মায়াবতী পর্ব :৫

মায়াবতী পর্ব :৫

লেখা :রিপা

ঈশান সেই কখন থেকে বেলকুনি তে দাঁড়িয়ে ভাবছে কি করে ঈশা এই কথাগুলো বলতে পারলো।এতটা হীন মানসিকতা কি করে ঈশা মনের মধ্যে পুষে রাখতে পারলো তাও ঈশানকে নিয়ে।যাকে এতটা ভালবেসে ফেলেছে ঈশান।ভাবতেই এক ঝাক কষ্ট এসে ঈশানের বুকে ভর করলো।খুব কষ্ট হচ্ছে ঈশানের কি করে ঈশা এত দোষ দিতে পারলো। যে ঈশা সবসময় ঈশানকে এত ভয় পেতো সেই ঈশাই আজ কিভাবে এতগুলো অপমানজনক কথা বলতে পারলো। এসব ভাবতে ভাবতে বড় মার ডাকে ভাবনায় ছেদ পরলো ঈশানের.......
বড় মা:কিরে রাত হয়ে গেছে এখনো এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস??।চল সবাই নিচে আছে। নাস্তা করবি নিচে চল(ভাবতে ভাবতে কখন যে সন্ধা পেরিয়ে অনেকটা সময় কেটে গেছে টেরই পেলো না ঈশান)
ঈশান:ভাল লাগছে না।তুমি যাও
বড় মা:বেশি কথা বলবি না।সবসময় এত জেদ ভাল না।জেদ করে কি লাভ হয় শুধু নিজে কষ্ট পাস।আর ঈশা তো ইচ্ছে করে কিচ্ছু করেনি।এত রাগার কি আছে??
ঈশান:মা তুমি নিজেও জানো না ঈশা আজ আমাকে কতটা কষ্ট দিয়েছে(মনে মনে বললো)
বড় মা:কিরে চল
ঈশান:মা আমি যাব না
ঈশানকে আর কোন কথা না বলতে দিয়েই ঈশানের হাতটা টেনে নিয়ে নিচে চলে গলো ওর মা........
নিচে ঈশাও ছিলো। ঈশান একবারও ঈশার দিকে তাকালো না।কথা বলা তো দূরে থাক।ঈশা অনেকবারই করুন দৃষ্টিতে ঈশানের দিকে তাকালো।কিরকম একটা অপরাধবোধ কাজ করছে ঈশার মন জুড়ে।ঈশানের হাতটা এতখানি কেটে গেছে ভাবতেই আরো বেশি খারাপ লাগছে ঈশার।তবে এটা কি শুধুই সিমপ্যাথী না কি অন্য কিছু???কি জানি???
রাতে ঈশানের মা আসলো ঈশানের রুমে খাবার নিয়ে
ঈশান:মা আমি খাব না
বড় মা:কেনো খাবি না??
ঈশান:কিছুক্ষণ আগেই তো নাস্তা করলাম
বড় মা:এটা নতুন কিছু নয়।কথা না বাড়িয়ে খাবারটা খেয়ে নে
ঈশানন আর কোন কথা বললো না মায়ের হাতে চুপচাপ খেতে শুরু করলো
ঈশান:মা সবাই খেয়েছে??
বড় মা:হুম
ইশান:সবাই??
বড় মা:হুম। কেনো??
ঈশান:না এমনি(ঈশান আসলে জানতে চেয়েছিলো ঈশা খেয়েছে কিনা)
খাওয়া শেষে বড় মা চলে গেলো।তখনি ঈশানের রুমে প্রবেশ করলো ঈশা।ঈশাকে দেখেই ঈশানের খুব রাগ হলো পরমূহুর্তে রাগটা কন্ট্রোল করলো
ঈশান:কিছু বলবি??(বেশ শান্ত গলায়)
ঈশা:না মানে হ্যা(নিচের দিকে তাকিয়ে)
ঈশান :বল
ঈশা:আমি সত্যিই দুঃখিত আমার
ব্যবহারের জন্য। আমি না আসলে তখন কি যে হয়ে গেছিলো তাই
ঈশান:না তুই তো ঠিকই বলেছিস।কিচ্ছু ভুল বলিসনি।সব সত্যি বলেছিস।ভুল যা করার সেটা তো আমিই করেছি।আর কিছু বলার না থাকলে যেতে পারিস
ঈশা:আমাকে কি ক্ষমা করা যায় না??(করুন গলায়)
ঈশান:তুই তো কোন ভুলই করিস নি তাহলে এখানে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে
ঈশা:প্লীজ একটাবার ক্ষমা করুন
ঈশান:নিজের রুমে গিয়ে পড়তে বোস।সামনে পরীক্ষা মাঝামাঝি টাইমে ভর্তি হয়েছিস এখনো ভালকরে না পরলে পরে ফেল করতে হবে
ঈশা:আমি আপনার কাছে পড়বো
ঈশান:না।আমারও সামনে পরীক্ষা তুই এখন থেকে মিলির স্যারের কাছে পড়বি
ঈশা:না আমি মিলির স্যারের কাছে পড়বো না।বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।কিছুক্ষন পর বইখাতা নিয়ে ঈশানের রুমে এসে পড়তে লাগলো
ঈশান:এই তুই এখানে কেনো??
ঈশা:আমি তো সবসময় এখানেই পড়ি
ঈশান:এখন থেকে আর পড়বি না।এখন নিজের রুমে যা কাল থেকে মিলির স্যারের কাছে পড়বি
ঈশা:না আমি এখানেই পড়বো
ঈশান :ঈশা আমর রাগ বাড়াস না।রাগ বাড়লে আমি কি করতে পারি তুই ভাল করেই জানিস
ঈশা:যা ইচ্ছা করুন।এটা বলেই আবারও পড়তে লাগলো
ঈশান আর কোন কথা না বলে হাত ধরে টেনে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।ঈশা অনেকবার ডাকলো ঈশানকে দরজা খুলতে কিন্তু ঈশান খুললো না।
ঈশান:তুই আমায় যা বলেছিস কখনো আমি ভুলতে পারব না।(মনে মনে বললো)
সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈশান দরজা খুলতেই ঈশাকে ওর দরজার সামনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে দেখলো
ঈশান:এই মেয়েটার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে।উফ সিট এখন কেউ দেখলে কি ভাববে।
ঈশান :ঈশা,ঈশা,এই ঈশা
ঈশা ঘুমিয়েই যাচ্ছে ওঠার কোন নামই নিচ্ছে না।ঈশান অনেকবার ডাকাডাকি করার পর যখন দেখলো ঈশা উঠছে না অগত্যা কোলে তুলে নিলো ঈশাকে।এরপর ঈশার রুমে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো।ঈশান ঈশার মুখের দিকে একবার ভাল করে তাকালো বুঝতে অসুবিধা হলো না যে ঈশা খুব কেঁদেছে।
এরপর ঈশান নিজের রুমে চলে আসলো।
কিছুক্ষণ পরে ঈশার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।ঘুম ভেঙ্গে উঠে নিজেকে বিছানায় পেয়ে বুঝতে অসুবিধা হলো না এটা কার কাজ।
সবাই একসাথে বসে নাস্তা করছে
বড় মা:কি রে ঈশা তোর চোখ মুখ এমন ফোলা লাগছে কেনো??
ঈশা:জানিনা
বড় মা:তুই কি কেঁদেছিলি?
ঈশা:না(ঈশানের দিকে তাকিয়ে বললো।ঈশান নিচের দিকে তাকিয়ে খেয়েই যাচ্ছে একবারও ঈশার দিকে তাকাচ্ছে না। আর ঈশা সেই কখন থেকে ঈশানের দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাৎই ঈশানের ঈশার চোখে চোখ পরলো।সঙ্গে সঙ্গে ঈশান চোখ নামিয়ে নিলো।
ঈশার রুমে
মিলি:ঈশা আপু কাল কি হয়েছিলো??
ঈশা:কিচ্ছু না
মিলি:আপু তুমি আমায় ভরসা করে দেখতে পারো কখনো ঠকবে না
এরপর ঈশা সবটা বললো মিলিকে।সাথে এটাও বললো যে ঈশান ওকে ভালবাসে
মিলি:ওয়াও ভালো তো।তুমি আমার ভাবি হবে(বলেই ঈশাকে জড়িয়ে ধরলো)
ঈশা:তোমার ভাইর সাথে তো আমাকে যায় না মিলি।কোথায় তোমরা আর কোথায় আমি
মিলি:উফ এসব কথা ভুলেও ভাববে না।তুমি এখন এই বাড়িরই মেয়ে।তবে তোমার ভাইয়াকে এভাবে বলা উচিত হয়নি।ভাইটা খুব কষ্ট পেয়েছে তাই তোমার সাথে এমন করছে।তুমিই পারবে ভাইয়ার রাগ ভাঙ্গাতে।আচ্ছা ঈশা আপু তুমি কি আমার ভাইটাকে ভালবাসো(ভ্রু নাচিয়ে প্রশ্ন করলো)
ঈশা:জানি না(লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে)
কিছুক্ষণ পরে ঈশান ওদেরকে স্কুলে পৌঁছে দিলো ।তারপর নিজের ভার্সিটিতে চলে গলো..
রবি:কি রে তোর হাত এমন হলো কিভাবে
ঈশান:কিছু না।ওই একটু ব্যথা পাইছি
রবি:তুই আমাকে বোকা ভাবিস??
ঈশান ওর সব কথাই রবির সাথে শেয়ার করে। (বেষ্ট ফ্রন্ড বলে কথা)এরপর ঈশান সবটা খুলে বললো
রবি :শেষ পর্যন্ত প্রেমের ফাদে পড়েই গেলি?
ঈশান:হুম।পরেই গেলাম।অনেকবার নিজেকে আটকাতে চেয়েছি কিন্তু পারিনি।
রবি:এখন ঈশার মনের ভিউ কি??
ঈশান:জানি না রে।তবে আমি এখন আর আগের মত ওর সাথে কথা বলি না।আর বলবোও না
রবি:হয়তো তোর এই দূরুত্বটাই ওকে তোর কাছে টেনে নিয়ে আসবে
ঈশান:কিভাবে??
রবি:যখন আসে তখনই বুঝবি।ও যদি তোকে সত্যিকারে ভালবাসেই থাকে এতদিন নিজের ভালবাসার কথা আড়াল করে রাখলেও এখন আর পারবে না
ঈশান :তুই সিউর??
রবি:১০০%।যদি ও তোকে ভালবাসে তো।নাহলে না
ঈশান:ও(মন খারাপ করে)।আমার তো মনে হয় ও সাহিল ছেলেটাকে ভালবাসে
রবি:মন খারাপ করছিস কেনো??আমার কিন্তু মনে হয় না ও সাহিলকে ভালবাসে।আমার তো মনে হয় ও তোকে ভালবাসে
ঈশান:তোর এমন মনে হওয়ার কারন??
রবি:তুই বোঝার ট্রাই কর তাহলেই বুঝবি
ঈশান :তুই বুঝিয়ে বল।এখন আমার মাথায় এসব ঢুকবে না
রবি:দেখ ঈশা যদি তোকে ঘৃনা করতো তাহলে তোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না।তারপর এত কিছুর পরেও কেনো ও তোর কাছে পড়তে চাইবে।ও যদি তোকে ভাল নাই বাসে তুই ভালবাসি কথা বলার পর ওর তোকে ইগনোর করার কথা কিন্তু সেটাও তো করলো না।উল্টো তোর প্রতি জোড় করছে।যেটা ও আগে কখনো করে নি
ঈশান:কি জানি
রবি:যদি ও তোকে ভালবাসি বলেই ফেলে তো কি করবি
ঈশান:সোজা বিয়ে
রবি:মানে(অবাক হয়ে)
ঈশান:আমি ওকে নিয়ে আর কোন রিস্কে থাকতে পারবো না।
রবি:তাই বলে বিয়ে।সবাই জানলে কি হবে
ঈশান:জানবে না।
রবি:আমার মনে হয় এটা করা ঠিক হবে না।আর ঈশা কি এমন বিয়ে তে রাজি হবে??
ঈশান:জানি না।চল ক্লাসে যাই
প্রায় অনেকদিন হয়ে গেছে ঈশান ঈশার সাথে কোন কথাই বলছে না।সবার সাথে স্বাভাবিক আচরন করছে শুধু ঈশা ছাড়া।ঈশা বারবার ঈশানের কাছে ক্ষমা চাইছে,কাছে আসতে চাইছে কিন্তু ঈশান ওকে পাত্তাই দিচ্ছে না।ঈশান এখন সবসময় পড়া নিয়া ব্যস্ত থাকে।ঈশা ওর কাছে পড়তে চায় তাও পড়ায় না।এমনকি ঈশাকে নিজের রুমে ঢুকতেও দেয় না
সাকালবেলা
ঈশান শার্ট পরছিলো দরজাটা খোলাই ছিলো(ঈশা যাতে ঈশানের রুমে না যেতে পারে সেজন্য ঈশান সবসময় দরজা বন্ধ করে রাখে)তখনি ঈশা এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো
ঈশা:সরি। আমাকে প্লীজ ক্ষমা করুন
ঈশান:কি হচ্ছে কি ছাড় আমাকে
ঈশা:ছাড়বো না।আগে বলুন আপনি আমায় ক্ষমা করেছেন
ঈশান :ক্ষমা করার সাথে জড়িয়ে ধরার কি সম্পর্ক
ঈশা:জানি না(লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে)।তারপর ঈশানকে ছেড়ে দিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে রইলো
ঈশান:রেডি হয়ে নে স্কুলে যেতে হবে তো
ঈশা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।
ঈশান:কি হলো যাস না কেনো(কিছুটা রাগ নিয়ে ঈশা আর এক মূহুর্তও দাঁড়ালো না সেখান থেকে নিজের রুমে চলে গেলো)
ঈশা:উনি আমার সাথে এটা কিভাবে করতে পারলো।সত্যি আমিই খারাপ। লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে ওনাকে জড়িয়ে ধরলাম তাও আমার সাথে এমনটা কি করে করলো। আর কথাই বলবো না।রাক্ষস একটা।সারাক্ষণ শুধু রাগ আর রাগ।ভুল তো মানুষেরই হয় আমিও না হয় একটা ভুল করে ফেলেছি তাই বলে এত শাস্তি দিতে হবে??ইশ ঢং করে ওইদিন ভালবাসি কেনো বললো??কি দরকার ছিলো এমন ঢং করার এটা নাকি ভালবাসার নমুনা।নিকুচি করি ওনার ভালবাসা চাই না ওনার ভালবাসা।খুব বাজে লোক একটা(বিছানায় বসে কাঁদছে আর বিড়বিড় করে কথাগুলো বলছে)ঈশাকে রুম থেকে বের করে ঈশান নিজেই এসে ঈশার রুমের সামনে দাঁড়ালো। ঈশার রিয়াকশন দেখার জন্য। ঈশানের খুব হাসি পাচ্ছে ঈশার কথাগুলো শুনে তাও মুখ চেপে হাসি বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো
ঈশা:আমি কি জানতাম ওই হারামি সাহিল এমন একটা কাজ করবে।উচবুক একটা।স্কুলের প্রথম দিন থেকে পেছনে পরে আছে।ওরে জুতা পিটা করা উচিত ছিলো।কতবার বলছি আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে না।ওর জন্যই সব হলো।মিলি কেনো যে ওকে আমার নাম্বারটা দিলো।আমারই ভুল হয়েছে মিলিকে ফোন নাম্বার দেওয়া।আমি এখন কি করবো?? ভাইয়া আর আমার সাথে কথা বলবে না।উনি কি বুঝে না আমি ওনার সাথে কথা না বলে থাকতে পারছি না।নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে(কথাগুল বিড়বিড় করে বলেই ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো)
ঈশান আর হাসি আটকাতে পারলো না নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে অট্ট হাসিতে ফেটে পরলো।তবে খুশিতে আটখানা ঈশান।
মিলি:এই ঈশা আপু তুমি এভাবে কাঁদছো কেনো??
ঈশা:ঈশান ভাইয়া আমার সাথে একটুও কথা বলে না(ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে আর বলছে)
ঈশান :মিলি তোদের হয়েছে??তাড়াতাড়ি বের হ আমাকে কলেজে যেতে হবে
মিলি:হুম ভাইয়া আসছি।ঈশা আপু তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।কান্নাকাটি বন্ধ করো।সব ঠিক হয়ে যাবে।চিন্তা করো না।
ঈশা:আমি যাব না
মিলি:আপু আর কোন কথা নয়।তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। নাহলে ভাইয়া রেগে যাবে
ঈশা:রাগুক ওনার রাগের ধারধারিনা(বেশ জোড়েই বললো যাতে ঈশান শুনতে পায়)
ঈশান:মিলি কেউ যদি না যায় তুই ই চল।তোকে পৌঁছে দেই
মিলি:তাহলে আমি যাচ্ছি। তুমি থাকো
ঈশা:দাড়াও আমিও যাবো
মিলি ঈশার কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে
ঈশা:উচবুক, রাক্ষস একটু সাধলে কি হতো।মনে হয় যেন ক্ষয়ে যাবে আমার সাথে কথা বললে।যত্তসব ঢং(আস্তে করে বললো)
মিলি:উফ আপু তুমি পারোও বটে😁😁।তাড়াতাড়ি রেডি হও
আজ আবার ঈশা নিজে থেকেই ইচ্ছে করে অনেক সাজলো।এটা দেখার জন্য ঈশান কিছু বলে কি না
মিলি:আপু তুমি আজ সাজছো কেনো??
ঈশা:দেখি তোমার বজ্জাত ভাই কি করে আমার সাথে কথা না বলে থাকে।দেখে নিও আজ ঠিক তোমার বজ্জাত ভাই আমার সাথে কথা বলবে(বলেই ভেংচি কাটলো)
মিলি:বললেই ভালো।আবার দেখো রেগে যায় না নাকি
ঈশা:আমি তো রাগাতেই চাই ওনাকে
মিলি:এই আপু তুমি কি ভাবছো??
ঈশা:কিছু না।চলো যাই।না হলে আবার উনি রেগে যাবেন।ওনার তো রাগতে সময় লাগে না
ঈশা আর মিলি নিচে নামতেই ঈশান ঈশার দিকে তাকলো।ঈশাকে সাজতে দেখে মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেলো।তবুও রাগটাকে কন্ট্রোল করলো।কয়েক সেকেন্ড ঈশার দিকে তাকিয়ে থাকলো। এত বেশি সুন্দর লাগছে যে চোখ সরানো দায়।তবুও নিজেকে সংযত করলো
ঈশা:কি দরকার ছিলো এভাবে সাজার।এতকিছু হয়ে গেলো সাজ নিয়ে তাও ওনার সাজা চাই।যত ইচ্ছা সাজুক আমার কি??যখন বিপদে পরবে তখন বুঝবে।(মনে মনে বললো)
স্কুলে পৌঁছে গাড়ী থেকে নেমে
ঈশা:মিলি তুমি যাও আমি আসছি।মিলি চলে যেতেই ঈশা হুট করে গাড়ীতে উঠে পরলো
ঈশান:কি হলো তুমি গাড়ীতে উঠেছে কেনো??
ঈশা কোন উত্তর না দিয়েই দুই হাত দিয়ে ঈশানের মাথাটা ধরে ঈশানের ঠোঁটে নিজের ঠোট জোড়া ডুবিয়ে দিলো।হটাৎ ঈশার এমন একটা কাজে পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে ঈশান হাত দুটো দুদিকে উচু করে আছে।ঈশাকে একটুও টাচ করছে না।প্রায় কয়েক মিনিট পর ঈশা ঈশানকে ছাড়লো।ছেড়ে একটুও ওয়েট করলো না সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে স্কুলের মধ্যে চলে গেলো।আর ঈশান হা করে তাকিয়ে ঈশার চলে যাওয়া দেখছে। সব কিছু ঈশানের মাথার উপর দিয়ে গেলো।ঈশা কি করে এমন একটা কাজ করতে পরলো।পরক্ষনে ঈশানের ঠোঁটের কোনে হাসির রেখা ফুটে উঠলো।গাড়ীর মধ্যে আয়নায় তাকাতেই ঈশার লিপস্টিক নিজের ঠোঁটে দেখতে পেলো।হুট করেই অনেক জোড়েই হেসে উঠলো ঈশান।তারপর পকেট থেকে রুমালটা বের করে ঠোটটা ভাল করে মুছে নিলো।তারপর গাড়ীতে স্টার্ট দিলো
ঈশা দৌড়ে কমন রুমে গিয়ে হাপাতে লাগলো।কি করে এমন একটা কাজ করলো ঈশা ভেবেই লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে।ঈশার এভাবে দৌড়ে আসতে দেখ মিলিও পিছু পিছু আসলো।
মিলি :এই ঈশা আপু এভাবে দৌড়ে আসলে কেনো??
ঈশা :এমনি।তোমার কাছে রুমাল আছে??
মিলি:হুম
ঈশা এরপর ব্যাগ থেকে ওয়াটার বোটল নিয়ে মুখটা ধুলো তারপর মিলির থেকে রুমালটা নিয়ে মুখটা মুছলো
মিলি:কি দরকার ছিলো এত সাজার?? এখন আবার মুছে ফেলার
ঈশা:দরকার ছিলো।আর এখন দরকার শেষ তাই মুছে ফেললাম
মিলি:সত্যি তুমি পারও
ঈশানের ভার্সিটি তে
রবি:কিরে তোকে আজ খুশি খুশি মনে হচ্ছে??ব্যাপার টা কি হুম??(মুচকি হেসে)
ঈশান:দোস্ত মনে হয় ঈশা আমাকে ভালবাসে
রবি:না ভালবেসে যাবে কই।আমার বন্ধু তো লাখে একজন হয়
ঈশান:দোস্ত বেশি পাম দিস না ফেটে যাবো
রবি:পাম না।যা সত্যি তাই বলছি
স্কুল ছুটির পর
ঈশা :সামনে থেকে সরো সাহিল
সাহিল:তুমি আমার সাথে কথা বলছো না কেনো??
ঈশা:তুমি তোমার প্রমিজ ব্রেক করেছো
সাহিল:সরি বললাম তো।তাও কেন এমন করছো??ফোনোও ব্লক করে দিয়েছো স্কুলেও কথা বলছো না। এভাবে আমি থাকতে পারব না
ঈশা:আমি তোমার সাথে আর জীবনেও কথা বলবো না।বলেই মিলিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।ততক্ষণে ঈশানও চলে এসেছে।গাড়ীর মধ্যে কেউ কারো সাথে একটাও কথা বললো না ঈশা বারবার ঈশানের দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু ঈশান একবারও তাকালো না।
সরি ছোট হয়ে গেছে।প্লীজ এটা নিয়ে কেউ কিছু বলো না
চলবে,,,,,,
মায়াবতী পর্ব :৫ মায়াবতী পর্ব :৫ Reviewed by EasyTalk on 10:56 PM Rating: 5

No comments:

Music

ads 728x90 B
Powered by Blogger.