মায়াবতী পর্ব :৩

মায়াবতী
পর্ব :৩
লেখা:Khayrun Nessa Ripa

ড্রয়িংরুমে সবাই বসে আছে....
ঈশা:বড় মা,ছোট মা,দাদু আমি যাচ্ছি
বড় মা:যাচ্ছি বলতে নেই মা।বল আসছি।(মাথায় হাত ভুলিয়ে)
ঈশা:আচ্ছা😊😊
বড় মা:ঈশা শোন
ঈশা:কিছু বলবে বড় মা??
বড় মা: হুম এদিকে আয়
ঈশা কাছে আসতেই
বড় মা:মাশআল্লাহ আমার মেয়েটাকে খুব সুন্দর লাগছে(কপালে চুমু দিয়ে।এরপর নিজের চোখ থেকে কাজল নিয়ে ঈশার কানের নিচে লাগিয়ে দিলো)বলা তো যায় না কার আবার নজর লেগে যায়।
ঈশান:মা আর কারো নজর লাগবে কিনা জানি না।তবে তোমার ছেলের নজর লেগে গেছে😜😜(হাত দিয়ে মাথার পেছনে চুল গুলো নাড়তে নাড়তে বললো)
এরপর ঈশান ওদেরকে স্কুলে পৌছে দিয়ে। নিজের ভার্সিটিতে চলে গেলো
ঈশানের অল ফ্রেন্ড সার্কেল :হাই ব্রো??এতক্ষণে আপনার আসার সময় হলো
ঈশান:মিলি আর ঈশাকে স্কুলে দিয়ে আসতে গিয়ে লেট হয়ে গেছে
তখনি ঈশানের বেষ্ট ফ্রেন্ড রবি বলে উঠলো...
রবি:এই ঈশাটা আবার কে??আমি তো জানি তোর একটাই বোন মিলি
ঈশান:ও আমাদের বাড়িতেই থাকে(এরপর ঈশান ওর ফ্রেন্ডদেরকে সব খুলে বললো)
রবি:যাক খুব ভালই করেছিস।
ঈশা:দোস্ত তোদের কাছে একটা solution চাইবো।সঠিক সমাধান দিবি??
রিহান:বল।ট্রাই করে দেখি পারি কিনা(ঈশানের অন্য এক ফ্রেন্ড)
সব ফ্রেন্ড :হুম বল।দেখি কোন সমাধান দিতে পারি কিনা
ঈশান:জানিস আমি না কনফিউশনে আছি নিজেই বুঝতে পারছি না।তাই তোদের কে বলছি
অন্যদিকে গেট দিয়ে ঢুকতে গিয়ে ঈশা একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেলো
ঈশা:সরি।আসলে আমি না খেয়াল করি নি।প্লীজ কিছু মনে করবেন না(কিছুটা ভয় পেয়ে)
কিন্তু ছেলেটার সেদিকে কোন খেয়ালই নেই।সে তো ঈশাকে দেখেই ফিদা হয়ে গেছে।ঈশা যে এত কথা বললো একটা কথাও ছেলেটার কানে ঢুকলো না(ছেলেটা হল সাহিল।ক্লাস টেনের ফার্স্ট বয়)তখনি সাহিলের ফ্রেন্ড সুমন বললো...
সুমন:কি রে কি হলো তোর??ক্লাসে চল
সাহিল:দোস্ত আমাকে একটা চিমটি কাট
সুমন:এই কি হয়েছে তোর বল তো??
সাহিল:আরে আগে চিমটি কাট তো
সুমন বেশ জোড়েই একটা চিমটি কাটলো
সাহিল:আউচ। এত জোড়ে কেউ চিমটি কাটে??
সুমন:তুইই তো বললি।এখন বল কি হয়েছে??
সাহিল:দোস্ত আমি প্রেমে পরে গেছি।
সুৃমন:কিসব বলছিস??।যে ছেলে ভুলেও মেয়েদের দিকে তাকায় না।সে নাকি প্রেমে পরছে 😒😒।ভুতের মুখে রাম নাম
সাহিল:আমি সিরিয়াস
এমন কথা শুনে কিছুটা দ্বিধাদন্ধে পরে গেলো সুমন
সুমন:কিন্তু মেয়েটা কে??
সাহিল:কিচ্ছু জানি নি।একটু আগেই ধাক্কা লাগলো মেয়েটার সাথে।বিশ্বাস কর আমি জীবনেও এমন সুন্দরী মেয়ে দেখিনি।কিভাবে যে তোর কাছে বর্ননা করবো আমি জানি না
সুমন:ধাক্কা লাগলো আর ওমনি প্রেমে হয়ে গেলো।হাউ ফানি!!!বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো😂😂😂
সাহিল:আমি মোটেও মজা করছি না(রেগে গিয়ে)
সুমন:আচ্ছা সরি।কিন্তু মেয়েটার নাম কি?কোন ক্লাসে পড়ে কিছুই তো মনে হয় জানিস না??
সাহিম:হুম।প্লীজ দোস্ত তুই মেনেজ করে দে।প্লীজ প্লীজ
সুমন:আচ্ছা। এত প্লীজ প্লীজ করতে হবে না।এখন ক্লাসে চল
ঈশান বলতে শুরু করলো
ঈশান:জানিস আমি না সবসময় একজনকে নিয়ে ভাবি।তাকে সারাক্ষণ চোখের সামনে দেখতে ভাল লাগে।দূরে গেলেই কি রকম অসহ্য লাগে।মনে হয় তাকে হারিয়ে ফেলবো।আবার ও কোন ভুল করলেও খুব রেগে যাই আমি।শাস্তিও দেই।কিন্তু ও আমাকে খুব ভয় পায়।আমার সামনে আসলেই কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়।আমার না খুব ভাল লাগে ওর এই বোকা বোকা ভয় পাওয়া দেখে।কিন্তু আমি বুঝতেই পারছি না কেনো আমার ওর জন্য এইরকম ফিলিংস হয়
রিহান:এই শোন না আমি না প্রেম প্রেম গন্ধ পাচ্ছি 😜😜
তুষার:আমিও😜😜
রবি:তা মেয়েটা কে??
রিহান:হুম মেয়েটা কে শুনি😜😜
ঈশান:ঈশা
সবাই কথাটা শুনে বড় রকমের একটা শক খেলো।একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলো ওরা
রবি:কি বলছিস তুই!!!??
ঈশান:আমি নিজেও সিউর নই।যে আধেও আমি ঈশাকে ভালবাসি কিনা
রবি:তুই সিউর না হলেও আমি সিউর যে তুই ওকে ভালবেসে ফেলেছিস।কিন্তু কোথায় তুই আর কোথায় ঈশা একবারও কি ভেবে দেখেছিস??
ঈশান :আমি তো ঈশাকে ভালবাসি না
রবি:তুই হয়ত এখনো বুঝতে পারছিস না।কিন্তু তুই যা বলছোস তাতে এটাকে আমি ভালবাসা ছাড়া আর অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।কিন্তু কথা হলো ঈশাকে তোর পরিবার কখনো মানবে না।তোদের যেই ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আর ঈশা ওর তো কোন পরিবারই নেই।যতই তোর পরিবার ওকে মেয়ের মত জানে না কেনো??যখন জানবে তুই ঈশাকে ভালবাসিস সেটা কখনো তারা মেনে নেবে না।বিশেষ করে তোর বাবা।যা রাগী উনি
তুষার:আমিও রবির সাথে একমত।তুই ওকে ভালবাসলে দূজনেই শুধু শুধু কষ্ট পাবি
ঈশান:আরে চিন্তা করিস না।আমি ওকে ভালবাসবো না
রবি:না বাসলেই ভালো। আর তোর এসব ফিলিংসের কথা যেন ভুলেও ঈশা কখনো জানতে না পারে
ঈশান:জানবে না চিন্তা করিস না।
রিহান:মেয়েটার কোন পিক আছে তোর কাছে
ঈশান:কেনো??
রিহান:প্রেম করবো।তুই যেভাবে ওর সুন্দরেরর কথা বলছিস আমি তো শুনেই প্রেমে পরে গেলাম
রবি:সালা তোর খালি প্রেম।চল ক্লাসে
সবাই ক্লাসে চলে গেলো
সুমন:কিরে তুই আজ ক্লাসে এত অমনোযোগী কেনো??
সাহিল:দোস্ত আমার না কিছুই ভাল লাগছে না।ওকে দেখার পর থেকে
সুমন:চিন্তা করিস না।ক্লাস শেষে আমি খোজ নিয়ে দেখবো
সাহিল:প্লীজ একটু তাড়াতাড়ি করিস
ঈশাদের ক্লাসে
মিলি:জানো আপু আজ তুমি যার সাথে ধাক্কা খেলে সেই ছেলেটা ক্লাস টেনে পড়ে।অনেক ভাল ছেলেটা।ভুলেও কোন মেয়ের দিকে তাকায় না।স্কুলের প্রায় অনেক মেয়েই ওর জন্য পাগল।এ পর্যন্ত যে ও কত প্রপোজাল পেয়েছে তার হিসেবই নেই।খুব ভাল লাগে সাহিল ভাইয়াকে
ঈশা:সাহিল কে??
মিলি:এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তার নামই সাহিল
ঈশা:তা তুমিও কি ওর জন্য পাগল😜😜
মিলি:উফ আপু আমি কি একথা বলছি🙊🙊
ঈশা:হইছে গো আর ঢং দেখাতে হবে না😉😉
মিলি:😊😊
স্কুল ছুটি পর
সুমন:এই মিলি শোনো
মিলি:জি ভাইয়া। কিছু বলবেন
সুমন:তোমার সাথে মেয়েটা কে??
মিলি:আমার ঈশা আপু।
সুমন:বুজলাম তোমার আপু।কিন্তু কিরকম আপু
মিলি:আমার আপন বোন(মিলি চায়না সত্যিটা বাহিরের কেউ জানুক)
সুমন:ওও।কিন্তু তুমি তো ওকে আপু ডাকছো। তো তোমার আপু আর তুমি কি করে এক ক্লাসে পড়ো
মিলি:আসলে আপুর একটা প্রবলেম হইছে।তাই এক ক্লাস পিছিয়ে গেছে(কি আর বলবে??তাই এমনটা বললো)
ঈশান:উঠিরে দোস্ত।ওদের নিয়ে আবার বাসায় যেতে হবে
রবি:যা।তবে এমন কোন ভুল করিস না যাতে সবাই কষ্ট পায়.কেমন??
ঈশান:ওকে।গাড়ীতে উঠতে উঠতে বললো
রিহান:আমার আর ঈশার ব্যাপারটা একটু দেখিস
ঈশান:লাত্থি খাবি।সালা দূরে গিয়া মর
সুমন:একটু ওকে ডাকতে পারবে
মিলি :কেনো??
সুমন কথা ছিলো
মিলি ঈশাকে ডাকতে গেলো
সুমন:এই সাহিল এইদিকে আয়
সাহিল:কিরে সব জানতে পারছিস তো
সুমন:হুম।এখন তুই ওর সাথে কথা বল।আমি মিলিকে দিয়ে ওকে ডাকতে পাঠাইছি
সাহিল:না রে।আমার কি রকম যেন লজ্জা লাগছে।তুইই আমার হয়ে ওকে বলে দে
সুমন:ইশ প্রেম করবে উনি আর প্রস্তাব দেব আমি😒😒লজ্জাবতী আইছে রে
সাহিল:আরে রাগ করোস কেন?/একটু ম্যানেজ কর না
সুমন:পারব না।ওই তো ওরা আসছে। যা বলার তুইই বলবি।আমি গেলাম
সাহিল:প্লীজ তুই যাস না।আমার না ভয় করতাছে
সুমন:সালা প্রেম করবি।এত ভয় কিসের
মিলি আর ঈশা কাছে আসতেই
সাহিল:আমি একটু ওর সাথে একা কথা বলতে চাই(মিলিকে উদ্দেশ্য করে)তখনি মিলি চলে যাচ্ছিলো
ঈশা:না ও কোথাও যাবে না।যা বলার ওর সামনেই বলুন
সাহিল:ওকে।কি নাম তোমার??
ঈশা:ঈশা
সাহিল:ওয়াও নাইচ নেম।তুমি যেমন মিষ্টি। নামটাও তেমন মিষ্টি
ঈশা:মানে??
সাহিল:মানে কোন ক্লাসে পড় তুমি
ঈশা:ক্লাস এইটে।আর কিছু বলবেন😡😡
সাহিল:না মানে...
ঈশা:মিলি চলো।আর কোন কথাই সাহিলকে বলতে দিলো না।দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখলো ঈশান
মিলি:আপু দেখো ভাইয়া কেমন রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।আমার না খুব ভয় লাগছে
ঈশা:আল্লাহ গো বাঁচাও(মনে মনে)
মিলি:আপু কিছু বলছো না কেনো(ভয়ে ভয়ে)
ঈশা:চিন্তা করো না।কিচ্ছু বলবো না(মিথ্যা আশ্বাস)
ঈশানের কাছে যেতেই
ঈশান:কয়টা কল দিয়েছি তোদের😡
ওরা দূজন তাড়াতাড়ি ফোন চেক করলো।দুজনেই দুজনের দিকে তাকাচ্ছে আর ভয়ে ভয়ে ঢোক গিলছে
ঈশান:কি হলো কথা বলছিস না কেনো
মিলি:আসলে ভাইয়া ফোন সাইলেন্ট করা ছিলো
ঈশান:কেনো😡??
মিলি:ক্লাসে ছিলাম তাই😞
ঈশান :ক্লাস থেকে বের হইছোস তাও আধা ঘন্টা হইছে।এখনও তোদের ফোন সাইলেন্ট থাকবে কেনো
এরপর দুজনেই একসাথে সরি বললো।ঈশান আর কিছু বললো না।শুধু রাগী লুক নিয়ে ঈশার দিকে তাকালো। সন্ধার পর
সবাই বসে একসাথে নাস্তা করতেছে
বড় মা:কিরে ঈশা কেমন লাগলো স্কুলের প্রথম দিন??
ঈশা :অনেক ভালো।
মিলি:জানো বড় মা। এরমধ্যেই অনেকজন ঈশা আপুকে প্রপোজ করে ফেলছে(কথাটা বলেই জিভে কামড় দিলো মিলি।ঈশা অনেকবার করে মিলিকে বলেছে এসব কথা ভুলেও যেন ঈশানের সামনে না বলে)
কথাটা শুনেই ঈশা তাড়াতাড়ি ঈশানের দিকে তাকালো।দেখলো ঈশান বেশ ফুরফুরে মেজাজে চা খাচ্ছে। ঈশা কিছুটা চিন্তা মুক্ত হলো।মিলি ঈশারায় ঈশাকে সরি বললো
দাদু:আমার নাতনি যেই সুন্দরী। ওকে দেখলে তো সবারই মাথা ঘুরে যায়।এবার কিছুটা লজ্জা পেলো ঈশা
বড় মা:একদম ঠিক বলেছো মা।এই ঈশা একদম সাবধানে থাকবি কখন আবার কার কু নজর লেগে যায় বলা তো যায় না
ঈশাও মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
ঈশান নাস্তা শেষে উঠতে উঠতে ঈশাকে বললো ওর রুমে বই নিয়ে পড়তে যেতে
ঈশা দরজায় নক করতেই
ঈশান:হুম আসুন (গম্ভীর গলায়)
ঈশা এসে রুমের এককোনে দাঁড়ালো
ঈশান বসতে বলতেই একটা চেয়ার টেনে বসে পরলো।ঈশানও ওর সামনে বসলো
ঈশান:ছেলেটা কে ছিলো(বেশ শাম্ত গলায়)
ঈশা:কো...কো...কোন ছেলে
ঈশান:আমি তোতলাতে বলিনি।জাষ্ট একটা সিমপল প্রশ্নের উত্তর চাইছি
ঈশা:সাহিল
ঈশান :এই সাহিলটা কে??
ঈশা:ক্লাস টেনের ফার্স্ট বয়।
ঈশান:বাহ!!স্কুলে পা না রাখতেই ক্লাস টেনের ভাইয়ার সাথে ভাব হয়ে গেছে।কি চমৎকার!!!
ঈশা ভয়ে চুপ করে আছে
ঈশান:চুপ করে আছিস কেনো??
ঈশা:আমি নিজে থেকে কথা বলিনি।ওই আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে
ঈশান:ওয়াও গ্রেট!! একদিনেই ও হয়ে গেলো!
ঈশা:না মানে
ঈশান:বেচ। আর বলতে হবে না আপনাকে
ঈশা:আসলে
ঈশান :আমি আর কিছু শুনতে চাই না।এখন পড়া শুরু করুন
ঈশান আর কোন রাগ দেখালো না ঈশাকে পড়াতে লাগলো।অনেক্ষন পড়ানো শেষে ঈশা যখন ওর রুমে যাচ্ছিলো
ঈশান:তা সাহিল তোকে দেখলো কিভাবে??
ঈশা:গেট দিয়ে ঢোকার সময় ওনার সাথে ধাক্কা লাগে
ঈশা:কি করে ধাক্কা লাগলো
ঈশা:আসলে ওড়নাটা ঠিক করতে করতে হাটছি....
ঈশাকে আর কথাটা শেষ করতে দিলো না।ঈশা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওর ওড়না টেনে ফ্লোরে ফেলে দিলো
ঈশান:এই ওড়নাটাই যত নষ্টের গোড়া।আর তোমার চোখ নেই??চোখ কি কপালে তুলে হাটছিলে যে ওই ছেলেটার সাথে ধাক্কা লাগলো?(ঈশার দুই বাহু ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে বললো।আর ঈশা চোখ বন্ধ করে দুইহাত দিয়ে নিকেলে আকড়ে রেখেছে)
ঈশা:...
ঈশান:কি হলো এখন কথা বলছেন না কেনো??তখন তো দেখলাম বেশ ভালই কথা বলছিলেন(ঈশান খেয়াল করে দেখলো ঈশা দুইহাত আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।তাড়াতাড়ি ঈশাকে ছেড়ে দিয়ে ফ্লোর থেকে ওড়নাটা তুলে ঈশাকে পড়িয়ে দিলো)
ঈশান :সরি(রাগ উঠলে কি করবে না করবে কিছুই মাথায় থাকে না)
ঈশা আর একমুহূর্তও দাঁড়ালো না দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো
ঈশান :উফ সিট কি করলাম আমি।?? এই মেয়েটা নির্ঘাত আমায় পাগল করে ছাড়বে। কেনো ভাবছি আমি ওকে নিয়ে??।ও যার সাথে ইচ্ছা কথা বলুক তাতে আমার কি??(নিজে নিজেকে প্রশ্ন করলো।)
ঈশা রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলো
মিলি:আপু দরজাটা খোলো
ঈশা:😭😭😭😭
মিলি:ঈশা আপু প্লীজ দরজাটা খোল
ঈশ দরজাটা খুলে দিলো
মিলি:তুমি কাঁদছো কেনো?
ঈশা :কই কাঁদছি না তো
মিলি:সরি আপু আমি জানি আমার ওই কথাটা শুনে ভাইয়া তোমায় রাগ করেছে
ঈশা:কই না তো।এমনিই মা বাবার জন্য কাঁদছিলাম
মিলি:প্লীজ মন খারাপ করো না
ঈশান:হ্যালো রবি
রবি:কি রে এত রাত কেনো ফোন করেছিস??
ঈশা:দোস্ত আমি আজও ঈশাকে অনেক রাগ করেছি (তারপর যা যা করলো সব খুলে বললো)
রবি:এখনো সময় আছে তুই নিজেকে পাল্টা না হলে পরে বিপদে পরে যাবি
ঈশান:মনে হয় সম্ভব না।আমি ওকে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।
রবি:অন্য মেয়েদের সাথে কিছুদিন টাইম পাস কর দেখবি তুই ঈশাকে ভুলে গেছিস
ঈশান:ওকে ট্রাই করবো
প্রায় অনেকদিন হয়ে গেলো ঈশান আগের মত ঈশাকে রাগ করে না।নিয়মিত ঈশাকে পড়ায়।ঈশাও কিছুটা চিন্তামুক্ত ঈশানের রাগ না হওয়া দেখে
ঈশা ঈশানের সামনে বসে পড়ছে।পড়ার মধ্যে থাকলে ঈশার আর দুনিয়ার খেয়াল থাকে না।ঈশার ওড়নাটা যে সেই কখন গলা থেকে অনেকটা নিচে নেমে গেছে সেদিকে ঈশার একটুও খেয়াল নাই।হঠাৎ ঈশানের নজর পরতেই ঈশান চোখ সরিয়ে নেয়।কিরকম একটা অস্বস্তি কাজ করছে ঈশানের মধ্যে।এরই মধ্যে ঈশা বলে উঠলো
ঈশা:ভাইয়া এই পড়াটা একটু বুঝিয়ে দিন
এখন ঈশান না চাইতেও বারবার ঈশার দিকে নজর চলে যাচ্ছে।পড়া বুঝানো শেষে
ঈশান:তোর অাংক বইটা নিয়ে আয়
ঈশা:এই তো অংক বই(বইটা এগিয়ে দিয়ে)
ঈশান :না মানে ইংরাজি বই....
বলার আগেই ঈশা ইংরেজি বইটাও এগিয়ে দিলো।এবার ঈশান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না
ঈশান :ওড়না কেউ এভাবে পড়ে(কিছুটা রেগে গিয়ে)ঈশাও নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জায় মরে যাওয়ার মত অবস্থা। তাড়াতাড়ি ওড়নাটা ঠিক করে নিলো
ঈশা:পানি খাব(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:হুম
ঈশা তাড়াতাড়ি নিজের রুমে চলে গেলো।ঈশা চলে যেতেই ঈশান ঈশার ম্যাথ খাতাটা নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে লাগলো।তখনি ঈশানের চোখ আটকে গেলো খাতার একটা পেজে।যেখানে ঈশানের খুব সুন্দর একটা ছবি আকা।ছবিটার নিচে দিয়ে লিখা গোমড়ামুখো,তার নিচে লেখা আমার ডেভিল টিচার, বজ্জাতের হাড্ডি তার পাশেই হাসির কয়েকটা ইমোজি দেওয়া।না চাইতেই ঈশানের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।পরক্ষনেই আবার রাগ হলো এটা ভেবে ঈশা ওকে ডেভিল আর বজ্জাত বলেছে।ঈশা যে সেই রুম থেকে বেরুলো আসার কোন নামই নিচ্ছে না।
ঈশান:ঈশা,ঈশা,এই ঈশা...
ঈশা ঈশানের ডাক শুনেই চিন্তায় পরে গেলো আসবে কি আসবে না।পরক্ষনেই ভাবলো না গেলেই তো আবার কোন শাস্তি দাঁড়িয়ে যায় বলা তো যায় না।তাই তাড়াতাড়ি ওড়নাটা ভালভাবে ঠিক করে পা বাড়ালো ঈশানের রুমের দিকে
ঈশান:এতক্ষণ কি করছিলি??
ঈশা:পানি খাচ্ছিলাম (ভয়ে ঢোক গিলতে গিলতে বললো)
ঈশান:আমাকে কি তোর পাগল মনে হয়??
ঈশা:জীবনেও না
ঈশান:তাহলে ডাকছিলাম সাড়া দিচ্ছিলি না কেনো
ঈশা:শুনতে পাই নাই😞😞
ঈশান:তা মহারানী বসুন
ঈশা চেয়ার টেনে বসে পরলো
ঈশান:আচ্ছা ঈশা আমাকে কি দেখতে গোমড়ামুখোদের মত মনে হয়?
ঈশা :উহুম(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:ওও মনে হয় না??
ঈশা মাথা নাড়িয়ে না বলে দিলো
ঈশান:আমি কি ডেভিল,বজ্জাত হ??
ঈশা:না না আপনি এসব হতে যাবেন কেনো??আপনি তো অনেক ভালো(ভয়ে ভয়ে)
ঈশান:তাই??
ঈশা:হু...হু...হুম
ঈশান:এত ভয় পাচ্ছিস কেনো?
ঈশা:ক...কইই ভয় পাচ্ছি না তো
ঈশান:ঘামটা মুছে নে(একটা রুমাল এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:লা..লা...লাগবে না (বলেই ওড়না দিয়ে ঘাম মুছতে লাগলো)
ঈশা ঘাম মুছছিলো।ঈশান যে কখন ঈশার পিছে এসে ঈশার ঘারের কাছে মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকেও ঈশার কোন খেয়ালই নেই। ঈশা তো ঘাম মুছতেই ব্যস্ত।তখনি ঈশান ঈশার পিছন থেকে হাত দুটো সামনে নিয়ে ঈশার ঠিক মুখের সামনে খাতাটা মেলে ধরলো।ঈশা খাতাটার দিকে চোখ পড়তেই তাড়াতাড়ি পেছন দিকে তাকাতেই ঈশানের মুখের সাথে ঈশার মুখটা লেগে গেলো।ঈশান রাগী চোখে ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে। ঈশা তাড়াতাড়ি মুখটা সামনে ফিরিয়ে নিলো
ঈশান:ছবিটা আঁকছে কে??
ঈশা:আ...আমি
ঈশান:ওয়াও। অনেক সুন্দর হইছে।কিন্তু নিচের লিখাগুলো লিখছে কে??
ঈশা উঠতে নিলো তখনি ঈশান ওকে বসিয়ে দিলো
ঈশা:প্লীজ আমায় ক্ষমা করুন।আমার ভুল হয়ে গেছে(কাদো কাদো গলায়)
ঈশান:তুই জানিস না আমার লিষ্টে ক্ষমা বলতে কিচ্ছু নাই।আর এমনিতেই তো তুইই বললি আমি ডেভিল,বজ্জাত। আর আমার মনে হয় তুই এটাও জানিস যে ডেভিল, বজ্জাতেরা কত খারাপ হয়(ঈশার ঘারে মুখটা রেখে বললো)
ঈশা:আপনি এখন আমায় শাস্তি দিবেন??
ঈশা:হুম দেবো তো।যাতে পরেরবার আমাকে এসব কথা বলার আগে তুই একশোবার ভাবিসস(খুব শান্ত গলায়)
ঈশা:বলুন আমায় কি করতে হবে??।আমি এক্ষুনি করে দিচ্ছি😞😞
ঈশান:বেশি কিছু না জাস্ট একটা ছোট্ট কাজ করতে হবে(ঈশার সামনে মুখটা নিয়ে)
ঈশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো
ঈশা:প্লীজ আপনি একটু দূরে যান। আপনি যা বলবেন আমি তাই করবো
ঈশান:দূরে গেলে হবে না তো
ঈশা:মানে??
ঈশান:মানে খুব সোজা😜😜(ঈশান হাত দিয়ে ঈশার ঠোট ছুয়ে বললো ঈশানের ঠোঁটে কিস করতে হবে)
ঈশা:পারব না আমি (চোখ দুটো বড় বড় করে বললো)
ঈশান:না পারলে তো আমাকে অন্য ব্যবস্থা নিতে হবে😜😜
ঈশা:অন্য ব্যবস্থা মানে(এবার মনে হয় কেঁদেই দিবে)
ঈশান:এটার থেকেও বড় কিছু।আর তুই তো জানিসই ডেভিলরা কত খারাপ হয়😜😜(শয়তানি হাসি হেসে)
ঈশা: আমার ভুল হয়ে গেছে আর কক্ষনো এমন বলবো না।প্লীজ এবার ক্ষমা করে দিন
ঈশান:ঈশা আমি কিন্তু এবার রেগে যাচ্ছি। আর যদি আমার রাগ বেড়ে যায় তাহলে কি যে হবে ঈশা আমি সেটাই ভাবছি😜😜😜
ঈশা:প্লীজ ভাইয়া
ঈশান:আজ মনে হয় তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ঈশা😜😜
ঈশা:😭😭😭😭
ঈশান:আজ কেঁদেওও কোন লাভ হবে না রে।আমি যা বলছি তা কর নয় তো আমি যা করবো তাতে কিন্তু আমার একটুও দোষ হবে না। কারন আমি তো ডেভিলই তাই না??😜😜😜
ঈশা:আমি রাজি😭😭(চোখ বন্ধ করে)
ঈশান:ওকে😜😜(বলেই ঠোটজোড়া ঈশার সামনে এগিয়ে ধরলো)
ঈশাও চোখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে নিজের ঠোট জোড়া ঈশানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো...।তখনি.....
মিলি:ঈশা আপু
ঈশান তাড়াতাড়ি ঈশার থেকে সরে গেলো যাওয়ার আগে শুধু বললো
ঈশান:ভাগ্য ভালো তোর।তবে নেক্সট টাইম এমন ভুল যেন না হয়
ঈশা অনেক খুশি হলো।রুমে থেকে বেরিয়েই মিলিকে জড়িয়ে ধরে অনেকগুলে ধন্যবাদ দিলো
মিলি:কি ব্যাপার আপু তুমি আজ আমাকে এত ধন্যবাদ দিচ্ছো কেনো??
ঈশা:মিলি তুমি নিজেও জানো না আজ তুমি ঠিক কত বড় বিপদ থেকে আমায় বাচিয়েছো(বলেই নিজের রুমে গিয়ে ঈশাকে নিয়ে নাচতে লাগলো।)
ঈশান রুমের সামনে দিয়েই যাচ্ছিলো।আর সবটা শুনলো
ঈশান:যত খুশি নেচে নাও।আমারও দিন আসবে তখন আর রক্ষে থাকবে না
মিলি:তা কি বিপদ থেকে বাঁচালাম জানতে পারি কি??
ঈশা:তুমি কি চাও ওই ভয়ংকর কথা মনে করে আমি আবার কষ্ট পাই😖😖
মিলি:মোটেও না।আর জানতে চাইবো না😊😊
ঈশা:অনেক ধন্যবাদ😊😊।কিন্তু ডাকছিলে কেনো??
মিলি:আপু সাহিল ভাইয়া ফোন করছে
ঈশা:কেনো??আমি তো ওকে নাই বলে দিয়েছি
মিলি:একবার কথা বলতে চায়।তাই আমি তোমার ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছি
ঈশা :কেনো দিছো??।ঈশান ভাইয়া কাউকেই ফোন নাম্বার দিতে বারন করছে।তাও তোমাকে দিছি আর তুমি সাহিলকে দিয়ে দিছো।যদি ও ফোন করে তখন কি হবে???ঈশান ভাইয়া তো জেনে যাবে
মিলি :আরে চিন্তা করো না।জানবে না।আর তুমি চাইলে সাহিল ভাইয়ার সাথে প্রেম করতে পারো।যা হ্যান্ডসাম উনি😊😊।আমাকে বললে তো আমি প্রথমেই রাজি হয়ে যেতাম
ঈশা:হুম।আমি প্রেম করি আর তোমার বজ্জাত ভাই আমার বারোটা বাজাক
মিলি :উফ আপু তুমি ভাইয়াকে এত ভয় পাও কেনো??
ঈশা:ভয় না পেয়ে উপায় আছে??আজ যে শাস্তি দিতে চললো।ভাগ্যিস.....
মিলি:কি?
ঈশা:না না।কিছু না
মায়াবতী পর্ব :৩ মায়াবতী পর্ব :৩ Reviewed by EasyTalk on 10:42 PM Rating: 5

No comments:

Music

ads 728x90 B
Powered by Blogger.