো করবি কানের নিচে দেব একটা।যা ভাগ।আর যা বলছি তা কর
মিলি:ভাইয়া সামথিং সামথিং 😜😜(ঈশানের কানের কাছে মুখ নিয়ে)
ঈশান:মাইর খাইচোস
মিলি হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো
মিলি:ঈশা আপু তোমার হয়েছে?(ঈশার রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো)
ঈশা:হুম আমি রেডি
মিলি:এই আপু এটাকে রেডি হওয়া বলে??
ঈশা:কেনো ঠিকই তো আছে??
মিলি:একটুও ঠিক নেই। আমার কাছে আসো।(বলেই ঈশাকে সাজাতে লাগলো।মিলি সাজুগুজু করতে খুব পছন্দ করে কিন্তু ঈশা তার পুরো উল্টোটা একটুও সাজতে চায় না।অবশ্য এমন সুন্দরিরর না সাজলেও চলে।)
মিলি:ওয়াও আপু তোমাকে না যা লাগছে।অবশ্য এমনিই তো তুমি খুব সুন্দরী।ইশ আমি ছেলে হলে নির্ঘাত তোমার প্রেমে পরতাম।বাট বেড লাক আমার।
ঈশা:মিলি তুমি এমন করে কেনো সাজালে আমার একটুও ভাল লাগছে না।
মিলি:উফ চুপ থাক তো চলো
ঈশানের রুমে
মিলি:ভাইয়া আমরা রেডি
ঈশান ঘুরে ওদের দিকে তাকাতেই ঈশানের ভির্মি খাওয়ার মত অবস্থা। অসম্ভব সুন্দর লাগছে ঈশাকে।কতক্ষণ যে ঈশান ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে সেদিকে তার একটুও খেয়াল নাই।বেচারি ঈশা ঈশানের এমন করে তাকানো দেখে লজ্জায় মরে যাচ্ছে। মিলির ডাকে ঘোর কাটলো ঈশানের
মিলি:কি রে এভাবে কি দেখছিস
ঈশান:কি পরিমাণ আটা ময়দা মেখেছিস তাই দেখছি😜😜(শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো)
মিলি:মোটেও আমরা আটা ময়দা মাখি নি।বলেই ঈশার হাত ধরে নিচে চলে যাচ্ছিলো।তখনি....
ঈশান:ঈশা একটু কথা ছিলো।মিলি তুই গাড়ীতে ওয়েট কর
মিলি:আচ্ছা। বলে চলে গেলো
ঈশা সেই ঠায় দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে
ঈশা:কি হলো ভেতরে আয়
ঈশা:আমি এখানেই আছি। যা বলার বলুন।(নিচের দিকে তাকিয়ে)
তখনি ঈশান ঈশার হাত ধরে রুমের মধ্যে নিয়ে আসলো
ঈশান:এত সেজেছিস কেনো??
ঈশা:আমি সাজি নি
ঈশান:তো ভুত এসে সাজিয়ে দিয়ে গেছে মনে হয়😡😡
ঈশা:মিলি সাজিয়ে দিয়েছে😖😖
ঈশান:তুই না বলতে পারিস নি
ঈশা:মিলিই জোড় করলো।তাই....
ঈশা:আজ স্কুলের প্রথম দিন তাই কিছু বললাম না।নেক্সট টাইম যেনো কখনো সাজতে না দেখি।মনে থাকবে তো??
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
চলবে,,,,,,,,
মায়াবতী পর্ব :২ মায়াবতী পর্ব :২ Reviewed by EasyTalk on 11:46 PM Rating: 5

মায়াবতী, পর্ব:১

11:44 PM

মায়াবতী, পর্ব:১

লেখা:Khayrun Nesa Ripa


বিছানায় শুয়ে অতিতের স্মৃতিগুলি আওরাচ্ছে ঈশা।ভাবতে ভাবতে ঘুম হাওয়া হয়ে গেছে চোখ থেকে।তাই বিছানা ছেড়ে এগুলো ছাদের দিকে
ততক্ষণে ঈশার পরিচয় দিয়ে দেই
বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ঈশা।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বাবা মাকে একটা এক্সিডেন্টে হারিয়ে ফেলেছে।তখন ঈশা মাত্র ক্লাস টু তে পড়তো।খুব সাধাসিধে ফ্যামিলিরর মেয়ে ছিলো ঈশা।বাবা সল্প বেতনের একটা জব করতো।তাতেও ওদের পরিবারটা খুব হ্যাপীই ছিলো।কোনো অভাবই যেন ছিলো না।এত স্বল্প বেতনেও ওদের পরিবারটা খুব সুন্দর ভাবে চলে যেতো।হয়তো ঈশার বাবা মা বেচে থাকলো ওর আরও ভাই বোন থাকতো।হয়তো আজকের মত এমন নিঃস্বঙ্গ জীবন কাটাতে হত না।বাবা মা মারা যাওয়ার পর ওর চাচার কাছে ছিল ঈশা কিন্তু চাচাও আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল নয়।অন্যদিকে চাচির অশান্তি। ঈশা যখন ক্লাস ফাইভে পড়তো তখন একদিন ঈশার চাচি ওর চাচাকে কসম দেয় যাতে ঈশাকে ঘর থেকে বের করে দেয় না হলে ওর চাচি আর ওর চাচার সংসার করবে না।ওর দুইটা চাচাতো বোন আর একটা চাচাতো ভাই তারউপর জুটেছে ঈশা।তাই ঈশাই সব শুনে ওর চাচাকে বললো ওকে যেন কোনো একটা কাজে দিয়ে দেয়।তারপরই ওর চাচা ঈশাকে একটা বড় বাড়িতে ওকে কাজ করতে দিয়ে দেয়।সেদিন একমাত্র ভাতিজিকে বুকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলো ওর চাচা সাথে পাল্লা দিয়ে ঈশাও খুব কেঁদেছে।প্রথম প্রথম ওর চাচা ওকে এসে দেখে যেত। কিন্তু এখন আর আসে না।ঈশার চাচি আসতে দেয় না।সংসারে অসান্তি হবে ভেবেই,সব যেনে ঈশাই ওর চাচাকে আসতে না বলে দিয়েছে।কি দরকার শুধু শুধু অসান্তি বাড়ানোর।সেদিনের পর আর আসেনি ঈশার চাচা ওকে দেখতে।পৃথিবীতে শুধু আপন বলতে একমাত্র চাচাই ছিলো।এভাবেই কেটে গেলো ছয়টা বছর।যখন চাচার কথা খুব মনে পরতো বালিসে মুখ গুজে কাদতো ঈশা।ঈশা যেই বাড়িতে কাজ করছে সবাই খুব ভালো পায় ঈশাকে।আর বড় মা তো ঈশাকে চোখেই হারায়( চৌধূরী পরিবারের বড় বউ।খুব ভালো মনের মানুষ বড় মা।সবার চোখের মনি।)সব হারিয়েও যেন সব ফিরে পেয়েছে ঈশা।কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে মা বাবাকে খুব মিস করে তার সাথে চাচাকেও।কিন্তু ঈশার আর একটা স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেলো।খুব ইচ্ছা ছিলো পড়াশুনো করে বড় ডাক্তার হবে।কারন ঈশার বাবা মা চিকিৎসারর অভাবেই মারা গেছে।সেই থেকেই খুব ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাড়াবে প্রয়োজনে বিনা পয়সায় মানুষের সেবা করবে।আজ সবই স্বপ্ন।চৌধুরী পরিবারের সবাই ঈশাকে খুব ভালোবাসলেও কেউ ওর পড়াশুনার ব্যপারে কখনো খেয়াল করেনি।ক্লাস ফাইভ পর্যন্তই পড়ালেখা সিমাবদ্ধ।প্রাইমারির গন্ডি পেরিয়ে আর মাধ্যমিকে পা রাখা হলোনা ঈশার।পড়ালেখাতে খুবই ভালো ছিলো ঈশা। সেই হিসেবে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়লেও ইংরেজি, বাংলা খুব ভালই বোঝে।কিন্তু ম্যাথটা ওই ভাবে বুঝতে পারে না।অবশ্য না পাড়ারই কথা।ফাইভ পর্যন্ত পড়ে তো আর ক্লাস টেন এর অংক পাড়া সম্ভব নয়। আজ ষোলতে পা রাখলো ঈশা।আজ যে ওর জন্মদিন কেউই জানে না।এমনকি এত বছরেও কেউ জানতে চায় নি।আর সবসময়ই এই দিনটাতে কাছের মানুষগুলোকে খুব মিস করে ঈশা।আর মনের কোনে সাজানো কথা গুলোকে সবসময় ডায়রিতে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে লিখে রাখে মনটা হালকা করার জন্য। আর এই কথাগুলিই এতক্ষণ ভেবে ঘুম হারিয়ে গেছে ঈশার।বুকটা হাজারো কষ্টে ভরে উঠেছে।কষ্টটাকে দমিয়ে রাখার জন্যই ছাদে চলে গেছে যাতে কষ্টটা একটু হলেও কমে......
ছাদে
একা একা দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।আর চোখগুলো থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে.....
তখনি ঈশানেরর আগমন ঘটলো।যে ঈশার একমাত্র ভয়ের কারন।খুব বেশিই ভয় পায় ঈশা ঈশানকে।এত বছরেও এক বাড়িতে থেকে ভয়টা কাটিয়ে উঠতে পারে নি ইশা ( বড় মা র আদরের একমাত্র ছোট ছেলে।খুব বেশিই স্মার্ট। আর যেকোনো মেয়ের ক্রাশ খাওয়ার মত লুক।সারাদিন মেয়েদের সাথে ডেটিং, লং ড্রাইভিং, মজা,মাস্তি করেই দিন কাটে তার। আর নামটা কাকতালীয় ভাবেই ঈশার নামের সাথে মিলে গেছে)
ঈশান: কি করছিস এত রাতে এখানে???( রাগী গলায়)
ঈশানের গলার আওয়াজ পেয়েই ভয়ে গলাটা শুকিয়ে আসলো ঈশার।কেনো যে ঈশা ঈশানকে এত ভয় পায় তার কারন ঈশা নিজেও জানে না।তাই তাড়াতাড়ি ওড়না দিয়ে চোখটা মুছে সামনের দিকে ঘুরে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো...
ঈশা: কিছু না( ভয়ে ভয়ে)
ঈশান: তাহলে ঘুমাতে যা
ঈশা: আচ্ছা। বলে চলে যেতে নিলেই ঈশান বললো...
ঈশান: শোন
থমকে দাঁড়ালো ঈশা ভয়ে পা দুটো কাপছো আবার ঈশান রাগ করবে না তো???
ঈশান: তুই আমাকে এত ভয় পাস কেনো??(ঈশার সামনে দাড়িয়ে)
ঈশা: ক...কই না তো( তোতলাতে তোতলাতে). ঈশান: কি হয়েছে ঈশু তুই কাঁদছিস কেনো??
আচমকা ঈশানের মুখে ঈশু কথাটা শুনে ঈশা ছলছল চোখে ঈশানের দিকে তাকালো।ঈশান কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঈশা ঈশানকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।ঈশান যেন বোকা বনে গেল।ঈশার এই কান্নার কারন কিছুই বুঝতে পারলো না।যে মেয়েটা ঈশানকে এত ভয় পায় সবসময় ঈশানের থেকে পালিয়ে বেড়ায় কি এমন হলো যে সেই মেয়েটাই ঈশানকে জড়িয়ে ধরেছে।ঈশার ঘোর কাটতেই এক ঝটকায় নিজেকে ঈশানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।হাত দুটো জোড় করে ঈশানের সামনে হাটুগেরে বসে পরলো......
ঈশা: সরি ছোট সাহেব।আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে।আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।এমন ভুল আর কখনো হবে না।দয়া করে এইকথা বাড়ির কাউকে জানাবেন না।তাহলে আমাকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিবে।আমি আর কক্ষনো এমনটা করবো না।আসলে কেউ আমাকে ঈশু বলে ডাকলে আমি সব ভুলে যাই।এই নামেই বাবা সবসময় আমাকে ডাকতো।হঠাৎ আপনি এই নামে ডাকায়,কেনো যেন মনে হলো বাবা ডাকছে তাই এই ভুলটা হয়ে গেছে।একদমে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল ঈশা।ঈশানকেও কিছু বলার সুযোগ দিলনা।
ঈশার শেষের কথাগুলো শুনে খুব খারাপ লাগলো আবার হাসিও পেলো
ঈশান: সত্যিইই মেয়েটা পাগল নাকি??? আমাকে নাকি ওর বাবার মতো মনে হয়েছে।কথাটা বলেই খুব জোড়ে হেসে দিলো ঈশান।
কেনো যেন ঈশানের খুব ইচ্ছে করছে একবার ঈশার রুমে গিয়ে দেখতে কি করছে ঈশা?? কখনো যাওয়া হয়নি ঈশার রুমে।তবে সারাক্ষণি ঈশান ঈশাকে চোখে হারায়।এটা ঈশানের ভালোবাসা নাকি করুনা সেটা আজও ঈশান বুঝতে পারছে না।ঈশানের সব কাজ ঈশাকেই করতে হবে বাসায় এসে ঈশাকে না দেখলে পুরো বাড়ী চিৎকার করে মাথায় তুলে। আর কোনো কাজের ভুলত্রুটি হলে তো আর রক্ষে নেই।সাথে সাথেই শাসন শুরু।আর ঈশা বেচারি ভুলেও ঈশানের ধারে কাছে আসতে চায় না।না এসেও উপায় নেই।না আসলে তো পুরো বাড়ি মাথায় করবে।ঈশা অনেক বারই বড় মাকে বলেছে যে,ও ঈশানের কোনো কাজ করবে না।তখন বড়মা বলে তুই ছাড়া তো আর কাউকেই ওর কাজ করতে দেয়না।তাই তোকেই করতে হবে।
অনেক ভেবে চিন্তে পা বাড়ালো ঈশার রুমের দিকে।ঈশার রুমটা ঈশানের রুমের ঠিক সামনে। দরজাটা খোলাই ছিলো। কয়েকবার দরজায় নক করলো ঈশান। সাড়া না পেয়ে ভেতরে ঢুকলো।দেখলো ঈশা ঘুমিয়ে আছে।
ষোল বছরের একটা রাজকুমারী বিছানায় কি সুন্দরভাবেই না শুয়ে আছে।মুখটা খুব বেশিই মলিন লাগছে আজ।ঈশা একেবারে ফর্সা।ঈশান কখনো এত ফর্সা মেয়ে দেখেনি।ইনফেক্ট ঈশানের বাসার কেউই এমন ফর্সা মেয়ে এর আগে দেখেনি।অনেকটা ইংরেজদের মত ফর্সা।ভাগ্যিস চুল গুলো ইংরেজদের মত হয়নি।তাহলে তো সবাই সত্যি সত্যি ঈশাকে ইংরেজ ভাবতো।ঈশার চুলগুলো কোঁকড়া।কোমড় সমান চুলগুলি। কোঁকড়া না হলে হয়ত আরও বড় দেখাতো চুলগুলোকে। ঈশানের কাছে মনে হয় ঈশা কোনো সাদা পরী।তখনি হারিয়ে যায় কল্পনার রাজ্যে।মনের কোনে বিচরন করে হাজারও জল্পনাকল্পনা। সত্যি কি সাদা পরী এত সুন্দর হয় যেমনটা ঈশা।এমন হাজারো প্রশ্ন মনের কোনে বাসা বাধে ঈশানের।
গাল দুটো আর নাকটা লাল টুকটিকে হয়ে আছে ঈশার।হয়তো খুব বেশি কাদার কারনে।ঈশার মায়াময় মুখটার দিকে তাকিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো ঈশান।খুব ভালোলাগা কাজ করছে ঈশানের পুরো শরীর জুরে।ঈশার একপাশে চুল গুলি এসে এলিয়ে রয়েছে।যা ঈশার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ঠোট জোড়া গোলাপের পাপড়ীর মতো লাল টুকটুকে।মলিন মুখটাতেও যেন হাসি লেগে আছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ঈশান দেখলো ঈশার পাশে একটা ডায়রি।একবার ভাবলো ডায়রি টা দখবে কিনা? পরক্ষনে ভাবলো কি দরকার কারো পারসোনাল জিনিস ধরার।কিন্তু নিজের মনকে বোঝাতে পারলো না ঈশার রুম থেকে ডায়রিটা নিয়ে নিজের রুমে চলে আসলো ঈশান।এরপর ডায়রিটা পড়তে লাগলো।সারারাত ডায়রিটা পড়েই কাটিয়ে দিলো।ডায়রির শেষ পাতায় গতকাল রাতে লিখেছে ঈশার জন্মদিনের কথা।
ডায়রিটা পড়ে খুবই কষ্ট হচ্ছে ঈশানের।কিন্তু কেনো এত কষ্ট হচ্ছে সেটাই বুঝতে পারছে না।পরক্ষনেই ভাবলো একজনের কষ্ট হলে তো অন্য যে কারোরই কষ্ট হবে এটাই তো স্বাভাবিক।এটা ভেবেই নিজের মনকে বোঝালো ঈশান।এরপর একটা ঘুম দিল।দুই ঘন্টা পরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে নিজের রুমে ঈশাকে ডাকলো
ঈশা: ছোট সাহেব কি বলবেন?? তাড়াতাড়ি বলুন( ভয়ে ভয়ে)
ঈশান: তোকে কতবার বলেছি না আমাকে ছোট সাহেব ডাকবি না( রাগী গলায় বললো)
ঈশা: তাহলে কি ডাকবো( ভয়ে ভয়ে)
ঈশান: ছোট স্যার বলে ডাকবি
ঈশা: আচ্ছা
ঈশান: বোস এখানে
ঈশা : কেনো??
ঈশান: চুমো খাব তাই
ঈশান এমন একটা কথা বলেবে বুঝতে পারে নি ঈশা।
ঈশান: এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? বোসতে বললাম না( ধমক দিয়ে) সাথে সাথে বসে পড়লো ঈশা।ঈশান ঈশার সামনেই চেঞ্জ করতে শুরু করে করলো।ঈশার,খুবই অস্বস্তি হচ্ছে কিন্তু কিছুই বলতে পারছে না।যখন ঈশান ঈশার সামনে শার্টটা খুলে ফেললো তখন ঈশা তাড়াতাড়ি চোখটা বন্ধ করে ফেললো
ঈশা: স্যার আমি এখন যাই
ঈশান: আমি কি যেতে বলেছি?? আর এভাবে চোখ বন্ধ করে রাখার কি আছে( ড্রেসিং টেবিলের আয়না ঈশাকে দেখলো চোখ বন্ধ করে আছে)
কথাটা শুনেই তাড়াতাড়ি চোখ মেললো ঈশা।
ঈশা: প্লীজ স্যার আমি এখন যাই।
ঈশান: না।তোমাকে তো এখনো শাস্তিই দেওয়া হলো না।বাব্বাহ কাল যেভাবে জড়িয়ে ধরেছো আর একটু হলে তো তো আমার দমটাই বেড়িয়ে আসতো।
ঈশা: স্যার আপনি আমায় শাস্তি দিবেন??স্যার বললাম তে আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আর এমনটা হবে না( কাদো কাঁদো গলায় বললো)
ড্রেসিং টেবিলের আয়না ঈশার ভয়ে চুপসে যাওয়া মুখটা দেখে খুব হাসি পাচ্ছে ঈশানের। কোনো রকমে হাসিটা কন্ট্রোল করলো)
ঈশান: ভুল তো ভুলই।যেটা করে ফেলেছো তার শাস্তি তো পেতেই হবে
এবার ঈশা সত্যি সত্যি কেঁদে ফেললো
ঈশান : এই এই কাঁদছিস কেনো তুই।এ কথা বলে সামনে ফিরতেই ঈশা দুপা জড়িয়ে ধরলো ঈশানের
ঈশা: স্যার আমার ভুল হয়ে গেছে।আর কখনো করবো না😭😭😭😭
ঈশান: আরে আরে কি করছিস কি? পা ছাড়( ধমক দিয়ে)
ঈশা পা ছেড়ে ঈশানের সামনে উঠে দাঁড়িলো।পুরো মুখ লাল হয়ে গেছে।ভয়ে কাঁপছে। তখনি ঈশান ঈশার দুই বাহুতে হাত রাখলো।এবার ঈশার কাঁপুনি আরও বেড়ে গেলো।গোলাপি ঠোটদুটি খুব বেশিই কাঁপছে। ঈশান বাহু ছেড়ে হাত দুটো দিয়ে ঈশার মুখটা উচু করে ধরলো।সঙ্গে সঙ্গে ঈশা চোখ বন্ধ করে ফেললো।ঈশার চোখগুলো পানিতে ভেজা, কপালে, নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে।কোনো এক অজানা শক্তি ঈশানকে ঈশার ঠোট জোড়ার,দিকে খুব টানছে।আস্তে আস্তে এগিয়ে চললো ঈশানের ঠোট জোড়া ঈশার ঠোটের দিকে।হঠাৎ করেই ঈশান ঈশাকে ছেড় দিলো
ঈশান: উফ এ কি করছি আমি( মনে মনে বললো)
এখনো একই যায়গায় দাঁড়িয়ে আছে ঈশা
ঈশান: তোর একটা কামিজ নিয়ে আয় তো
ঈশা: কেনো?
ঈশান: আমি পরবো তাই।যখনি কিছু বলি তখনি মেডাম প্রশ্ন করবে কেনো?? যেন উনি প্রশ্ন কর্তা।
এরপর ঈশা আর কিছু না বলে নিজের রুমে গিয়ে একটা কামিজ নিয়ে আসলো।কামিজটা ভালোভাবে দেখে ঈশান রুমে থেকে বেড়িয়ে গেলো। ঈশানের পিছু পিছু ঈশাও বেড়িয়ে আসলো রুম থেকে। ............................
মায়াবতী, পর্ব:১ মায়াবতী, পর্ব:১ Reviewed by EasyTalk on 11:44 PM Rating: 5

মায়াবতী পর্ব :৫

10:56 PM

মায়াবতী পর্ব :৫

লেখা :রিপা

ঈশান সেই কখন থেকে বেলকুনি তে দাঁড়িয়ে ভাবছে কি করে ঈশা এই কথাগুলো বলতে পারলো।এতটা হীন মানসিকতা কি করে ঈশা মনের মধ্যে পুষে রাখতে পারলো তাও ঈশানকে নিয়ে।যাকে এতটা ভালবেসে ফেলেছে ঈশান।ভাবতেই এক ঝাক কষ্ট এসে ঈশানের বুকে ভর করলো।খুব কষ্ট হচ্ছে ঈশানের কি করে ঈশা এত দোষ দিতে পারলো। যে ঈশা সবসময় ঈশানকে এত ভয় পেতো সেই ঈশাই আজ কিভাবে এতগুলো অপমানজনক কথা বলতে পারলো। এসব ভাবতে ভাবতে বড় মার ডাকে ভাবনায় ছেদ পরলো ঈশানের.......
বড় মা:কিরে রাত হয়ে গেছে এখনো এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস??।চল সবাই নিচে আছে। নাস্তা করবি নিচে চল(ভাবতে ভাবতে কখন যে সন্ধা পেরিয়ে অনেকটা সময় কেটে গেছে টেরই পেলো না ঈশান)
ঈশান:ভাল লাগছে না।তুমি যাও
বড় মা:বেশি কথা বলবি না।সবসময় এত জেদ ভাল না।জেদ করে কি লাভ হয় শুধু নিজে কষ্ট পাস।আর ঈশা তো ইচ্ছে করে কিচ্ছু করেনি।এত রাগার কি আছে??
ঈশান:মা তুমি নিজেও জানো না ঈশা আজ আমাকে কতটা কষ্ট দিয়েছে(মনে মনে বললো)
বড় মা:কিরে চল
ঈশান:মা আমি যাব না
ঈশানকে আর কোন কথা না বলতে দিয়েই ঈশানের হাতটা টেনে নিয়ে নিচে চলে গলো ওর মা........
নিচে ঈশাও ছিলো। ঈশান একবারও ঈশার দিকে তাকালো না।কথা বলা তো দূরে থাক।ঈশা অনেকবারই করুন দৃষ্টিতে ঈশানের দিকে তাকালো।কিরকম একটা অপরাধবোধ কাজ করছে ঈশার মন জুড়ে।ঈশানের হাতটা এতখানি কেটে গেছে ভাবতেই আরো বেশি খারাপ লাগছে ঈশার।তবে এটা কি শুধুই সিমপ্যাথী না কি অন্য কিছু???কি জানি???
রাতে ঈশানের মা আসলো ঈশানের রুমে খাবার নিয়ে
ঈশান:মা আমি খাব না
বড় মা:কেনো খাবি না??
ঈশান:কিছুক্ষণ আগেই তো নাস্তা করলাম
বড় মা:এটা নতুন কিছু নয়।কথা না বাড়িয়ে খাবারটা খেয়ে নে
ঈশানন আর কোন কথা বললো না মায়ের হাতে চুপচাপ খেতে শুরু করলো
ঈশান:মা সবাই খেয়েছে??
বড় মা:হুম
ইশান:সবাই??
বড় মা:হুম। কেনো??
ঈশান:না এমনি(ঈশান আসলে জানতে চেয়েছিলো ঈশা খেয়েছে কিনা)
খাওয়া শেষে বড় মা চলে গেলো।তখনি ঈশানের রুমে প্রবেশ করলো ঈশা।ঈশাকে দেখেই ঈশানের খুব রাগ হলো পরমূহুর্তে রাগটা কন্ট্রোল করলো
ঈশান:কিছু বলবি??(বেশ শান্ত গলায়)
ঈশা:না মানে হ্যা(নিচের দিকে তাকিয়ে)
ঈশান :বল
ঈশা:আমি সত্যিই দুঃখিত আমার
ব্যবহারের জন্য। আমি না আসলে তখন কি যে হয়ে গেছিলো তাই
ঈশান:না তুই তো ঠিকই বলেছিস।কিচ্ছু ভুল বলিসনি।সব সত্যি বলেছিস।ভুল যা করার সেটা তো আমিই করেছি।আর কিছু বলার না থাকলে যেতে পারিস
ঈশা:আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না??(করুন গলায়)
ঈশান:তুই তো কোন ভুলই করিস নি তাহলে এখানে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে
ঈশা:প্লীজ একটাবার ক্ষমা করুন
ঈশান:নিজের রুমে গিয়ে পড়তে বোস।সামনে পরীক্ষা মাঝামাঝি টাইমে ভর্তি হয়েছিস এখনো ভালকরে না পরলে পরে ফেল করতে হবে
ঈশা:আমি আপনার কাছে পড়বো
ঈশান:না।আমারও সামনে পরীক্ষা তুই এখন থেকে মিলির স্যারের কাছে পড়বি
ঈশা:না আমি মিলির স্যারের কাছে পড়বো না।বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।কিছুক্ষন পর বইখাতা নিয়ে ঈশানের রুমে এসে পড়তে লাগলো
ঈশান:এই তুই এখানে কেনো??
ঈশা:আমি তো সবসময় এখানেই পড়ি
ঈশান:এখন থেকে আর পড়বি না।এখন নিজের রুমে যা কাল থেকে মিলির স্যারের কাছে পড়বি
ঈশা:না আমি এখানেই পড়বো
ঈশান :ঈশা আমর রাগ বাড়াস না।রাগ বাড়লে আমি কি করতে পারি তুই ভাল করেই জানিস
ঈশা:যা ইচ্ছা করুন।এটা বলেই আবারও পড়তে লাগলো
ঈশান আর কোন কথা না বলে হাত ধরে টেনে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।ঈশা অনেকবার ডাকলো ঈশানকে দরজা খুলতে কিন্তু ঈশান খুললো না।
ঈশান:তুই আমায় যা বলেছিস কখনো আমি ভুলতে পারব না।(মনে মনে বললো)
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈশান দরজা খুলতেই ঈশাকে ওর দরজার সামনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে দেখলো
ঈশান:এই মেয়েটার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে।উফ সিট এখন কেউ দেখলে কি ভাববে।
ঈশান :ঈশা,ঈশা,এই ঈশা
ঈশা ঘুমিয়েই যাচ্ছে ওঠার কোন নামই নিচ্ছে না।ঈশান অনেকবার ডাকাডাকি করার পর যখন দেখলো ঈশা উঠছে না অগত্যা কোলে তুলে নিলো ঈশাকে।এরপর ঈশার রুমে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।ঈশান ঈশার মুখের দিকে একবার ভাল করে তাকালো বুঝতে অসুবিধা হলো না যে ঈশা খুব কেঁদেছে।
এরপর ঈশান নিজের রুমে চলে আসলো।
কিছুক্ষণ পরে ঈশার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।ঘুম ভেঙ্গে উঠে নিজেকে বিছানায় পেয়ে বুঝতে অসুবিধা হলো না এটা কার কাজ।
সবাই একসাথে বসে নাস্তা করছে
বড় মা:কি রে ঈশা তোর চোখ মুখ এমন ফোলা লাগছে কেনো??
ঈশা:জানিনা
বড় মা:তুই কি কেঁদেছিলি?
ঈশা:না(ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললো।ঈশান নিচের দিকে তাকিয়ে খেয়েই যাচ্ছে একবারও ঈশার দিকে তাকাচ্ছে না। আর ঈশা সেই কখন থেকে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাৎই ঈশানের ঈশার চোখে চোখ পরলো।সঙ্গে সঙ্গে ঈশান চোখ নামিয়ে নিলো।
ঈশার রুমে
মিলি:ঈশা আপু কাল কি হয়েছিলো??
ঈশা:কিচ্ছু না
মিলি:আপু তুমি আমায় ভরসা করে দেখতে পারো কখনো ঠকবে না
এরপর ঈশা সবটা বললো মিলিকে।সাথে এটাও বললো যে ঈশান ওকে ভালবাসে
মিলি:ওয়াও ভালো তো।তুমি আমার ভাবি হবে(বলেই ঈশাকে জড়িয়ে ধরলো)
ঈশা:তোমার ভাইর সাথে তো আমাকে যায় না মিলি।কোথায় তোমরা আর কোথায় আমি
মিলি:উফ এসব কথা ভুলেও ভাববে না।তুমি এখন এই বাড়িরই মেয়ে।তবে তোমার ভাইয়াকে এভাবে বলা উচিত হয়নি।ভাইটা খুব কষ্ট পেয়েছে তাই তোমার সাথে এমন করছে।তুমিই পারবে ভাইয়ার রাগ ভাঙ্গাতে।আচ্ছা ঈশা আপু তুমি কি আমার ভাইটাকে ভালবাসো(ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলো)
ঈশা:জানি না(লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে)
কিছুক্ষণ পরে ঈশান ওদেরকে স্কুলে পৌঁছে দিলো ।তারপর নিজের ভার্সিটিতে চলে গলো..
রবি:কি রে তোর হাত এমন হলো কিভাবে
ঈশান:কিছু না।ওই একটু ব্যথা পাইছি
রবি:তুই আমাকে বোকা ভাবিস??
ঈশান ওর সব কথাই রবির সাথে শেয়ার করে। (বেষ্ট ফ্রন্ড বলে কথা)এরপর ঈশান সবটা খুলে বললো
রবি :শেষ পর্যন্ত প্রেমের ফাদে পড়েই গেলি?
ঈশান:হুম।পরেই গেলাম।অনেকবার নিজেকে আটকাতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি।
রবি:এখন ঈশার মনের ভিউ কি??
ঈশান:জানি না রে।তবে আমি এখন আর আগের মত ওর সাথে কথা বলি না।আর বলবোও না
রবি:হয়তো তোর এই দূরুত্বটাই ওকে তোর কাছে টেনে নিয়ে আসবে
ঈশান:কিভাবে??
রবি:যখন আসে তখনই বুঝবি।ও যদি তোকে সত্যিকারে ভালবাসেই থাকে এতদিন নিজের ভালবাসার কথা আড়াল করে রাখলেও এখন আর পারবে না
ঈশান :তুই সিউর??
রবি:১০০%।যদি ও তোকে ভালবাসে তো।নাহলে না
ঈশান:ও(মন খারাপ করে)।আমার তো মনে হয় ও সাহিল ছেলেটাকে ভালবাসে
রবি:মন খারাপ করছিস কেনো??আমার কিন্তু মনে হয় না ও সাহিলকে ভালবাসে।আমার তো মনে হয় ও তোকে ভালবাসে
ঈশান:তোর এমন মনে হওয়ার কারন??
রবি:তুই বোঝার ট্রাই কর তাহলেই বুঝবি
ঈশান :তুই বুঝিয়ে বল।এখন আমার মাথায় এসব ঢুকবে না
রবি:দেখ ঈশা যদি তোকে ঘৃনা করতো তাহলে তোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।তারপর এত কিছুর পরেও কেনো ও তোর কাছে পড়তে চাইবে।ও যদি তোকে ভাল নাই বাসে তুই ভালবাসি কথা বলার পর ওর তোকে ইগনোর করার কথা কিন্তু সেটাও তো করলো না।উল্টো তোর প্রতি জোড় করছে।যেটা ও আগে কখনো করে নি
ঈশান:কি জানি
রবি:যদি ও তোকে ভালবাসি বলেই ফেলে তো কি করবি
ঈশান:সোজা বিয়ে
রবি:মানে(অবাক হয়ে)
ঈশান:আমি ওকে নিয়ে আর কোন রিস্কে থাকতে পারবো না।
রবি:তাই বলে বিয়ে।সবাই জানলে কি হবে
ঈশান:জানবে না।
রবি:আমার মনে হয় এটা করা ঠিক হবে না।আর ঈশা কি এমন বিয়ে তে রাজি হবে??
ঈশান:জানি না।চল ক্লাসে যাই
প্রায় অনেকদিন হয়ে গেছে ঈশান ঈশার সাথে কোন কথাই বলছে না।সবার সাথে স্বাভাবিক আচরন করছে শুধু ঈশা ছাড়া।ঈশা বারবার ঈশানের কাছে ক্ষমা চাইছে,কাছে আসতে চাইছে কিন্তু ঈশান ওকে পাত্তাই দিচ্ছে না।ঈশান এখন সবসময় পড়া নিয়া ব্যস্ত থাকে।ঈশা ওর কাছে পড়তে চায় তাও পড়ায় না।এমনকি ঈশাকে নিজের রুমে ঢুকতেও দেয় না
সাকালবেলা
ঈশান শার্ট পরছিলো দরজাটা খোলাই ছিলো(ঈশা যাতে ঈশানের রুমে না যেতে পারে সেজন্য ঈশান সবসময় দরজা বন্ধ করে রাখে)তখনি ঈশা এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো
ঈশা:সরি। আমাকে প্লীজ ক্ষমা করুন
ঈশান:কি হচ্ছে কি ছাড় আমাকে
ঈশা:ছাড়বো না।আগে বলুন আপনি আমায় ক্ষমা করেছেন
ঈশান :ক্ষমা করার সাথে জড়িয়ে ধরার কি সম্পর্ক
ঈশা:জানি না(লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে)।তারপর ঈশানকে ছেড়ে দিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে রইলো
ঈশান:রেডি হয়ে নে স্কুলে যেতে হবে তো
ঈশা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।
ঈশান:কি হলো যাস না কেনো(কিছুটা রাগ নিয়ে ঈশা আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না সেখান থেকে নিজের রুমে চলে গেলো)
ঈশা:উনি আমার সাথে এটা কিভাবে করতে পারলো।সত্যি আমিই খারাপ। লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম তাও আমার সাথে এমনটা কি করে করলো। আর কথাই বলবো না।রাক্ষস একটা।সারাক্ষণ শুধু রাগ আর রাগ।ভুল তো মানুষেরই হয় আমিও না হয় একটা ভুল করে ফেলেছি তাই বলে এত শাস্তি দিতে হবে??ইশ ঢং করে ওইদিন ভালবাসি কেনো বললো??কি দরকার ছিলো এমন ঢং করার এটা নাকি ভালবাসার নমুনা।নিকুচি করি ওনার ভালবাসা চাই না ওনার ভালবাসা।খুব বাজে লোক একটা(বিছানায় বসে কাঁদছে আর বিড়বিড় করে কথাগুলো বলছে)ঈশাকে রুম থেকে বের করে ঈশান নিজেই এসে ঈশার রুমের সামনে দাঁড়ালো। ঈশার রিয়াকশন দেখার জন্য। ঈশানের খুব হাসি পাচ্ছে ঈশার কথাগুলো শুনে তাও মুখ চেপে হাসি বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো
ঈশা:আমি কি জানতাম ওই হারামি সাহিল এমন একটা কাজ করবে।উচবুক একটা।স্কুলের প্রথম দিন থেকে পেছনে পরে আছে।ওরে জুতা পিটা করা উচিত ছিলো।কতবার বলছি আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে না।ওর জন্যই সব হলো।মিলি কেনো যে ওকে আমার নাম্বারটা দিলো।আমারই ভুল হয়েছে মিলিকে ফোন নাম্বার দেওয়া।আমি এখন কি করবো?? ভাইয়া আর আমার সাথে কথা বলবে না।উনি কি বুঝে না আমি ওনার সাথে কথা না বলে থাকতে পারছি না।নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে(কথাগুল বিড়বিড় করে বলেই ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো)
ঈশান আর হাসি আটকাতে পারলো না নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে অট্ট হাসিতে ফেটে পরলো।তবে খুশিতে আটখানা ঈশান।
মিলি:এই ঈশা আপু তুমি এভাবে কাঁদছো কেনো??
ঈশা:ঈশান ভাইয়া আমার সাথে একটুও কথা বলে না(ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আর বলছে)
ঈশান :মিলি তোদের হয়েছে??তাড়াতাড়ি বের হ আমাকে কলেজে যেতে হবে
মিলি:হুম ভাইয়া আসছি।ঈশা আপু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।কান্নাকাটি বন্ধ করো।সব ঠিক হয়ে যাবে।চিন্তা করো না।
ঈশা:আমি যাব না
মিলি:আপু আর কোন কথা নয়।তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। নাহলে ভাইয়া রেগে যাবে
ঈশা:রাগুক ওনার রাগের ধারধারিনা(বেশ জোড়েই বললো যাতে ঈশান শুনতে পায়)
ঈশান:মিলি কেউ যদি না যায় তুই ই চল।তোকে পৌঁছে দেই
মিলি:তাহলে আমি যাচ্ছি। তুমি থাকো
ঈশা:দাড়াও আমিও যাবো
মিলি ঈশার কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে
ঈশা:উচবুক, রাক্ষস একটু সাধলে কি হতো।মনে হয় যেন ক্ষয়ে যাবে আমার সাথে কথা বললে।যত্তসব ঢং(আস্তে করে বললো)
মিলি:উফ আপু তুমি পারোও বটে😁😁।তাড়াতাড়ি রেডি হও
আজ আবার ঈশা নিজে থেকেই ইচ্ছে করে অনেক সাজলো।এটা দেখার জন্য ঈশান কিছু বলে কি না
মিলি:আপু তুমি আজ সাজছো কেনো??
ঈশা:দেখি তোমার বজ্জাত ভাই কি করে আমার সাথে কথা না বলে থাকে।দেখে নিও আজ ঠিক তোমার বজ্জাত ভাই আমার সাথে কথা বলবে(বলেই ভেংচি কাটলো)
মিলি:বললেই ভালো।আবার দেখো রেগে যায় না নাকি
ঈশা:আমি তো রাগাতেই চাই ওনাকে
মিলি:এই আপু তুমি কি ভাবছো??
ঈশা:কিছু না।চলো যাই।না হলে আবার উনি রেগে যাবেন।ওনার তো রাগতে সময় লাগে না
ঈশা আর মিলি নিচে নামতেই ঈশান ঈশার দিকে তাকলো।ঈশাকে সাজতে দেখে মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।তবুও রাগটাকে কন্ট্রোল করলো।কয়েক সেকেন্ড ঈশার দিকে তাকিয়ে থাকলো। এত বেশি সুন্দর লাগছে যে চোখ সরানো দায়।তবুও নিজেকে সংযত করলো
ঈশা:কি দরকার ছিলো এভাবে সাজার।এতকিছু হয়ে গেলো সাজ নিয়ে তাও ওনার সাজা চাই।যত ইচ্ছা সাজুক আমার কি??যখন বিপদে পরবে তখন বুঝবে।(মনে মনে বললো)
স্কুলে পৌঁছে গাড়ী থেকে নেমে
ঈশা:মিলি তুমি যাও আমি আসছি।মিলি চলে যেতেই ঈশা হুট করে গাড়ীতে উঠে পরলো
ঈশান:কি হলো তুমি গাড়ীতে উঠেছে কেনো??
ঈশা কোন উত্তর না দিয়েই দুই হাত দিয়ে ঈশানের মাথাটা ধরে ঈশানের ঠোঁটে নিজের ঠোট জোড়া ডুবিয়ে দিলো।হটাৎ ঈশার এমন একটা কাজে পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে ঈশান হাত দুটো দুদিকে উচু করে আছে।ঈশাকে একটুও টাচ করছে না।প্রায় কয়েক মিনিট পর ঈশা ঈশানকে ছাড়লো।ছেড়ে একটুও ওয়েট করলো না সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে স্কুলের মধ্যে চলে গেলো।আর ঈশান হা করে তাকিয়ে ঈশার চলে যাওয়া দেখছে। সব কিছু ঈশানের মাথার উপর দিয়ে গেলো।ঈশা কি করে এমন একটা কাজ করতে পরলো।পরক্ষনে ঈশানের ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।গাড়ীর মধ্যে আয়নায় তাকাতেই ঈশার লিপস্টিক নিজের ঠোঁটে দেখতে পেলো।হুট করেই অনেক জোড়েই হেসে উঠলো ঈশান।তারপর পকেট থেকে রুমালটা বের করে ঠোটটা ভাল করে মুছে নিলো।তারপর গাড়ীতে স্টার্ট দিলো
ঈশা দৌড়ে কমন রুমে গিয়ে হাপাতে লাগলো।কি করে এমন একটা কাজ করলো ঈশা ভেবেই লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে।ঈশার এভাবে দৌড়ে আসতে দেখ মিলিও পিছু পিছু আসলো।
মিলি :এই ঈশা আপু এভাবে দৌড়ে আসলে কেনো??
ঈশা :এমনি।তোমার কাছে রুমাল আছে??
মিলি:হুম
ঈশা এরপর ব্যাগ থেকে ওয়াটার বোটল নিয়ে মুখটা ধুলো তারপর মিলির থেকে রুমালটা নিয়ে মুখটা মুছলো
মিলি:কি দরকার ছিলো এত সাজার?? এখন আবার মুছে ফেলার
ঈশা:দরকার ছিলো।আর এখন দরকার শেষ তাই মুছে ফেললাম
মিলি:সত্যি তুমি পারও
ঈশানের ভার্সিটি তে
রবি:কিরে তোকে আজ খুশি খুশি মনে হচ্ছে??ব্যাপার টা কি হুম??(মুচকি হেসে)
ঈশান:দোস্ত মনে হয় ঈশা আমাকে ভালবাসে
রবি:না ভালবেসে যাবে কই।আমার বন্ধু তো লাখে একজন হয়
ঈশান:দোস্ত বেশি পাম দিস না ফেটে যাবো
রবি:পাম না।যা সত্যি তাই বলছি
স্কুল ছুটির পর
ঈশা :সামনে থেকে সরো সাহিল
সাহিল:তুমি আমার সাথে কথা বলছো না কেনো??
ঈশা:তুমি তোমার প্রমিজ ব্রেক করেছো
সাহিল:সরি বললাম তো।তাও কেন এমন করছো??ফোনোও ব্লক করে দিয়েছো স্কুলেও কথা বলছো না। এভাবে আমি থাকতে পারব না
ঈশা:আমি তোমার সাথে আর জীবনেও কথা বলবো না।বলেই মিলিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।ততক্ষণে ঈশানও চলে এসেছে।গাড়ীর মধ্যে কেউ কারো সাথে একটাও কথা বললো না ঈশা বারবার ঈশানের দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু ঈশান একবারও তাকালো না।
সরি ছোট হয়ে গেছে।প্লীজ এটা নিয়ে কেউ কিছু বলো না
চলবে,,,,,,
মায়াবতী পর্ব :৫ মায়াবতী পর্ব :৫ Reviewed by EasyTalk on 10:56 PM Rating: 5

মায়াবতী পর্ব :৪

10:47 PM

মায়াবতীপর্ব :৪

লেখা:রিপা
পরেরদিন স্কুলে যেতেই সাহিল এসে ঈশার সামনে দাঁড়ালো তখনি ঈশা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চইলে সাহিল হাত দিয়ে বাধা দিলো.....
সাহিল:কেনো এমন করছো ঈশা??কেনো তুমি আমার ভালবাসা বুঝছো না ??(করুন গলায়)
ঈশা:দেখো আমি তোমাকে সব বলেছি সাথে এটাও বলেছি আমি মিলিদের বাসায় আস্রিতা।তাও কেনো এমন করছো?? আর এমনিতেই আমি তোমার থেকে বয়সে বড়।হ্যা এটা ঠিক যে ক্লাসে আমি তোমার ছোট।এতে সত্যিটা তো আর পাল্টে যায় না। আর আমি তোমাকে আমার সব অতীত খুলে বলেছি।তাও কেনো বুঝতে চাইছো না??
সাহিল:তোমার যত প্রবলেমই থাকুক না কেনো তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই কারন আমি তোমায় ভালবাসি সাথে তোমার সমস্যাগুলোকেও।প্লীজ আর এসবের অজুহাত দিও না
ঈশা:আমি একজনকে ভালবাসি (মিথ্যা কথা)
সাহিল:আমি বিশ্বাস করি না
ঈশা:সেটা তোমার ব্যাপার। সামনে থেকে সরো ক্লাসে যাব
সাহিল:তুমি কেনো আমাকে বুঝতে চাইছো না??আমি যে তোমায় পাগলের মত ভালবাসি
ঈশা আর কোন কথা বাড়ালো না পাশ কাটিয়ে চলে আসলো।
প্রায় এক মাস পর
আজ সকাল সকাল ঈশানদের বাসায় ঈশানের ফ্রেন্ড রিহান এসেছে।কলিংবেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো ঈশানের মা
রিহান:আসসালামু আলাইকুম। আন্টি কেমন আছেন??
বড় মা:ওয়ালাইকুম সালাম।ভাল আছি। তুমি কেমন আছো??
রিহান:জি আন্টি ভালো।ঈশান কোথায়??
বড় মা:ওর রুমেই আছে। তুমি ভেতরে এসে বসো। আমি ডেকে নিয়ে আসছি
বড় মা:ঈশান(ঈশানের রুমে কাছে এসে)
ঈশান:হ্যা মা বলো??(শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো)
বড় মা:রিহান আসছে
ঈশান:ও কেনো এসেছে(রেগে গিয়ে।রিহান যেদিন থেকে ঈশার কথা শুনেছে সেদিন থেকেই ঈশানের পেছনে পরে আছে ঈশার সাথে প্রেম করার জন্য। তাই ওর নাম শুনতেই রাগ বেড়ে গেলো)
বড় মা:এটা আবার কেমন কথা??বন্ধুর বাড়ি বন্ধু আসবে না?
ঈশা:বন্ধু না শত্রু( মনে মনে বললো)আচ্ছা তুমি যাও আমি আসছি
ঈশান তাড়াতাড়ি নিচে চলে গেলো।যাতে করে তাড়াতাড়ি রিহানকে বিদায় করতে পারে।ঈশান আর রিহান সেই কখন থেকে খাচ্ছে আর কথা বলেই যাচ্ছে। রিহান যাওয়ার কোন নামই নিচ্ছে না।(ঈশানের ওর মার প্রতিও রাগ হচ্ছে কেনো এত নাস্তা দিলো)ঈশানের এবার খুব বিরক্ত লাগছে...
ঈশান:চল বাহিরে যাই
রিহান:আরে এমন করছিস কেনো??আর কিছুক্ষণ থাকি না
ঈশান শুধু একটু বিরক্তিকরভাবে হাসলো।আর তখনি দেখলে ঈশা সিড়ি দিয়ে নামছে।একটা ব্লাক কামিজ সাথে সেট ওড়না, ম্যাচিং সালোয়ার পড়েছে।আজ অনেক সেজেছে ঈশা।এমনিতেই ঈশা অনেক ফর্সা তারর উপর ব্লাক কালার ড্রেসে অনেক মানিয়েছে।ওকে দেখেই ঈশান ঈশারা করলো উপরে চলে যেতে কিন্তু ঈশা কিছুই বুঝতে পারলো না।ঈশানের কাছে এসে.....
ঈশা:ভাইয়া কিছু বলবেন??
ঈশান রিহানের দিকে তাকিয়ে দেখলো রিহান হা করে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে গিলছে ঈশাকে।আর ঈশার তো সেদিকে কোন খেয়ালই নেই
ঈশান:তোর রুমে যা(দাঁত কটমট করতে করতে বললো)ঈশা তো সবসময়ই ঈশানের এমন রাগের সাথে পরিচিত তাই আর দেরি করলো না তাড়াতাড়ি নিজের রুমে চলে গেলো
ঈশান:এভাবে হা করে আছিস কেনো??(রিহানকে উদ্দেশ্য করে)
রিহান:ভাই এ আমি কি দেখলাম??
ঈশানে:কেনো??😡😡
রিহান:বিশ্বাস কর ভাই আমি এমন সুন্দরী মেয়ে জীবনেও দেখি নাই।আর আমি যদি ভুল না করি এটাই ঈশা।প্লীজ তুই আমার সাথে ওর রিলেশন করিয়ে দে
ঈশা:সালা কারাচ্ছি তোর রিলেশন😡😡।আর মেয়ে খুজে পাইলি না ওর দিকেই তোর নজর দিতে হলো😡😡(মনে মনে বললো)
রিহান:কিরে কিছু তো বল
ঈশান:সরি রে দোস্ত।ঈশা এ্যাংগেজড
(মন খারাপের বান ধরে)
রিহান:কি বলছিস তুই??ওকে দেখার জন্যই তো আমার আজ এখানে আসা।কত স্বপ্ন দেখছি ওকে নিয়ে এখন কি হবে??(কাদো কাদো গলায়)
ঈশান:সালা নিকুচি করি তোর স্বপ্নের। তোর সাহস হয় কি করে ওকে নিয়ে ভাবার??সালা ক্যারেকটার লেস একটা(মনে মনে)
রিহান:😭😭😭
ঈশান:আরে আরে কাঁদছিস কেনো??সবাই দেখলে কি বলবে বল তো(কান্নার অভিনয় করে)আমি জানি যে তোর ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে।বিশ্বাস কর আমি ঈশাকে তোর জন্যই চুজ করেছি।যখনই মাকে বলবো ভেবেছি তখনি শুনলাম ঈশার এ্যাংগেজ হয়ে গেছে(ডাহা মিছা কথা)
রিহান:আসি রে। ঈশা আমার ভাগ্যে নাই😭😭😭
ঈশান:হুম।যা😜😜😜
রিহান চলে যেতেই ঈশান ঈশার রুমের দিকে পা বাড়ালো
মিলি:আপু তুমি আজ অনুষ্ঠানে কি পারফর্ম করছো??
ঈশা:কিচ্ছু না
মিলি:কেনো??
ঈশা:আমার ভয় লাগে।পরে যখন কোন অনুষ্ঠান হবে তখন ট্রাই করবো।তুমি কি পারফর্ম করছো??
মিলি:হুম।তুমি তো মোটামোটি ভালই ডান্স করতে পারো।তুমি একটা ডান্স কর প্লীজ।
ঈশা:আরে না।কি যে বল আমার ভয় লাগে। আমি এসব করতে পারব না।তা তুমি কি করবে??
মিলি:গান গাইবো
তখনি ঈশান ঈশার রুমে ঢুকলো
ঈশান:মিলি তুই গাড়ীতে ওয়েট কর। আমি আর ঈশা একটু পরেই আসছি
ঈশানকে দেখেই ঈশা উঠে দাঁড়ালো। মিলি চলে যেতেই রাগী লুক নিয়ে ঈশার দিকে এগুতে লাগলো ঈশান
ঈশা:আমি কি...কি...কি করেছি(ভয়ে পিছু হাটতে হাটতে বললো)
ঈশান কিচ্ছু বললো না শুধু ঈশার দিকে এগুতে লাগলো।পিছু হাটতে হাটতে ঈশার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো।ঈশান একেবারে ঈশার কাছে এসে দাঁড়ালো। ঈশা চোখ বন্ধ করে দেয়ালের সাথে মিসে আছে। ঈশান কখন থেকে ঈশার দিকে তাকিয়েই আছে।ঈশানেরর কোন রিয়াকশন না দেখে ঈশা চোখ খুললো।ঈশা চোখ খুলতেই ঈশান দুই হাত দিয়ে ঈশার মুখটা উচু করে ধরে ঠোঁটে চুমো খেতে লাগলো। এদিকে ঈশার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম তাও ঈশানের ছাড়ার কোন নামই নেই।যতক্ষণ ঈশার ঠোঁটে লিপস্টিক ছিলি ঠিক ততক্ষণ ঈশান ঈশার ঠোঁটে চুমু খেলো।তারপর ঈশার কপালের টিপ টাও ফেলে দিলো।ঈশার ঠোটজোড়া একেবারে লাল হয়ে গেছে মনে হচ্ছে এক্ষুনি রক্ত ঝরবে.....
ঈশান:এবার শেষ লিপস্টিক খাওয়া।আর যেন কক্ষনো লিপস্টিক দিতে না দেখি।কতবার বলেছি সাজতে না তাও মহারানীর সাজা লাগবে।কি দরকার ছিলো সেজেগুজে ওই ছেলেটার সামনে যাওয়ার??(রাগে কথা গুলো বললো)
ঈশা:আমি কি জানতাম নাকি যে ওখানে ওই ছেলেটা আছে(কাদো কাদো গলায় বললো)
ঈশান:না জানতেন বেশ ভাল কথা। এভাবে সাজতে কে বলেছে??আমি যে সাজতে না বলেছি সেটা মাথায় ছিল না?? (দাঁত কটমট করতে করতে বললো)
ঈশা:আজ স্কুলে একটা অনুষ্ঠান আছে তাই মিলি জোড় করে আমায় সাজিয়ে দিয়েছে😞😞
ঈশান :হয়েছে আর নিজের হয়ে সাফাই গাইতে হবে না।আমাকে শেখানো হচ্ছে।স্কুলে অনুষ্ঠান হলেই যে সেজেগুলে যেতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।স্কুল ড্রেস পড়েও যাওয়া যায়। ড্রেসটা চেঞ্জ করে স্কুল ড্রেস পড়ে নিন।আর হ্যা অনুষ্ঠানে ভুলেও কোন পারফর্ম করবি না.....
ঈশা:পারব না এখন ড্রেস চেঞ্জ করতে😒😒
ঈশান:ওকে পারতে হবে না।বলেই ঈশাকে এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।ড্রেসিংটেবিলের উপরে একটা কাচি দেখলো।কাচিটা দিয়ে ঈশার পেছনের কামিজটা লম্বা করে কেটে দিলো।ঈশা তাড়াতাড়ি হাত দিয়ে ছেরা কামিজটা ধরলো.....
ঈশা:এটা আপনি কি করলেন??😡😡ঈশান:কেনো তুমিই তো বললে চেঞ্জ করতে পারবে না তাই চেঞ্জ করার ব্যবস্থা করে দিছি।
ঈশা:সত্যি আপনি খুব খারাপ।একটা শয়তান আপনি
ঈশান:আর??(ঈশার দিকে এগুতে এগুতে বললো)
ঈশা:বজ্জাত (পিছু হাটতে হাটতে বললো)
ঈশান:আর???
ঈশা:আপনি একটা রাক্ষস (বলেই দৌড়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো)
আয়নায় পেছনের ছেরা কামিজটা দেখতে লাগলো প্রায় অনেকখানি কেটে ফেলেছে।
ঈশা:অসভ্য লোক একটা আমার ঠোটটার কি অবস্থা করছে??সবাই দেখলে এখন কি ভাববে??আবার কি দরকার ছিলো কামিজটা কাটার। রাক্ষস একটা(একা একা বিড়বিড় করলো)
ঈশান:কি বিড়বিড় করছো?? তাড়াতাড়ি বের হও স্কুলের সময় হয়ে যাচ্ছে তো
এবার বাধলো আর এক বিপত্তি ড্রেস চেঞ্জ করবে অথচ কোন ড্রসই নেওয়া হয়নি
ঈশা:মিলি, এই মিলি
ঈশান:মিলি এখানে নেই।কি বলবেন বলে ফেলুন
ঈশা:আমার স্কুল ড্রেসটা একটু দিতে পারবেন
ঈশান:কোথায় রেখেছিস
ঈশা:ওয়ারড্রবেরর মধ্যে
ঈশান:পারব না খুজতে।এই তোয়ালে দিচ্ছি এটা পরে বের হ।পরে ড্রেস চেঞ্জ করে নিস
ঈশা ওয়াসরুমের দরজাটা সামান্য ফাকা করে তোয়ালেটা নিলো।।কিছুক্ষণ পর
ঈশান:কি হলো এখনো হয় নি??
ঈশা:আপনি রুম থেকে বের হন
ঈশান:ওকে।ঈশান রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই ঈশা রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।তারপর ড্রেস চেঞ্জ করে তাড়াতাড়ি নিচে চলে গেলো
গাড়ীর মধ্যে
মিলি:ঈশা আপু এটা কি করেছো তুমি??
ঈশা:কেনো??
মিলি:তোমাকে আমি এত সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছি আর তুমি সব উঠিয়ে ফেলেছো।তারপর ওই ড্রেসটা পরলেও তো হতো😞😞
ঈশা:ড্রেসটা ইদুরে কেটে ফেলছে
মিলি:কি বল??আমাদের বাসায় ইদুর আসবে কিভাবে?
ঈশা:আরে এটা সেই ইদুর না। মানুষরূপী বড়সড় ইদুর।ঈশা এসব বলছে আর ঈশান মিটিমিটি হাসছে
মিলি:কি বলছো এসব?মানুষরূপী ইদুর মানে??
ঈশা:তুমি এসব বুজবে না।পরে বুঝিয়ে বলবো তোমাকে
মিলি:ঈশা আপু আমার দিকে ভাল করে তাকাও তো
ঈশা:কেনো কি হয়েছে??(ঈশার দিকে তাকিয়ে)
মিলি:এই আপু তোমার ঠোঁটের এ অবস্থা কি করে হলো??আমি যখন সাজিয়েছি তখন তো ঠিকই ছিলো
ঈশা:আর বলনা রাক্ষসে এমন করছে😡😡
মিলি :উফ ঈশা আপু তুমি আজ এসব কি উল্টাপাল্টা বকছো??
এবার ঈশান হা হা করে হেসে দিলো।ঈশানের হাসি দেখে ঈশার আরও বিরক্তি লাগছে
মিলি:ভাইয়া তুই এভাবে হাসছিস কেনো??
ঈশান:এমনি😂😂😂
স্কুলে পৌছানোর পর
সাহিল:এই তুমি আজ একটুও সাজোনি কেনো??(ঈশার সামনে এসে দাঁড়িয়ে)
ঈশা:আমার ইচ্ছা হইছে তাই।আর তুমি প্রতিদিন আমার পথ আগলে দাড়াও কেনো??
সাহিল:তোমার সাথে কথা বলার জন্য
ঈশা :আমি তোমাকে আর কতবার বলবো যে আমি তোমাকে ভালবাসি না।স্কুলে আসলে ডিস্টার্ব কর আবার ফোনেও ডিস্টার্ব কর।কেনো এমন করছো??
সাহিল:ভালবাসি তাই
ঈশা:ওকে। তুমি তো আমায় ভালবাসো তাই তো??
সাহিল:হুম
ঈশা:কি করতে পারবে আমার জন্য??
সাহিল:তুমি যা বলবে তাই।তবে আমার একটা শর্ত আছে??
ঈশা:কি শর্ত??
সাহিল:আমি তোমার সব কথা শুনব।তবে প্রতিদিন একবার হলেও আমার সাথে ফোনে কথা বলতে হবে
ঈশা:ওকে।
সাহিল:এবার তুমি কি বলবে বলো??
ঈশা:তুমি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট না করা পর্যন্ত আমাকে আর কখনো ভালবাসার কথা বলবে না।আমরা শুধু ভাল বন্ধু হয়েই থাকবো।যখন তোমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয় তখনই আমরা বিয়ে করবো।আর আমি স্কুলে আসলে আমার ধারেকাছে বেশি আসবে না
সাহিল:আমি এত কিছু মানতে পারবো না
ঈশা:তাহলে আমাকে কখনো পাবেও না
সাহিল:ওকে আমি রাজি(মন খারাপ করে)
ঈশা:সরি সাহিল।এছাড়া তোমাকে আমার থেকে দূরে সরানোর আর কোন উপায় নেই।আমি যে কখনই তোমাকে ভালবাসতে পারবো না।আর আমি এটাও জানি ততদিনে তুমি আমাকে ঠিক ভুলে যাবে (মনে মনে বললো)
সাহিল:এই ঈশা কোথায় হারিয়ে গেলে??
ঈশা:না না হারাই নি(ধ্যান ভেঙ্গে)চলো একটু পরেই অনুষ্ঠান শুরু হবে
সাহিল:হুম চলো
কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুষ্ঠান শুরু হয় গেলো।অনুষ্ঠান যখন প্রায় শেষ পর্যায় তখনি মিলি স্টেজে এসে গোষনা করলো....
মিলি:এখনি আপনাদের সামনে নৃত্য পরিবেশন করবে ইশরাত জাহান ঈশা
আর সবাই হাতে তালি দিতে শুরু করলো।ঈশা তো মিলির কথা শুনে পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।মিলি স্টেজে যাওয়ার জন্য বারবার ঈশাকে ডাকছে।বাধ্য হয়ে ঈশা স্টেজে গিয়ে ডান্স করতে লাগলো।সবাই মুগ্ধ হয়ে ঈশার ডান্স দেখতে লাগলো।সাহিল তো পুরাই হা করে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে কোন রকম প্রিপারেশন ছাড়া এত সুন্দর করে কেউ কি করে ডান্স করতে পারে।
আর এদিকে ঈশান সেই কখন থেকে গেটের সামনে ওদের জন্য অপেক্ষা করছে। আর বসে থাকতে পারলো না গাড়ী থেকে নেমে স্কুলের মধ্যে প্রবেশ করলো।ভেতরে এসেই মাঠের মাঝখানে বড়সড় ভির দেখলো।ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকেই দেখলো ঈশা ডান্স করছে।আর সবাই হা করে দেখছে।মেজাজটা প্রচন্ড রকমে খারাপ হয়ে গেলো ঈশানের।ডান্স শেষে ঈশা যখন স্টেজ থেকে নেমে আসলো তখনি সাহিল ঈশার হাত ধরে সবার থেকে একটু আড়ালে নিয়ে গেলো...
ঈশা :এখানে এনেছো কেনো??
ঈশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাহিল ঈশার হাতে কিস করে বসলো। ঈশা তাড়াতাড়ি সাহিলকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো.
ঈয়া:এটা কি করলে?😡😡
সাহিল:সরি। অনেক বেশি এক্সাইটেড হয়ে পরেছি তোমার ডান্স দেখে তাই এই রকম ভুল হয়ে গেছে।প্লীজ কিছু মনে করো না।
ঈশ:তুমি আমার সাথে আর কক্ষনো কথা বলবে না।বলেই চলে আসতে নিলো তখনি সাহিল ঈশার হাতটা ধরে ফেললো
ঈশা:সাহিল হাতটা ছাড়ো(রেগে গিয়ে)
সাহিলও ঈশার এমন রাগ দেখে হাতটা ছেড়ে দিলো।দূর থেকে দাঁড়িয়ে সবটা দেখলো ঈশান
ঈশা হাতটা ছাড়িয়ে সামনে এগুতেই ঈশানের সামনে পড়লো।ভয়ে ঈশার অবস্থা জড়সড়
ঈশা:আ...আ..আপনি এখানে??
ঈশান:কেনো এক্সপেক্ট করিসনি মনে হয়??
ঈশা:না মানে।হ্যা
ঈশান আর কিছু বললো না ঈশার হাতটা ধরে নিয়ে এসে গাড়িতে বসিয়ে দিলো।মিলিও তাড়াতাড়ি এসে গাড়িতে বসলো.....
পুরো রাস্তায় একটাও কথা বললো না ঈশান।বাড়িতে এসেই সবার সামনে থেকে হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে আসলো.....
রুমে এসেই দটজাটা ঠাস করে বন্ধ করে দিলো
বড় মা:কিরে মিলি কি হয়েছে??ঈশান এভাবে ঈশাকে টেনে নিয়ে গেলো কেনো??
মিলি:প্লীজ বড় মা তুমি ঈশা আপুকে বাঁচাও। আজ কি যে করবে ভাইয়া ঈশা আপুরর সাথে আল্লাহই জানে
বড় মা:কেনো??কি করেছে ঈশা??
এরপর মিলি সবটা খুলে বললো
বড় মা:এতে ঈশার দোষটা কোথায়?এই ছেলেটা পারেও বটে।কি যে করি আমি..
ঈশানের রুমের সামনে..
বড় মা:ঈশান বাবা দরজাটা খোল
ঈশান:মা তুমি এখান থেকে যাও
বড় মা:তোর সাথে আমার কথা আছে।দরজাটা খোল
ঈশান:মা তুমি এখান থেকে যাও আমাকে ডিস্টার্ব করো না(চিৎকার করে বললো)
ঈশানের মা ছেলের এমন রাগের সাথে পুরাই অভ্যস্ত। তাই আর দেরি করলো না সেখান থেকে চলে গেলো
ঈশা রুমের এক পাশে ভয়ে গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আর ঈশান চুপচাপ বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে
ঈশান:কতদিনের সম্পর্ক ছেলেটার সাথে??(শান্ত গলায়)
ঈশা:কোন সম্পর্ক নেই😞😞
ঈশান :মিথ্যে বলবি না
ঈশা:আমি মিথ্যে বলছি না
ঈশান:ও রিয়েলি!!??
ঈশা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।তখনি ঈশার ফোনে ম্যাসেজ টোণ বেজে উঠলো।ম্যাসেজের শব্দ শুনে ঈশা প্রায় লাফিয়ে উঠলো।ঈশান ঈশার ব্যাগটা নিয়ে ম্যাসেজটা পড়লো
I love u esa.Don't angry with me.I am so sorry. love u
ঈশান জোড়ে জোড়ে ম্যাসেজটা পড়লো।এরপর একে একে সবগুলো ম্যাসেজ পড়লো ঈশার সামনে।ঈশা ভয়ে একেবারে চুপসে গেছে
ঈশান:ওয়াও গ্রেট। তাহলে এত প্রেম চলছে আপনাদের মধ্যে??
ঈশা:আমি ওকে ভালবাসি না। ওই আমাকে ভালবাসে
ঈশান রাগ রাগটা কন্ট্রোল করতে পারলো না।ঠাস করে ঈশাকে চড় বসিয়ে দিলো......
ঈশান :তোর যা ইচ্ছা তা কর আমার সাথে কেনো মিথ্যা বলছিস??.খুব চুমু খাওয়ার শখ হয়েছে না??আজ আমি তোর চুমু খাওয়ার সব শখ মিটিয়ে দিব।
বলেই ঈশার দিকে এগুতে লাগলো।
ঈশা:বিশ্বাস করুন ভাইয়া আমি জানতাম না সাহিল এমন একটা কাজ করবে(ভয়ে ঢোক গিলতে গিলতে)
ঈশান ঈশার কাছে এসে ঈশার হাতটা ধরলো....।ঈশা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ঈশান কিছুতেই ছাড়ছে না।ঈশান ঈশার পুরো হাতে কিস করলো।এরপর মুখে,গলায়,ঘাড়ে কিস করতে লাগলো ঈশা বাধা দিচ্ছে তাও শুনছে না।ঈশা বাধা দিচ্ছে দেখে ঈশান ঈশার দুটো হাত নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে নিলে।ঈশা অনেক ভাবে চাইছে ঈশানের থেকে মুক্ত হতে কোনভাবেই পারছে না।ঈশান ওর মত করেই কিস করে যাচ্ছে। যখনই ঈশান ঈশার গলার একেবার নিচে কিস করলো....
ঈশা:প্লীজ ছাড়ুন আমায়(চিৎকার করে)
ঈশার চোখ, নাক,মুখ পুরো লাল হয়ে গেছে।রাগে ঈশা পুরো কাঁপছে।ঈশান সঙ্গে সঙ্গে ঈশাকে ছেড়ে দিলো..
ঈশা:আপনার আমাকে কি পশু মনে হয়??আপনাদের বাসায় থাকি বলে আমার সাথে যখন যা ইচ্ছা তাই করবেন??অবশ্য আপনাদের মত বড় লোকদের থেকে এর থেকে আর বেশি কি বা আশা করা যায় বলুন??।সাহিল আমাকে একটা কিস করেছে তাতে আপনার এগ রাগ।অবস্য আপনার রাগ তো হওয়ারই কথা আপনার শিকারে হাত বসিয়েছে। প্রতিনিয়ত আপনি আমার সাথে যা করেন তার বেলায় তো কিছুই না?সাহিল আপনার থেকে হাজারগুন ভাল।আপনার মত ওর আমার শরীরের উপর কোন মোহ নেই
আপনাদের খাই পড়ি বলে এখন আপনাকে আমার শরীরটাও বিলিয়ে দিতে হবে তাই তো??
কথাটা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ঈশান সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশাকে থাপ্পড় মারলো
ঈশান:তোর সাহস কি করে হয় আমার সাথে এভাবে কথা বলার??
ঈশান:ও আমি তো ভুলেই গেছি আশ্রিতাদের তাদের মনিবের সাথে গলা উচু করে কথা বলতে নেই।যদি সেই মনিব বিছানাতেও টেনে নিয়ে যায় তাও নয়
ঈশান:ঈশা লিমিট ক্রোস করিস না
ঈশা:কি করবেন?শাস্তি দিবেন??অবস্য এর থেকে ভাল আপনি আর কিইবা পাড়েন??
ঈশান:বাহ!!কি সুন্দর মাত্র দুমাসের পরিচয়েই ওই ছেলেটা আপন হয়ে গেলো।আর আমি খারাপ হয়ে গেলাম।
কেনো আমি এমন করি একবারও কি বুঝতে চেয়েছিস??আরে আমার যদি তোর শরীরের প্রতি এতই মোহ থাকতো তাহলে তুই এখনো ভাল থাকতে পারতি না।সবসময় যাতে তোর কোন বিপদ না হয় ওই জন্য আগলে রাখার চেষ্টা করি
ঈশা:আমি তে বলিনি আমাকে আগলে রাখেন।তাহলে.....
ঈশান:ভালবাসি বলেই তো আগলে রাখি।ভালবাসি বলেই সবসময় শাসন করি।ভালবাসি বলেই বারবার ম্যাসেজ দিয়ে জানতে চাই সব ঠিক আছে কিনা।ভালবাসি বলেই সব প্রতিকূলতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাই।ভালবাসি বলেই সাঝতে বারন করি।ভালবাসি বলেই এত কেয়ার করি।ভালবাসি বলেই কেউ চোখের সামনে কিস করলে কষ্ট হয়।ভালবাসি বলেই কেউ হা করে তাকিয়ে থাকলে সহ্য হয় না খুব কষ্ট হয় এই কষ্ট পাওয়াটা কি আমার অপরাধ??? (বিছানায় বসে একদমে কথা গুলো বলে থামলো ঈশান।)
ঈশা ঈশানের কথা গুলো শুনে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে।ঈশানের চোখে পানি টলমল করছে।চোখের পানি পরে যাওয়ার আগেই হাত দিয়ে মুছে ফেললো ঈশান।ঈশার এই মূহুর্তে খুব খারাপ লেগছে।এত বছরে ঈশা কখনো ঈশানকে কাঁদতে দেখেনি।ঈশা আস্তে আস্তে এগিয়ে গিয়ে ঈশানের পাশে বসলো....
ঈশান সেখান থেকে চলে যেতে নিলেই ঈশা ঈশানের হাতটা ধরে ফেললো..
ঈশা:সরি
ঈশান:সরি বলার কি আছে। তুই এখান থেকে যা এখানে থাকাটা তোর জন্য রিস্কি।বলা তো যায় না কখন কি হয়ে যায়
ঈশা:সরি। আমার ভুল হয়ে গেছে
ঈশান:তোর কোন ভুল হয়নি।যা ভুল করেছি সব আমার ভুল। চিন্তা করিস আর তোকে ডিস্টার্ব করবো না। আজ থেকে তুই মুক্ত। তোর যা ইচ্ছা করতে পারিস...
ঈশা:প্লীজ আমায় ক্ষমা করুন
ঈশান:অনেক হয়েছে তুই এখন বের হ এই রুম থেকে
ঈশা:আমি যাব না যতক্ষণ না আপনি আমায় ক্ষমা করুন😭😭😭😭
ঈশান:ওকে তোর যেতে হবে না।বলেই ঈশাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে রুমের বাহিরে বের করে দেয়।এরপর ঈশান ঈশার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়
ঈশান রুমের মধ্যের সব কিছু ভাংচুর শুরু করে দেয়।ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় ঘুসি দিয়ে আয়নাটা ভেঙ্গে ফেলে।হাত কেটে রক্ত পরতে থাকে ঈশানের।
ঈশা:প্লীজ দরজাটা খুলুন😭😭😭
ঈশান:.......
ঈশা:বড় মা তাড়াতাড়ি উপরে চল ঈশান ভাইয়া সব ভেঙ্গে ফেলছে
সবাই দৌড়ে উপরে আসলো.......
রেহানা চৌধুরী:দাদুভাই দরজাটা খোল না।কি হয়েছে দাদুকে বলবি না
ঈশান:দাদু তুমি এখন এখান থেকে যাও আমার একটুও ভাললাগছেনা
বড় মা:বাবা দরজাটা খোল
সবার অনুরোধে শেষমেশ দরজা খুললো।সাথে সাথে সবাই রুমে ঢুকলো। ঈশাও ওদের সাথে ঢুকলো।সব কাচ ছড়িয়ে সিটিয়ে পরে আছে
বড় মা:তুই এসব কি করেছিস ঈশান??
ঈশান:তোমরা কি প্রশ্ন করার জন্যই দরজা খুলতে বলেছো
তখনি রেহানা চৌধুরী দেখলো ঈশানের হাত কেটে রক্ত পরছে।
রেহানা চৌধুরী:দাদুভাই হাত কাটলি কিভাবে??বলেই ঈশানের হাতটা ধরলো
ঈশান:কিচ্ছু হয়নি। বলেই হাতটা ছাড়িয়ে নিলো
বড় মা:কিচ্ছু হয়নি বললেই হলো।দেখি ব্যান্ডেজ করে দেই।(এরপর মিলিকে ফাস্টএইড বক্স আনতে বললো)
ঈশান :লাগবে না
বড় মা:থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব।বেশি বড় হয়ে গেছিস
মায়ের বকুনি খেয়ে চুপ করে রইলো ঈশান।এরপর ওর মা হাতটা ব্যান্ডেজ করে দিলো
চলবে,,,,,,
মায়াবতী পর্ব :৪ মায়াবতী পর্ব :৪ Reviewed by EasyTalk on 10:47 PM Rating: 5

মায়াবতী পর্ব :৩

10:42 PM

মায়াবতী
পর্ব :৩
লেখা:Khayrun Nessa Ripa

ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে....
ঈশা:বড় মা,ছোট মা,দাদু আমি যাচ্ছি
বড় মা:যাচ্ছি বলতে নেই মা।বল আসছি।(মাথায় হাত ভুলিয়ে)
ঈশা:আচ্ছা😊😊
বড় মা:ঈশা শোন
ঈশা:কিছু বলবে বড় মা??
বড় মা: হুম এদিকে আয়
ঈশা কাছে আসতেই
বড় মা:মাশআল্লাহ আমার মেয়েটাকে খুব সুন্দর লাগছে(কপালে চুমু দিয়ে।এরপর নিজের চোখ থেকে কাজল নিয়ে ঈশার কানের নিচে লাগিয়ে দিলো)বলা তো যায় না কার আবার নজর লেগে যায়।
ঈশান:মা আর কারো নজর লাগবে কিনা জানি না।তবে তোমার ছেলের নজর লেগে গেছে😜😜(হাত দিয়ে মাথার পেছনে চুল গুলো নাড়তে নাড়তে বললো)
এরপর ঈশান ওদেরকে স্কুলে পৌছে দিয়ে। নিজের ভার্সিটিতে চলে গেলো
ঈশানের অল ফ্রেন্ড সার্কেল :হাই ব্রো??এতক্ষণে আপনার আসার সময় হলো
ঈশান:মিলি আর ঈশাকে স্কুলে দিয়ে আসতে গিয়ে লেট হয়ে গেছে
তখনি ঈশানের বেষ্ট ফ্রেন্ড রবি বলে উঠলো...
রবি:এই ঈশাটা আবার কে??আমি তো জানি তোর একটাই বোন মিলি
ঈশান:ও আমাদের বাড়িতেই থাকে(এরপর ঈশান ওর ফ্রেন্ডদেরকে সব খুলে বললো)
রবি:যাক খুব ভালই করেছিস।
ঈশা:দোস্ত তোদের কাছে একটা solution চাইবো।সঠিক সমাধান দিবি??
রিহান:বল।ট্রাই করে দেখি পারি কিনা(ঈশানের অন্য এক ফ্রেন্ড)
সব ফ্রেন্ড :হুম বল।দেখি কোন সমাধান দিতে পারি কিনা
ঈশান:জানিস আমি না কনফিউশনে আছি নিজেই বুঝতে পারছি না।তাই তোদের কে বলছি
অন্যদিকে গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে ঈশা একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেলো
ঈশা:সরি।আসলে আমি না খেয়াল করি নি।প্লীজ কিছু মনে করবেন না(কিছুটা ভয় পেয়ে)
কিন্তু ছেলেটার সেদিকে কোন খেয়ালই নেই।সে তো ঈশাকে দেখেই ফিদা হয়ে গেছে।ঈশা যে এত কথা বললো একটা কথাও ছেলেটার কানে ঢুকলো না(ছেলেটা হল সাহিল।ক্লাস টেনের ফার্স্ট বয়)তখনি সাহিলের ফ্রেন্ড সুমন বললো...
সুমন:কি রে কি হলো তোর??ক্লাসে চল
সাহিল:দোস্ত আমাকে একটা চিমটি কাট
সুমন:এই কি হয়েছে তোর বল তো??
সাহিল:আরে আগে চিমটি কাট তো
সুমন বেশ জোড়েই একটা চিমটি কাটলো
সাহিল:আউচ। এত জোড়ে কেউ চিমটি কাটে??
সুমন:তুইই তো বললি।এখন বল কি হয়েছে??
সাহিল:দোস্ত আমি প্রেমে পরে গেছি।
সুৃমন:কিসব বলছিস??।যে ছেলে ভুলেও মেয়েদের দিকে তাকায় না।সে নাকি প্রেমে পরছে 😒😒।ভুতের মুখে রাম নাম
সাহিল:আমি সিরিয়াস
এমন কথা শুনে কিছুটা দ্বিধাদন্ধে পরে গেলো সুমন
সুমন:কিন্তু মেয়েটা কে??
সাহিল:কিচ্ছু জানি নি।একটু আগেই ধাক্কা লাগলো মেয়েটার সাথে।বিশ্বাস কর আমি জীবনেও এমন সুন্দরী মেয়ে দেখিনি।কিভাবে যে তোর কাছে বর্ননা করবো আমি জানি না
সুমন:ধাক্কা লাগলো আর ওমনি প্রেমে হয়ে গেলো।হাউ ফানি!!!বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো😂😂😂
সাহিল:আমি মোটেও মজা করছি না(রেগে গিয়ে)
সুমন:আচ্ছা সরি।কিন্তু মেয়েটার নাম কি?কোন ক্লাসে পড়ে কিছুই তো মনে হয় জানিস না??
সাহিম:হুম।প্লীজ দোস্ত তুই মেনেজ করে দে।প্লীজ প্লীজ
সুমন:আচ্ছা। এত প্লীজ প্লীজ করতে হবে না।এখন ক্লাসে চল
ঈশান বলতে শুরু করলো
ঈশান:জানিস আমি না সবসময় একজনকে নিয়ে ভাবি।তাকে সারাক্ষণ চোখের সামনে দেখতে ভাল লাগে।দূরে গেলেই কি রকম অসহ্য লাগে।মনে হয় তাকে হারিয়ে ফেলবো।আবার ও কোন ভুল করলেও খুব রেগে যাই আমি।শাস্তিও দেই।কিন্তু ও আমাকে খুব ভয় পায়।আমার সামনে আসলেই কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়।আমার না খুব ভাল লাগে ওর এই বোকা বোকা ভয় পাওয়া দেখে।কিন্তু আমি বুঝতেই পারছি না কেনো আমার ওর জন্য এইরকম ফিলিংস হয়
রিহান:এই শোন না আমি না প্রেম প্রেম গন্ধ পাচ্ছি 😜😜
তুষার:আমিও😜😜
রবি:তা মেয়েটা কে??
রিহান:হুম মেয়েটা কে শুনি😜😜
ঈশান:ঈশা
সবাই কথাটা শুনে বড় রকমের একটা শক খেলো।একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলো ওরা
রবি:কি বলছিস তুই!!!??
ঈশান:আমি নিজেও সিউর নই।যে আধেও আমি ঈশাকে ভালবাসি কিনা
রবি:তুই সিউর না হলেও আমি সিউর যে তুই ওকে ভালবেসে ফেলেছিস।কিন্তু কোথায় তুই আর কোথায় ঈশা একবারও কি ভেবে দেখেছিস??
ঈশান :আমি তো ঈশাকে ভালবাসি না
রবি:তুই হয়ত এখনো বুঝতে পারছিস না।কিন্তু তুই যা বলছোস তাতে এটাকে আমি ভালবাসা ছাড়া আর অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।কিন্তু কথা হলো ঈশাকে তোর পরিবার কখনো মানবে না।তোদের যেই ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আর ঈশা ওর তো কোন পরিবারই নেই।যতই তোর পরিবার ওকে মেয়ের মত জানে না কেনো??যখন জানবে তুই ঈশাকে ভালবাসিস সেটা কখনো তারা মেনে নেবে না।বিশেষ করে তোর বাবা।যা রাগী উনি
তুষার:আমিও রবির সাথে একমত।তুই ওকে ভালবাসলে দূজনেই শুধু শুধু কষ্ট পাবি
ঈশান:আরে চিন্তা করিস না।আমি ওকে ভালবাসবো না
রবি:না বাসলেই ভালো। আর তোর এসব ফিলিংসের কথা যেন ভুলেও ঈশা কখনো জানতে না পারে
ঈশান:জানবে না চিন্তা করিস না।
রিহান:মেয়েটার কোন পিক আছে তোর কাছে
ঈশান:কেনো??
রিহান:প্রেম করবো।তুই যেভাবে ওর সুন্দরেরর কথা বলছিস আমি তো শুনেই প্রেমে পরে গেলাম
রবি:সালা তোর খালি প্রেম।চল ক্লাসে
সবাই ক্লাসে চলে গেলো
সুমন:কিরে তুই আজ ক্লাসে এত অমনোযোগী কেনো??
সাহিল:দোস্ত আমার না কিছুই ভাল লাগছে না।ওকে দেখার পর থেকে
সুমন:চিন্তা করিস না।ক্লাস শেষে আমি খোজ নিয়ে দেখবো
সাহিল:প্লীজ একটু তাড়াতাড়ি করিস
ঈশাদের ক্লাসে
মিলি:জানো আপু আজ তুমি যার সাথে ধাক্কা খেলে সেই ছেলেটা ক্লাস টেনে পড়ে।অনেক ভাল ছেলেটা।ভুলেও কোন মেয়ের দিকে তাকায় না।স্কুলের প্রায় অনেক মেয়েই ওর জন্য পাগল।এ পর্যন্ত যে ও কত প্রপোজাল পেয়েছে তার হিসেবই নেই।খুব ভাল লাগে সাহিল ভাইয়াকে
ঈশা:সাহিল কে??
মিলি:এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তার নামই সাহিল
ঈশা:তা তুমিও কি ওর জন্য পাগল😜😜
মিলি:উফ আপু আমি কি একথা বলছি🙊🙊
ঈশা:হইছে গো আর ঢং দেখাতে হবে না😉😉
মিলি:😊😊
স্কুল ছুটি পর
সুমন:এই মিলি শোনো
মিলি:জি ভাইয়া। কিছু বলবেন
সুমন:তোমার সাথে মেয়েটা কে??
মিলি:আমার ঈশা আপু।
সুমন:বুজলাম তোমার আপু।কিন্তু কিরকম আপু
মিলি:আমার আপন বোন(মিলি চায়না সত্যিটা বাহিরের কেউ জানুক)
সুমন:ওও।কিন্তু তুমি তো ওকে আপু ডাকছো। তো তোমার আপু আর তুমি কি করে এক ক্লাসে পড়ো
মিলি:আসলে আপুর একটা প্রবলেম হইছে।তাই এক ক্লাস পিছিয়ে গেছে(কি আর বলবে??তাই এমনটা বললো)
ঈশান:উঠিরে দোস্ত।ওদের নিয়ে আবার বাসায় যেতে হবে
রবি:যা।তবে এমন কোন ভুল করিস না যাতে সবাই কষ্ট পায়.কেমন??
ঈশান:ওকে।গাড়ীতে উঠতে উঠতে বললো
রিহান:আমার আর ঈশার ব্যাপারটা একটু দেখিস
ঈশান:লাত্থি খাবি।সালা দূরে গিয়া মর
সুমন:একটু ওকে ডাকতে পারবে
মিলি :কেনো??
সুমন কথা ছিলো
মিলি ঈশাকে ডাকতে গেলো
সুমন:এই সাহিল এইদিকে আয়
সাহিল:কিরে সব জানতে পারছিস তো
সুমন:হুম।এখন তুই ওর সাথে কথা বল।আমি মিলিকে দিয়ে ওকে ডাকতে পাঠাইছি
সাহিল:না রে।আমার কি রকম যেন লজ্জা লাগছে।তুইই আমার হয়ে ওকে বলে দে
সুমন:ইশ প্রেম করবে উনি আর প্রস্তাব দেব আমি😒😒লজ্জাবতী আইছে রে
সাহিল:আরে রাগ করোস কেন?/একটু ম্যানেজ কর না
সুমন:পারব না।ওই তো ওরা আসছে। যা বলার তুইই বলবি।আমি গেলাম
সাহিল:প্লীজ তুই যাস না।আমার না ভয় করতাছে
সুমন:সালা প্রেম করবি।এত ভয় কিসের
মিলি আর ঈশা কাছে আসতেই
সাহিল:আমি একটু ওর সাথে একা কথা বলতে চাই(মিলিকে উদ্দেশ্য করে)তখনি মিলি চলে যাচ্ছিলো
ঈশা:না ও কোথাও যাবে না।যা বলার ওর সামনেই বলুন
সাহিল:ওকে।কি নাম তোমার??
ঈশা:ঈশা
সাহিল:ওয়াও নাইচ নেম।তুমি যেমন মিষ্টি। নামটাও তেমন মিষ্টি
ঈশা:মানে??
সাহিল:মানে কোন ক্লাসে পড় তুমি
ঈশা:ক্লাস এইটে।আর কিছু বলবেন😡😡
সাহিল:না মানে...
ঈশা:মিলি চলো।আর কোন কথাই সাহিলকে বলতে দিলো না।দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখলো ঈশান
মিলি:আপু দেখো ভাইয়া কেমন রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।আমার না খুব ভয় লাগছে
ঈশা:আল্লাহ গো বাঁচাও(মনে মনে)
মিলি:আপু কিছু বলছো না কেনো(ভয়ে ভয়ে)
ঈশা:চিন্তা করো না।কিচ্ছু বলবো না(মিথ্যা আশ্বাস)
ঈশানের কাছে যেতেই
ঈশান:কয়টা কল দিয়েছি তোদের😡
ওরা দূজন তাড়াতাড়ি ফোন চেক করলো।দুজনেই দুজনের দিকে তাকাচ্ছে আর ভয়ে ভয়ে ঢোক গিলছে
ঈশান:কি হলো কথা বলছিস না কেনো
মিলি:আসলে ভাইয়া ফোন সাইলেন্ট করা ছিলো
ঈশান:কেনো😡??
মিলি:ক্লাসে ছিলাম তাই😞
ঈশান :ক্লাস থেকে বের হইছোস তাও আধা ঘন্টা হইছে।এখনও তোদের ফোন সাইলেন্ট থাকবে কেনো
এরপর দুজনেই একসাথে সরি বললো।ঈশান আর কিছু বললো না।শুধু রাগী লুক নিয়ে ঈশার দিকে তাকালো। সন্ধার পর
সবাই বসে একসাথে নাস্তা করতেছে
বড় মা:কিরে ঈশা কেমন লাগলো স্কুলের প্রথম দিন??
ঈশা :অনেক ভালো।
মিলি:জানো বড় মা। এরমধ্যেই অনেকজন ঈশা আপুকে প্রপোজ করে ফেলছে(কথাটা বলেই জিভে কামড় দিলো মিলি।ঈশা অনেকবার করে মিলিকে বলেছে এসব কথা ভুলেও যেন ঈশানের সামনে না বলে)
কথাটা শুনেই ঈশা তাড়াতাড়ি ঈশানের দিকে তাকালো।দেখলো ঈশান বেশ ফুরফুরে মেজাজে চা খাচ্ছে। ঈশা কিছুটা চিন্তা মুক্ত হলো।মিলি ঈশারায় ঈশাকে সরি বললো
দাদু:আমার নাতনি যেই সুন্দরী। ওকে দেখলে তো সবারই মাথা ঘুরে যায়।এবার কিছুটা লজ্জা পেলো ঈশা
বড় মা:একদম ঠিক বলেছো মা।এই ঈশা একদম সাবধানে থাকবি কখন আবার কার কু নজর লেগে যায় বলা তো যায় না
ঈশাও মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
ঈশান নাস্তা শেষে উঠতে উঠতে ঈশাকে বললো ওর রুমে বই নিয়ে পড়তে যেতে
ঈশা দরজায় নক করতেই
ঈশান:হুম আসুন (গম্ভীর গলায়)
ঈশা এসে রুমের এককোনে দাঁড়ালো
ঈশান বসতে বলতেই একটা চেয়ার টেনে বসে পরলো।ঈশানও ওর সামনে বসলো
ঈশান:ছেলেটা কে ছিলো(বেশ শাম্ত গলায়)
ঈশা:কো...কো...কোন ছেলে
ঈশান:আমি তোতলাতে বলিনি।জাষ্ট একটা সিমপল প্রশ্নের উত্তর চাইছি
ঈশা:সাহিল
ঈশান :এই সাহিলটা কে??
ঈশা:ক্লাস টেনের ফার্স্ট বয়।
ঈশান:বাহ!!স্কুলে পা না রাখতেই ক্লাস টেনের ভাইয়ার সাথে ভাব হয়ে গেছে।কি চমৎকার!!!
ঈশা ভয়ে চুপ করে আছে
ঈশান:চুপ করে আছিস কেনো??
ঈশা:আমি নিজে থেকে কথা বলিনি।ওই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে
ঈশান:ওয়াও গ্রেট!! একদিনেই ও হয়ে গেলো!
ঈশা:না মানে
ঈশান:বেচ। আর বলতে হবে না আপনাকে
ঈশা:আসলে
ঈশান :আমি আর কিছু শুনতে চাই না।এখন পড়া শুরু করুন
ঈশান আর কোন রাগ দেখালো না ঈশাকে পড়াতে লাগলো।অনেক্ষন পড়ানো শেষে ঈশা যখন ওর রুমে যাচ্ছিলো
ঈশান:তা সাহিল তোকে দেখলো কিভাবে??
ঈশা:গেট দিয়ে ঢোকার সময় ওনার সাথে ধাক্কা লাগে
ঈশা:কি করে ধাক্কা লাগলো
ঈশা:আসলে ওড়নাটা ঠিক করতে করতে হাটছি....
ঈশাকে আর কথাটা শেষ করতে দিলো না।ঈশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর ওড়না টেনে ফ্লোরে ফেলে দিলো
ঈশান:এই ওড়নাটাই যত নষ্টের গোড়া।আর তোমার চোখ নেই??চোখ কি কপালে তুলে হাটছিলে যে ওই ছেলেটার সাথে ধাক্কা লাগলো?(ঈশার দুই বাহু ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে বললো।আর ঈশা চোখ বন্ধ করে দুইহাত দিয়ে নিকেলে আকড়ে রেখেছে)
ঈশা:...
ঈশান:কি হলো এখন কথা বলছেন না কেনো??তখন তো দেখলাম বেশ ভালই কথা বলছিলেন(ঈশান খেয়াল করে দেখলো ঈশা দুইহাত আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।তাড়াতাড়ি ঈশাকে ছেড়ে দিয়ে ফ্লোর থেকে ওড়নাটা তুলে ঈশাকে পড়িয়ে দিলো)
ঈশান :সরি(রাগ উঠলে কি করবে না করবে কিছুই মাথায় থাকে না)
ঈশা আর একমুহূর্তও দাঁড়ালো না দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো
ঈশান :উফ সিট কি করলাম আমি।?? এই মেয়েটা নির্ঘাত আমায় পাগল করে ছাড়বে। কেনো ভাবছি আমি ওকে নিয়ে??।ও যার সাথে ইচ্ছা কথা বলুক তাতে আমার কি??(নিজে নিজেকে প্রশ্ন করলো।)
ঈশা রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলো
মিলি:আপু দরজাটা খোলো
ঈশা:😭😭😭😭
মিলি:ঈশা আপু প্লীজ দরজাটা খোল
ঈশ দরজাটা খুলে দিলো
মিলি:তুমি কাঁদছো কেনো?
ঈশা :কই কাঁদছি না তো
মিলি:সরি আপু আমি জানি আমার ওই কথাটা শুনে ভাইয়া তোমায় রাগ করেছে
ঈশা:কই না তো।এমনিই মা বাবার জন্য কাঁদছিলাম
মিলি:প্লীজ মন খারাপ করো না
ঈশান:হ্যালো রবি
রবি:কি রে এত রাত কেনো ফোন করেছিস??
ঈশা:দোস্ত আমি আজও ঈশাকে অনেক রাগ করেছি (তারপর যা যা করলো সব খুলে বললো)
রবি:এখনো সময় আছে তুই নিজেকে পাল্টা না হলে পরে বিপদে পরে যাবি
ঈশান:মনে হয় সম্ভব না।আমি ওকে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।
রবি:অন্য মেয়েদের সাথে কিছুদিন টাইম পাস কর দেখবি তুই ঈশাকে ভুলে গেছিস
ঈশান:ওকে ট্রাই করবো
প্রায় অনেকদিন হয়ে গেলো ঈশান আগের মত ঈশাকে রাগ করে না।নিয়মিত ঈশাকে পড়ায়।ঈশাও কিছুটা চিন্তামুক্ত ঈশানের রাগ না হওয়া দেখে
ঈশা ঈশানের সামনে বসে পড়ছে।পড়ার মধ্যে থাকলে ঈশার আর দুনিয়ার খেয়াল থাকে না।ঈশার ওড়নাটা যে সেই কখন গলা থেকে অনেকটা নিচে নেমে গেছে সেদিকে ঈশার একটুও খেয়াল নাই।হঠাৎ ঈশানের নজর পরতেই ঈশান চোখ সরিয়ে নেয়।কিরকম একটা অস্বস্তি কাজ করছে ঈশানের মধ্যে।এরই মধ্যে ঈশা বলে উঠলো
ঈশা:ভাইয়া এই পড়াটা একটু বুঝিয়ে দিন
এখন ঈশান না চাইতেও বারবার ঈশার দিকে নজর চলে যাচ্ছে।পড়া বুঝানো শেষে
ঈশান:তোর অাংক বইটা নিয়ে আয়
ঈশা:এই তো অংক বই(বইটা এগিয়ে দিয়ে)
ঈশান :না মানে ইংরাজি বই....
বলার আগেই ঈশা ইংরেজি বইটাও এগিয়ে দিলো।এবার ঈশান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না
ঈশান :ওড়না কেউ এভাবে পড়ে(কিছুটা রেগে গিয়ে)ঈশাও নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় মরে যাওয়ার মত অবস্থা। তাড়াতাড়ি ওড়নাটা ঠিক করে নিলো
ঈশা:পানি খাব(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:হুম
ঈশা তাড়াতাড়ি নিজের রুমে চলে গেলো।ঈশা চলে যেতেই ঈশান ঈশার ম্যাথ খাতাটা নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে লাগলো।তখনি ঈশানের চোখ আটকে গেলো খাতার একটা পেজে।যেখানে ঈশানের খুব সুন্দর একটা ছবি আকা।ছবিটার নিচে দিয়ে লিখা গোমড়ামুখো,তার নিচে লেখা আমার ডেভিল টিচার, বজ্জাতের হাড্ডি তার পাশেই হাসির কয়েকটা ইমোজি দেওয়া।না চাইতেই ঈশানের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।পরক্ষনেই আবার রাগ হলো এটা ভেবে ঈশা ওকে ডেভিল আর বজ্জাত বলেছে।ঈশা যে সেই রুম থেকে বেরুলো আসার কোন নামই নিচ্ছে না।
ঈশান:ঈশা,ঈশা,এই ঈশা...
ঈশা ঈশানের ডাক শুনেই চিন্তায় পরে গেলো আসবে কি আসবে না।পরক্ষনেই ভাবলো না গেলেই তো আবার কোন শাস্তি দাঁড়িয়ে যায় বলা তো যায় না।তাই তাড়াতাড়ি ওড়নাটা ভালভাবে ঠিক করে পা বাড়ালো ঈশানের রুমের দিকে
ঈশান:এতক্ষণ কি করছিলি??
ঈশা:পানি খাচ্ছিলাম (ভয়ে ঢোক গিলতে গিলতে বললো)
ঈশান:আমাকে কি তোর পাগল মনে হয়??
ঈশা:জীবনেও না
ঈশান:তাহলে ডাকছিলাম সাড়া দিচ্ছিলি না কেনো
ঈশা:শুনতে পাই নাই😞😞
ঈশান:তা মহারানী বসুন
ঈশা চেয়ার টেনে বসে পরলো
ঈশান:আচ্ছা ঈশা আমাকে কি দেখতে গোমড়ামুখোদের মত মনে হয়?
ঈশা :উহুম(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:ওও মনে হয় না??
ঈশা মাথা নাড়িয়ে না বলে দিলো
ঈশান:আমি কি ডেভিল,বজ্জাত হ??
ঈশা:না না আপনি এসব হতে যাবেন কেনো??আপনি তো অনেক ভালো(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:তাই??
ঈশা:হু...হু...হুম
ঈশান:এত ভয় পাচ্ছিস কেনো?
ঈশা:ক...কইই ভয় পাচ্ছি না তো
ঈশান:ঘামটা মুছে নে(একটা রুমাল এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:লা..লা...লাগবে না (বলেই ওড়না দিয়ে ঘাম মুছতে লাগলো)
ঈশা ঘাম মুছছিলো।ঈশান যে কখন ঈশার পিছে এসে ঈশার ঘারের কাছে মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকেও ঈশার কোন খেয়ালই নেই। ঈশা তো ঘাম মুছতেই ব্যস্ত।তখনি ঈশান ঈশার পিছন থেকে হাত দুটো সামনে নিয়ে ঈশার ঠিক মুখের সামনে খাতাটা মেলে ধরলো।ঈশা খাতাটার দিকে চোখ পড়তেই তাড়াতাড়ি পেছন দিকে তাকাতেই ঈশানের মুখের সাথে ঈশার মুখটা লেগে গেলো।ঈশান রাগী চোখে ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে। ঈশা তাড়াতাড়ি মুখটা সামনে ফিরিয়ে নিলো
ঈশান:ছবিটা আঁকছে কে??
ঈশা:আ...আমি
ঈশান:ওয়াও। অনেক সুন্দর হইছে।কিন্তু নিচের লিখাগুলো লিখছে কে??
ঈশা উঠতে নিলো তখনি ঈশান ওকে বসিয়ে দিলো
ঈশা:প্লীজ আমায় ক্ষমা করুন।আমার ভুল হয়ে গেছে(কাদো কাদো গলায়)
ঈশান:তুই জানিস না আমার লিষ্টে ক্ষমা বলতে কিচ্ছু নাই।আর এমনিতেই তো তুইই বললি আমি ডেভিল,বজ্জাত। আর আমার মনে হয় তুই এটাও জানিস যে ডেভিল, বজ্জাতেরা কত খারাপ হয়(ঈশার ঘারে মুখটা রেখে বললো)
ঈশা:আপনি এখন আমায় শাস্তি দিবেন??
ঈশা:হুম দেবো তো।যাতে পরেরবার আমাকে এসব কথা বলার আগে তুই একশোবার ভাবিসস(খুব শান্ত গলায়)
ঈশা:বলুন আমায় কি করতে হবে??।আমি এক্ষুনি করে দিচ্ছি😞😞
ঈশান:বেশি কিছু না জাস্ট একটা ছোট্ট কাজ করতে হবে(ঈশার সামনে মুখটা নিয়ে)
ঈশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো
ঈশা:প্লীজ আপনি একটু দূরে যান। আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো
ঈশান:দূরে গেলে হবে না তো
ঈশা:মানে??
ঈশান:মানে খুব সোজা😜😜(ঈশান হাত দিয়ে ঈশার ঠোট ছুয়ে বললো ঈশানের ঠোঁটে কিস করতে হবে)
ঈশা:পারব না আমি (চোখ দুটো বড় বড় করে বললো)
ঈশান:না পারলে তো আমাকে অন্য ব্যবস্থা নিতে হবে😜😜
ঈশা:অন্য ব্যবস্থা মানে(এবার মনে হয় কেঁদেই দিবে)
ঈশান:এটার থেকেও বড় কিছু।আর তুই তো জানিসই ডেভিলরা কত খারাপ হয়😜😜(শয়তানি হাসি হেসে)
ঈশা: আমার ভুল হয়ে গেছে আর কক্ষনো এমন বলবো না।প্লীজ এবার ক্ষমা করে দিন
ঈশান:ঈশা আমি কিন্তু এবার রেগে যাচ্ছি। আর যদি আমার রাগ বেড়ে যায় তাহলে কি যে হবে ঈশা আমি সেটাই ভাবছি😜😜😜
ঈশা:প্লীজ ভাইয়া
ঈশান:আজ মনে হয় তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ঈশা😜😜
ঈশা:😭😭😭😭
ঈশান:আজ কেঁদেওও কোন লাভ হবে না রে।আমি যা বলছি তা কর নয় তো আমি যা করবো তাতে কিন্তু আমার একটুও দোষ হবে না। কারন আমি তো ডেভিলই তাই না??😜😜😜
ঈশা:আমি রাজি😭😭(চোখ বন্ধ করে)
ঈশান:ওকে😜😜(বলেই ঠোটজোড়া ঈশার সামনে এগিয়ে ধরলো)
ঈশাও চোখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে নিজের ঠোট জোড়া ঈশানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো...।তখনি.....
মিলি:ঈশা আপু
ঈশান তাড়াতাড়ি ঈশার থেকে সরে গেলো যাওয়ার আগে শুধু বললো
ঈশান:ভাগ্য ভালো তোর।তবে নেক্সট টাইম এমন ভুল যেন না হয়
ঈশা অনেক খুশি হলো।রুমে থেকে বেরিয়েই মিলিকে জড়িয়ে ধরে অনেকগুলে ধন্যবাদ দিলো
মিলি:কি ব্যাপার আপু তুমি আজ আমাকে এত ধন্যবাদ দিচ্ছো কেনো??
ঈশা:মিলি তুমি নিজেও জানো না আজ তুমি ঠিক কত বড় বিপদ থেকে আমায় বাচিয়েছো(বলেই নিজের রুমে গিয়ে ঈশাকে নিয়ে নাচতে লাগলো।)
ঈশান রুমের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলো।আর সবটা শুনলো
ঈশান:যত খুশি নেচে নাও।আমারও দিন আসবে তখন আর রক্ষে থাকবে না
মিলি:তা কি বিপদ থেকে বাঁচালাম জানতে পারি কি??
ঈশা:তুমি কি চাও ওই ভয়ংকর কথা মনে করে আমি আবার কষ্ট পাই😖😖
মিলি:মোটেও না।আর জানতে চাইবো না😊😊
ঈশা:অনেক ধন্যবাদ😊😊।কিন্তু ডাকছিলে কেনো??
মিলি:আপু সাহিল ভাইয়া ফোন করছে
ঈশা:কেনো??আমি তো ওকে নাই বলে দিয়েছি
মিলি:একবার কথা বলতে চায়।তাই আমি তোমার ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছি
ঈশা :কেনো দিছো??।ঈশান ভাইয়া কাউকেই ফোন নাম্বার দিতে বারন করছে।তাও তোমাকে দিছি আর তুমি সাহিলকে দিয়ে দিছো।যদি ও ফোন করে তখন কি হবে???ঈশান ভাইয়া তো জেনে যাবে
মিলি :আরে চিন্তা করো না।জানবে না।আর তুমি চাইলে সাহিল ভাইয়ার সাথে প্রেম করতে পারো।যা হ্যান্ডসাম উনি😊😊।আমাকে বললে তো আমি প্রথমেই রাজি হয়ে যেতাম
ঈশা:হুম।আমি প্রেম করি আর তোমার বজ্জাত ভাই আমার বারোটা বাজাক
মিলি :উফ আপু তুমি ভাইয়াকে এত ভয় পাও কেনো??
ঈশা:ভয় না পেয়ে উপায় আছে??আজ যে শাস্তি দিতে চললো।ভাগ্যিস.....
মিলি:কি?
ঈশা:না না।কিছু না
মায়াবতী পর্ব :৩ মায়াবতী পর্ব :৩ Reviewed by EasyTalk on 10:42 PM Rating: 5

Music

ads 728x90 B
Powered by Blogger.