মায়াবতী পর্ব :২

মায়াবতী
পর্ব :২
লেখা:Khayrun Nesa Ripa


ঈশান ড্রয়িংরুমে সবার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললো তারপর বাসা,থেকে বেড়িয়ে গেলো।
ঈশানের বায়োডাটা
ঈশানের বাবা চৌধুরি পরিবারের বড় ছেলে।ঈশানের এক চাচা আর কোনো চাচা বা ফুপি নেই।ঈশানের দাদু এখনো বেচে আছে কিন্তু দাদা অনেক বছর আগেই পৃথিবীরর মায়া ত্যাগ করেছে।ঈশানদের জয়েন ফ্যামিলি। ওর চাচা আর বাবা একই বাড়িতে থাকে।বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী ওর বাবা চাচা দুজনেই।ঈশানেরা দুই ভাই।রিসান আর ঈশান। ঈশান এই পরিবারের ছোট ছেলে।রিসান পি.এইচ.ডি করার জন্য সিঙ্গাপুর চলে গেছে।আর সেখানেই বিয়ে করে সেটেল হওয়ার ইচ্ছা আছে। আর ঈশান ফিজিক্স নিয়ে অনার্স করছে।এইবার থার্ড ইয়ারে।ঈশানেরা দুই ভাই ওর চাচিকে ছোট মা আর চাচাকে ছোট বাবা ডাকে।আর ঈশানের চাচার একটা মাত্র মেয়ে মিলি।সবে মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে।ঈশানের চাচা চাচি আরও বেবি নিতে চেয়েছিলো কিন্তু হয়নি।তাই শুধু একাই একটা মেয়ে ওনাদের।সবার চোখের মনি হলো মিলি।মিলি ঈশানের বাবা মাকে বড় বাবা আর বড় মা ডাকে।ঈশানেরা যেখানে বসবাস করে সেখানকার সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিষ্ট হলো এই চৌধুরি পরিবার।সবাই এক নামে চেনে এই পরিবারকে।খুব নাম ডাক এই পরিবারের।
দুপুরবেলা অনেকগুলি শপিং নিয়ে বাড়ি ফিরলো ঈশান।এসেই ঈশাকে ওর ঘরে ডাকলো
ঈশা: স্যার আমায় ডেকেছেন??
ঈশান:হুম।এই ড্রেসগুলি পরে দেখ হয়েছে কিনা( শপিং ব্যাগগুলি ঈশার হাতে দিয়ে)
ঈশা: এক্ষুনি পরতে হবে??
ঈশান: হুম
ঈশা: আপনার সামনে কি করে পরবো??(ভয়ে ভয়ে বললো)
ঈশান এবার রেগে গেলো
ঈশান: আমি তোকে বলেছি আমার সামনে পরতে?? হুম?তোর মাথায় কি কোনো বুদ্ধি নেই??
ঈশা চলে যাচ্ছিলো।তখন ঈশান বলে উঠলো
ঈশান: একটা করে ড্রেস পরে এসে আমাকে দেখাবি।ঈশা শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।এরপর একটা করে ড্রেস পরলো আর ঈশানের সামনে এসে ঈশানকে দেখালো।সবগুলি ড্রেসেই ঈশাকে খুব সুন্দর লাগছে।হা করে বারবারই ঈশার দিকে তাকিয়ে থাকছে।সব শেষে একটা ড্রেস ঈশান চুজ করলো
ঈশান: এই ড্রেসটা বিকেলে পরবি
ঈশা: কেনো??
ঈশান: নাচতে।সবসময় খালি কেনো কেনো কেনো।।কতবার বলেছি আমাকে এমন প্রশ্ন করবি না তাও আমাকে প্রশ্ন করার সাহস হয় কি করে??
ঈশা: সরি।কিন্তু অন্য ড্রেস গুলি কি করবো??
ঈশান: ওগুলি আমার জন্য এনেছি। আমি পরবো বলে।এবার আমাকে আমার ড্রেসগুলি দিয়ে ধন্য করুন( রাগে কটমট করতে করতে বললো)
ঈশা আর কোনো কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি ড্রেসগুলি এসে ঈশানের রুমে রেখে চলে যাচ্ছিলো তখনি ঈশান ওর বা হাতটা দিয়ে ঈশার হাতটা টেনে পিছনে নিয়ে ঈশাকে একদম নিজের কাছে নিয়ে আসলো।ঈশা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।হাতেও খুব ব্যথা পাচ্ছে তাও ছাড়ছে না
ঈশান: এই আমি কি মেয়ে?? যে এই মেয়েলি ড্রেস পরবো??বলেই ডান হাত দিয়ে ঈশার মাথায় একটা গুতো দিয়ে বললো
ঈশান: এই মাথাটায় এই সহজ ব্যাপার টা ঢুকে না??(তখনি দেখলে ঈশার চোখ দিয়ে পানি পরছে তাই ঈশান তাড়াতাড়ি ঈশার হাতটা ছেড়ে দিলো)
ঈশান: সরি।আসলে বুঝতে পারিনি
ঈশা কোনো কথা না বলে সবগুলি ড্রেস নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে চলে গেলো
ঈশার রুমে
ঈশা মুখ বুজে কাঁদছে আর বলছে
ঈশা: আজ আমার জন্মদিন স্যার তাও আপনি আমায় ব্যাথা দিলেন।আর কোনো কথা বলবো না আপনার সাথে।আপনি খুব পঁচা।সারাদিন শুধু শুধু আমায় বকেন। আমি যে আপনাকে ভয় পাই সেটা বুঝেন না কেন??(একা কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বললো ঈশা।ঈশান দরজায় আড়াল থেকে সব শুনলো।খুব খারাপ লাগছে ঈশানের)
এরপর কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পরলো ঈশা।ঈশান ঈশার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ঈশার রুমে উকি দিতেই দেখলো ঈশা উপর হয়ে শুয়ে আছে।ঈশান ধীরে ধীরে এসে ঈশার পাশে বসলো।তারপর ঈশাকে সোজা করে শুইয়ে দিলো।ঘেমে পুরো ভিজে গেছে ফ্যানটাও ছাড়েনি।ঈশান ফ্যানটাওছেড়ে দিলো।নিজের আজান্তেই ঈশার কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে দিলো এরপর আলতো করে হাতটা ছুইয়ে দিলো ঈশার গালে।ঈশার মায়াময় বদনখানির দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে এক সময় নিজের ঘরে চলে গেলো ঈশান।
সন্ধ্যায় সবাই খুব সুন্দর করে বাড়িটা সাজাচ্ছে। ঈশা বারবার সবাইকে হেল্প করতে চাইছে কিন্তু কেউই ওকে কোন কাজ করতে দিচ্ছে না।খুব মন খারাপ হলো ঈশার তাও কিচ্ছু বললো না।নিজের রুমে গিয়ে চুপ করে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলো
কিছুক্ষণ পর ঈশান ঈশার ঘরে গেলো
ঈশান: তাড়াতাড়ি ড্রেসটা পরো
ঈশা:......
ঈশান: কি হলো এখনো দাঁড়িয়ে আছ কেনো??
ঈশা: আমার ইচ্ছা তাই।আর আমি আপনার সাথে কোন কথা বলবো না।আপনি খুব খারাপ।খুব পচা( খুব সাহসের সাথে কথাগুলো বললো।কিন্তু ঈশান কোনো রিয়াকশন না দেখে খুব অবাক হলে।অন্য সময় হলে তো এতক্ষণে শাস্তিও দেওয়া হয়ে যেত)
ঈশা: আর কিছু??
ঈশা: মা.....মা....মানে ( ঢোক গিলতে গিলতে)
ঈশান: আমি খুব খারাপ।খুব পচা।এছাড়া যদি আরও কিছু বলার থাকে বলতে পারো
ঈশা: সরি স্যার আর এমন হবে না( ভয়ে ভয়ে)
ঈশান: রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি আয়।বলেই চলে গেল।
ঈশা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হলো।দেখলো পুরো ঘর অন্ধকার। খুব ভয় লাগলো ঈশার এরপর আস্তে আস্তে সবাইকে ডাকতে লাগলো
ঈশা: বড় মা,ছোট মা,মিলি তোমরা কোথায়??
কোনো সারাশব্দ না পেয়ে আবারও ডাকতে লাগলো তখনি একটা বিকট শব্দ হতেই চিৎকার করে পরে যেতে লাগলো ঈশা।তখনি কেউ একজন ওকে ধরে ফেললো।সাথে সাথে সব আলো একত্রে জ্বলে উঠলো।আর উপর থেকে অনেকগুলি ফুলের পাপড়ী ওদের উপর পরতে লাগলো।(ভাবছেন তো কে ঈশাকে জড়িয়ে ধরেছে,সে হলো ঈশান)।ঈশান অপলক তাকিয়ে আছে ঈশাও ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।চারপাশ থেকে হ্যাপী বার্থডে ঈশা শুনতেই। তাড়াতাড়ি ঈশান ঈশাকে ছেড়ে দিলো।ঈশা খুব অবাক হলো।ঈশা ভাবতেই পারে নি ওর জন্য এমন একটা সারপ্রাইজ ওয়েট করছে।খুশিতে প্রায় কেঁদেই ফেললো ঈশা।তখনি বড় মা এসে ঈশার চোখের পানি মুছে দিলো
বড় মা: এই পাগলী কাঁদছিস কেনো?? এমন দিনে কেউ কাদে??আর তুই কেমন মেয়ে রে আজ তোর জন্মদিন অথচ তুই আমাদের একবারও জানালি না।ঈশান না বললে তো আমরা জানতোও পারতাম না।অবশ্য আমাদেরও ভুল আছে আমরা কখনো তোর জন্মদিন কবে জানতে চাই নি।পারলে আমাদের ক্ষমা করে দিস।
ঈশা: আরে বড় মা কি বলছো তুমি এসব??
বড় মা: সত্যি রে আমাদের এই ব্যাপারটা খেয়াল করা উচিত ছিলো
যাই হোক সারপ্রাইজ কেমন লাগলো আগে সেটা বল
ঈশা : খুব খুব খুব ভালো লেগেছে।( বড় মাকে জড়িয়ে ধরলো)
এরপর ঈশা কেক কেটে সবাইকে নিজের হাতে খাইয়ে দিলো শুধুমাত্র ঈশানকে ছাড়া তখনি মিলি বলে উঠলো....
মিলি : কি ঈশা আপু যে এত কিছু করলো তাকে খাইয়ে দিচ্ছ না কেন??
ঈশা এক টুকরো কেক নিয়ে ঈশানের দিকে এগুলো পা যেন চলছেই না।ঈশানের সামনে এসে কেকেটা ঈশানের মুখের সামনে ধরলো। হাতটা খুব কাঁপছে। (ঈশান কাছে থাকলেই ঈশার এই অবস্থা শুরু হয়ে যায়।কেনো যে ঈশা এত ভয় পায় ঈশানকে ঈশা নিজেও জানে না)
ঈশান ঈশার হাতটা ধরে একটুখানি কেক খেলো তারপর ঈশাকেও খাইয়ে দিলো।সবাই ঈশাকে কিছু না কিছু গিফট দিলো শুধু ঈশান বাদে।তখন রেহানা চৌধুরী(ঈশানের দাদু) বলে উঠলো
দাদু: কি দাদাভাই সবাই তো ঈশাকে গিফট দিলো তুমি তো কিছুই দিলে না
মিলি: আরে দাদু দিবে দিবে। ভাইয়া মনে হয় ঈশা আপুকে স্পেশাল কিছু গিফট করবে তাই হয়তো.......এত লেট করছে
কিছুক্ষণ পর ঈশান একটা ভর্তির ফরম ঈশার দিকে এগিয়ে দিলো। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।একটা কাগজ আবার কি রকম গিফট।ঈশা কাগজটা হাতে নিয়ে ছলছল চোখে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।তখনি মিলি ফরমটা নিয়ে নিলো তারপর উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল...
মিলি: ওয়াও গ্রেট কি মজা!!!ঈশা আপু আমার সাথে আমার স্কুলে একই ক্লাসে পড়বে।বলেই নাচতে শুরু করে দিলো( সবাই হা করে রইলো।কেউই কিছু বুঝতে পারছে না)
এরপর ঈশান সবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো
ঈশান: মা - দাদু আমি তোমাদের না জানিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।আর সেটা হলো আমি চাই ঈশাও এখন থেকে পড়াশুনা করবে।আমাদের বাসায় আমারা সবাই তো শিক্ষিত তাহলে ঈশা কেন অশিক্ষিত থাকবে।আর তাছাড়া তোমরা তো ঈশাকে এ বাড়ীর একজন সদস্য ভাবো।তাই আমি ভাবলাম ঈশাও পড়াশুনাটা চালিয়ে যাক। এবার তোমাদের কিছু বলার থাকলে বলতে পারো
বড় মা: তুই খুব ভালো কাজ করেছিস। এটা আমাদের বড়দের ভাবা উচিত ছিলো।সত্যি আমি খুব খুশি হয়েছি।
ঈশান: তবে ঈশার তো এতদিনে এস.এস.সি ও শেষ হয়ে যেত।কিন্তু এখন তো ওকে ক্লাস নাইনেও ভর্তি করা যাবে না।তাই ঈশাকে আমি মিলির স্কুলে এইটে ভর্তি করতে চাই।ওরা একসাথে যাবে আবার একসাথে আসবে।আর আমি তো মিলিকে সবসময় স্কুলে দিয়ে আসি এবার থেকে ওরা দুজন আমার সাথে একসাথে যাবে আসবে।আমি কলেজ থেকে যাওয়ার সময় দিয়ে আসবো আবার আসার সময় নিয়ে আসবো
বড় মা: সবটাই যেহেতু তুই করেছিস এক্ষেত্রে আমাদের আর কিছু বলার নাই।কারন আমি জানি ঈশার যেটা ভালো হবে সেটাই করবি
ঈশান :আচ্ছা। ঈশা তুই ফরমটা পুরন করে আমার কাছে নিয়ে আসিস
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
ঈশানের রুমে
ঈশা: স্যার আসবো
ঈশান: হুম আয়
এরপর ঈশা ফরমটা ঈশানের হাতে দিলো।ঈশান ভালো করে পুরো ফরমটাতে চোখ ভুলালো
ঈশান: ঈশা আজ থেকে তুই আমাকে আর স্যার ডাকবি না
ঈশা: তাহলে কি ডাকবো??
ঈশান: ভাইয়া ডাকবি
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
ঈশান: কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?কিছু বলবি??
ঈশা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া
ঈশান : এখানে ধন্যবাদ দেওয়ার মতো কিচ্ছু হয় নাই।
এরপর ঈশা চলে যাচ্ছিলো তখনি ঈশান ঈশার হাতটা ধরে ফেললো।ঈশার বা হাতটার দিকে তাকিয়ে দেখলো রক্ত জমাট বেধে গেছে।ঈশান ঈশার বা হাতে খুব গাঢ় করে একটা চুমু দিলো।সঙ্গে সঙ্গে ঈশা চোখ বন্ধ করে ফললো।ঈশার কাঁপুনি শুরু হয়ে গেলো।ঠোট জোড়া প্রচন্ড কাঁপছে। ঈশানের কেনো যেন ঈশার এই কাপুনিটা খুব ভালো লাগছে। নিজের অজান্তেই ঈশার ঠোঁটে নিজের ঠোট ছুঁইয়ে দিলো।এবার ঈশার হার্টবিট দ্রুত বেড়ে গেলো।এক দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস ফেলতে লাগলো।আর ঈশান ঈশার এমন ভয় পাওয়া দেখে হাসতে লাগলো 
নিজের রুমে এসে চোখ বন্ধ করে জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো ঈশা।ঈশানের এরকম কাজে ঈশা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। একে তো ঈশানকে খুব ভয় পায় তার উপর ঈশান এই কান্ডটা করে বসলো কি করে এরপর ঈশানের সামনে যাবে ভেবেই হার্টবিট আরও বেড়ে যাচ্ছে ঈশার। আস্তে আস্তে চোখ খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ালো ঈশা।আয়নাতে নিজেই যেনো চোখে চোখ রাখতে পারছে না ঈশা।তাড়াতাড়ি আয়নার সামনে থেকে সরে আসলো ঈশা।তখনি রুমে প্রবেশ করলো মিলি
মিলি:উফ আপু আই এম সো হ্যাপী।এখন থেকে আমরা দুই জন একসাথে স্কুলে যাব(ঈশাকে জড়িয়ে ধরে বললো)
ঈশা:আমিও খুব খুশি হয়েছি।জানো মিলি আমার না ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখা নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো
মিলি:যাক ভালই হল ভাইয়া তোমার স্বপ্ন পূরন করার দায়িত্ব নিয়েছে।এখন চলো ভাইয়া তেমাকে ডাকছে
ঈশা:আমি এখন যেতে পারব না।আমার একটু কাজ আছে। তুমি বলে দিও ভাইয়াকে
মিলি:হুম।মাথা,খারাপ হইছে তো আমার।তুমি না যাও আর ভাইয়া চিৎকার করে পুরো বাড়ি মাথায় করুক।এক্ষুনি চল আমার সাথে।বলেই ঈশাকে টেনে নিয়ে গেলো ঈশানের রুমে।
ঈশা ভয়ে মিলির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে
ঈশান:মিলি তুই গিয়ে পড়তে বোস
মিলি:আচ্ছা ভাইয়া
মিলি চলে গেছে ঈশা সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
ঈশা:ভেতরে আয়
ঈশা আস্তে আস্তে পা ফেলে রুমের ভেতরে ঢুকলো
ঈশান:এই নে(একটা ফোন এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:আমি ফোন দিয়ে কি করবো??(নিচের দিকে তাকিয়ে)
ঈশান:প্রেম করবি
ঈশা:কার সাথে??(কথাটা বলেই দুহাত দিয়ে মুখটা চেপে ধরে ভয়ে ভয়ে ঈশানের দিকে তাকালো)
দেখলো ঈশা রাগী চোখে ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে
ঈশা:সরি। আমি না এটা বলতে চাইনি ভুল করে মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে(নিচের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললো)
ঈশা:ভুলেও যেন কখনো আমি তোকে কারো সাথে প্রেম করতে না শুনি।কি মনে থাকবে তো??
ঈশা:হ্যা
ঈশান:এই ফোনে শুধু আমার নাম্বারটা সেভ করে দিয়েছি।আমি শুধু এই ফোনে ফোনকল করবো।আর কেউ জেন এই নাম্বার না জানে।আর কাউকে ফোন নাম্বার দেওয়ার ও চেষ্টা করবে না।আর হ্যা আমি যখনই কল করব তখনই কিন্তু ফোন রিসিভ করতে হবে।যদি লেট হয়....তা আর বললাম না কাজে করে দেখাবো।কি মনে থাকবে তো??(ঈশার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে)
ঈশা:হুম(ফোন হাতে নিয়ে).
ঈশান:এখন যেতে পারিস
ঈশা চলে যাচ্ছিলো তখনি...
ঈশান:ঈশা
ঈশা:হুম
ঈশান:সরি।তখনকার ব্যাপারটার জন্য
ঈশা কিচ্ছু বললো না চুপচাপ ঈশানের রুম থেকে বেরিয়ে আসলো।
ঈশার রুমে
ঈশা:উফ উনি কি পাইছেন আমাকে??যখন যা ইচ্ছা তাই করবেন।আমার যেন কোন কথা থাকতে পারে না।এমন রাগী মানুষ আমি জীবনেও দেখি নাই।সারাক্ষণ শুধু রাগ আর রাগ।উফ অসহ্য লাগে।ইচ্ছা করে ভুত হয়ে ওনার ঘাড় মটকাইতে(একা একা কথাগুলো বললো)
মিলি:কার ঘার মটকাইতে মনে চায় তোমার??
ঈশা:কার আবার তোমার ওই আদরের ছোট ভাইর😒😒
মিলি: আপু যা বলছো আর বইলো না।ভাইয়ার আর তোমার রুম তো সামনাসামনি যদি শুনে ফেলে তাহলে আর রক্ষে থাকবে না
ঈশা:হুম।এইটাই তো আরও ভয়ের।দেখো আমি একেই তো ওনাকে এত ভয় পাই তাও সারাক্ষণ শুধু আমার সাথে হৈ চৈ করতেই থাকে।ঈশা এটা কেনো এমন হইছে??,ওটা কেনো এমন হইছে।সারাক্ষণ মাথা খারাপ করে আমার।তুমিই বল আমাকে কি ওনার মানুষ মনে হয় না??আমি কালই বড় মা কে বলব আমি আর এই রুমে থাকবো না।😒😒
ঈশান:কোন লাভ হবে না
ঈশা আর মিলি ঈশানের গলার আওয়াজ শুনেই ভয়ে অবস্থা জড়সড়। মিলি আস্তে পাশ কাটিয়ে চলে যায়
ঈশা:তা আমার নামে কি কি নালিশ করছিলে মিলির কাছে?? আমাকে একটু বল আমিও শুনি
ঈশা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওড়না দিয়ে আঙ্গুল পেচাচ্ছে
ঈশান:কি হল কথা বল
ঈশা:সরি ভাইয়া আমার না ভুল হয়ে গেছে।(ঢোক গিলতে গিলতে নিচের দিকে তাকিয়ে বললেো)
ঈশান:খুব পুরান ডায়লগ।এসব শুনতে শুনতে এখন বোরিং লাগে। নতুন কিছু থাকলে বলো
ঈশা:আর এমন ভুল হবে না ভাইয়া😞
ঈশান:এগুলিও পুরান
ঈশা:....
ঈশান :নতুন যেহেতু বলতে পারলে না।তাহলে শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে।কি করে এত সাহস হয় তোর??আমার নামে এসব কথা বলার??কথাটা বলেই ঈশার হাত ধরে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।তারপর নিজের রুমে নিয়ে ঈশার সামনে আলমারি থেকে সব শার্ট -প্যান্ট এছাড়া আরও যাবতীয় যা কিছু আছে সব ফ্লোরে ছুরে মারলো
ঈশান:এবার এই সব একটা একটা করে সুন্দর করে গুছিয়ে আলমারিতে রাখবি
ঈশা কিছু বললো না শুধু মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।ঈশান বসে বসে লেপটপে গেম খেলছে আর ঈশা ওর শার্ট - প্যান্ট গুছিয়ে আলমারিতে রাখছে।ঈশান একটু পরপরই আড় চোখে ঈশার দিকে তাকাচ্ছে। কাজ করতে করতে বেচারি একবারে অবস্থা খারাপ।প্রায় অনেকক্ষণ পর কাজ শেষে
ঈশা:ভাইয়া কাজ তো শেষ। আমি এখন যাই??(কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললো)
ঈশান:হুম।যা(একবার ঈশার মুখের দিকে তাকালো।পুরো মুখটা লাল টকটকে হয়ে গেছে)
ঈশা চলে যেতেই
ঈশান:ধূর। এত কষ্ট না দিলেও পারতাম।আচ্ছা আমি ঈশাকে নিয়ে সবসময় এত ভাবি কেনো?ওর মায়াময় মুখটা দেখলে আমার এত খারাপ লাগে কেনো??তবে আমি কি ঈশাকে ভালবাসি?না না একি সব ভাবছি??।আমি ওকে ভালবাসতে যাব কেনো??(নিজে নিজেকে প্রশ্নগুলো করলো)
ঈশা কাজ করতে করতে খুব ক্লান্ত হয়ে পরে রুমে এসেই ঘুমিয়ে পরে।ঈশান খাওয়ার জন্য নিচে যাচ্ছিলো তখনি নজর পরলো ঈশার রুমের দিকে।দেখলো ঈশা শুয়ে আছে।ঈশান আর খেতে গেলো না।নিজের রুমে গিয়ে একগ্লাস পানি খেয়ে শুয়ে পরলো
নক নক
ঈশান:কে??
মিলি:ভাইয়া আমি
ঈশান:ভেতরে আয়
মিলি:বড় মা খেতে ডাকছে
ঈশান:মা কে বল।খাব না।খিদে নেই
মিলি:ভাইয়া তোদের হয়েছে কি বল তো??তুই ও খাবি না।ঈশা আপুও খাবে না কখন থেকে ডাকছি শুধু ঘুমিয়েই যাচ্ছে এত ডাকলাম কিচ্ছু বললো না শুধু বললো খাব না
ঈশান:ও খাবে না কেনো আমি কি করে জানবো??যা তো পেনপেন করিস না কানের কাছে
মিলি:ঢং😒😒
সকালবেলা
সবার নাস্তা শেষে
ঈশান:এই মিলি ঈশুকে বল তাড়াতাড়ি রেডি হতে
মিলি:ঈশু?এই ঈশুটা আবার কে??😜😜
ঈশান:কেনো তুই জানস না মনে হয়??
মিলি:সত্যিই তো জানি না।কে এই ঈশু??
ঈশান:বেশি পাকনামো করবি কানের নিচে দেব একটা।যা ভাগ।আর যা বলছি তা কর
মিলি:ভাইয়া সামথিং সামথিং 😜😜(ঈশানের কানের কাছে মুখ নিয়ে)
ঈশান:মাইর খাইচোস
মিলি হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো
মিলি:ঈশা আপু তোমার হয়েছে?(ঈশার রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললো)
ঈশা:হুম আমি রেডি
মিলি:এই আপু এটাকে রেডি হওয়া বলে??
ঈশা:কেনো ঠিকই তো আছে??
মিলি:একটুও ঠিক নেই। আমার কাছে আসো।(বলেই ঈশাকে সাজাতে লাগলো।মিলি সাজুগুজু করতে খুব পছন্দ করে কিন্তু ঈশা তার পুরো উল্টোটা একটুও সাজতে চায় না।অবশ্য এমন সুন্দরিরর না সাজলেও চলে।)
মিলি:ওয়াও আপু তোমাকে না যা লাগছে।অবশ্য এমনিই তো তুমি খুব সুন্দরী।ইশ আমি ছেলে হলে নির্ঘাত তোমার প্রেমে পরতাম।বাট বেড লাক আমার।
ঈশা:মিলি তুমি এমন করে কেনো সাজালে আমার একটুও ভাল লাগছে না।
মিলি:উফ চুপ থাক তো চলো
ঈশানের রুমে
মিলি:ভাইয়া আমরা রেডি
ঈশান ঘুরে ওদের দিকে তাকাতেই ঈশানের ভির্মি খাওয়ার মত অবস্থা। অসম্ভব সুন্দর লাগছে ঈশাকে।কতক্ষণ যে ঈশান ঈশার দিকে তাকিয়ে আছে সেদিকে তার একটুও খেয়াল নাই।বেচারি ঈশা ঈশানের এমন করে তাকানো দেখে লজ্জায় মরে যাচ্ছে। মিলির ডাকে ঘোর কাটলো ঈশানের
মিলি:কি রে এভাবে কি দেখছিস
ঈশান:কি পরিমাণ আটা ময়দা মেখেছিস তাই দেখছি😜😜(শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো)
মিলি:মোটেও আমরা আটা ময়দা মাখি নি।বলেই ঈশার হাত ধরে নিচে চলে যাচ্ছিলো।তখনি....
ঈশান:ঈশা একটু কথা ছিলো।মিলি তুই গাড়ীতে ওয়েট কর
মিলি:আচ্ছা। বলে চলে গেলো
ঈশা সেই ঠায় দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে
ঈশা:কি হলো ভেতরে আয়
ঈশা:আমি এখানেই আছি। যা বলার বলুন।(নিচের দিকে তাকিয়ে)
তখনি ঈশান ঈশার হাত ধরে রুমের মধ্যে নিয়ে আসলো
ঈশান:এত সেজেছিস কেনো??
ঈশা:আমি সাজি নি
ঈশান:তো ভুত এসে সাজিয়ে দিয়ে গেছে মনে হয়😡😡
ঈশা:মিলি সাজিয়ে দিয়েছে😖😖
ঈশান:তুই না বলতে পারিস নি
ঈশা:মিলিই জোড় করলো।তাই....
ঈশা:আজ স্কুলের প্রথম দিন তাই কিছু বললাম না।নেক্সট টাইম যেনো কখনো সাজতে না দেখি।মনে থাকবে তো??
ঈশা মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো
চলবে,,,,,,,,
মায়াবতী পর্ব :২ মায়াবতী পর্ব :২ Reviewed by EasyTalk on 11:46 PM Rating: 5

No comments:

Music

ads 728x90 B
Powered by Blogger.